সারাদেশ
নির্বাচনী আমেজে মেহেরপুর পৌরসভা, নগর উন্নয়নে দিচ্ছেন নানা প্রতিশ্রুতি

এয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর থেকেই মেহেরপুর পৌরসভায় আসন্ন পৌর নির্বাচন নিয়ে আলোচনা জমে উঠেছে। শহরের চায়ের দোকান থেকে পাড়া-মহল্লা পর্যন্ত।
দেয়ালে দেয়ালে ইতোমধ্যেই শোভা পাচ্ছে সম্ভাব্য প্রার্থীদের পোস্টার। রাজনৈতিক হিসাব-নিকাশের পাশাপাশি ভোটারদের মুখে এখন উন্নয়ন, নাগরিক সেবা ও জবাবদিহিতার প্রশ্নও গুরুত্ব পাচ্ছে।
মেহেরপুর পৌরসভায় প্রায় অর্ধ লক্ষাধিক নাগরিকের বসবাস। কিন্তু নাগরিকদের অভিযোগ, কাঙ্ক্ষিত সেবার চেয়ে ভোগান্তিই এখানে বেশি দৃশ্যমান।
বছরের পর বছর ধরে বিভিন্ন সমস্যা রয়ে গেলেও তার স্থায়ী সমাধান মিলছে না বলে মনে করছেন সচেতন মহল। নির্বাচন ঘিরে ইতোমধ্যেই কয়েকজন সম্ভাব্য প্রার্থীর নাম আলোচনায় এসেছে। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন সাবেক মেয়র মুতাচ্ছিম বিল্লাহ মতু (স্বতন্ত্র), সোহেল রানা ডলার (বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী), জাহাঙ্গীর বিশ্বাস (বিএনপি)।এছাড়াও আরও কয়েকজনের নাম শোনা গেলেও এখনো আনুষ্ঠানিক প্রচারণায় তেমন সরব দেখা যায়নি।
ভোটারদের একাংশ মনে করছেন, ব্যক্তি ও দলের পরিবর্তন হলেও পৌরসভার কাঠামোগত উন্নয়নে দৃশ্যমান পরিবর্তন খুব একটা আসেনি।
ড্রেনেজ ব্যবস্থার দুর্বলতা, ভাঙাচোরা রাস্তা, অপরিচ্ছন্ন পরিবেশ, ফুটপাত দখল, যানজট, অটোরিকশা ও রিকশার ভারসাম্যহীন চলাচল—এসব সমস্যা দীর্ঘদিন ধরেই নাগরিক দুর্ভোগ বাড়াচ্ছে। সচেতন নাগরিকদের মতে, এবারের নির্বাচন শুধুমাত্র জনপ্রতিনিধি বেছে নেওয়ার নয়; বরং একটি পরিকল্পিত ও নাগরিক বান্ধব পৌরসভা গড়ার সুযোগ।
তাঁরা মনে করেন, নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিকে রাজনৈতিক পরিচয়ের চেয়ে দায়িত্ববোধ, সততা ও উন্নয়ন পরিকল্পনার ভিত্তিতে মূল্যায়ন করা জরুরি। পৌরবাসীর প্রত্যাশা—ভালো রাস্তা, কার্যকর ড্রেনেজ ব্যবস্থা, পরিচ্ছন্ন শহর, বিশুদ্ধ পানি ও স্বাস্থ্যসম্মত স্যানিটেশন নিশ্চিত করা।
পাশাপাশি বেকার যুবকদের জন্য কর্মসংস্থান, ক্ষুদ্রঋণ ও কর্মমুখী প্রকল্প চালু, দালালমুক্ত নাগরিক সেবা, খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক পরিবেশ সৃষ্টি, দুর্যোগকালীন সহায়তা এবং ভাতা কার্যক্রমে স্বচ্ছতা প্রতিষ্ঠার দাবিও জোরালো হচ্ছে।
সুশীল সমাজের অভিমত, যে-ই নির্বাচিত হোন না কেন, নাগরিক আস্থা ও উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করাই হবে আগামী দিনের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। কারণ পৌরবাসী এবার শুধু আশ্বাস নয়, দৃশ্যমান পরিবর্তন দেখতে চায়।






