ক্যাম্পাস
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়
অভিযুক্তকে গ্রেফতারের দাবিতে ৪৮ ঘণ্টার আল্টিমেটাম দিয়ে আন্দোলন স্থগিত

বুধবার রাত সাড়ে এগারোটায় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অফিসের সামনে অবস্থান
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে (জাবি) শিক্ষার্থীকে ধর্ষণচেষ্টা ও হত্যাচেষ্টার ঘটনায় জড়িত অপরাধীকে অবিলম্বে গ্রেপ্তারে ৪৮ ঘণ্টার আল্টিমেটাম দিয়ে আন্দোলন স্থগিত করেছে শিক্ষার্থীরা।
বৃহস্পতিবার (১৪ মে) ভোররাত ৪টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক মোহাম্মদ কামরুল আহসানের কাছে এ দাবিসহ ছয় দাবি উপস্থাপন করেন আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা।
শিক্ষার্থীদের দাবিগুলো হলো- ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার ও দ্রুত বিচার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা; নির্ধারিত সময়ের মধ্যে গ্রেপ্তার না হলে দায় স্বীকার করে প্রক্টর ও প্রক্টরিয়াল বডির পদত্যাগ; হেনস্তা প্রতিরোধে কুইক রেসপন্স টিম গঠন ও জরুরি হটলাইন চালু; ক্যাম্পাসের নিরাপত্তা জোরদার; নারী নিরাপত্তাকর্মী নিয়োগ; এবং শিক্ষার্থীদের জন্য সাইবার সুরক্ষা আইন প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন।
এর আগে, বুধবার রাত সাড়ে ১০টার পর ‘সম্মিলিত নারী শিক্ষার্থী’ ব্যানারে বিভিন্ন পক্ষের শিক্ষার্থীরা সম্মিলিত হয়ে বিক্ষোভে অংশ নেন। মিছিলটি পরবর্তীতে বিশ্ববিদ্যালয়ের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে সাড়ে ১১টায় প্রক্টর অফিসের সামনে অবস্থান নেয়। এসময় কয়েকজন শিক্ষার্থী উপাচার্য ও প্রক্টরের পদত্যাগ দাবি করেন। তবে আরেকটি বড় অংশ অভিযুক্তের দ্রুত গ্রেপ্তার ও বিচারের দাবিতে অবস্থান নেয়। এতে আন্দোলন দুইভাগে বিভক্ত হয়ে পড়ে। এ ঘটনার পর ক্ষোভ প্রকাশ করে বিক্ষোভের স্থান ত্যাগ করতে দেখা যায় সাধারণ শিক্ষার্থীদের। একই সঙ্গে আন্দোলনের মূল উদ্দেশ্য ব্যাহত হয়েছে বলে দাবি করেন তারা।
ফিরে যাওয়া শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের ৫০তম ব্যাচের শিক্ষার্থী আফ্রিদি হাসান বলেন, আমরা সাধারণ শিক্ষার্থীরা স্বতঃস্ফূর্ত ভাবে এসেছি অভিযুক্তের বিচারের দাবিতে। আমরা ভেবেছিলাম আজকের কর্মসূচি থেকে আমরা ক্যাম্পাসের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশাসনের কাছে দাবি জানাবো, প্রশাসনের কাছ থেকে আমরা সেই নিশ্চয়তা নিয়ে ফিরবো। কিন্তু এখানে একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের কিছু শিক্ষার্থী আজকের কর্মসূচিতে ভিসি প্রক্টরের পদত্যাগের দাবি তুলছেন। কিন্তু আমরা কারও পদত্যাগের উদ্দেশ্যে এখানে আসি নাই । আমাদের আজকের কর্মসূচিকে তারা ভিন্নদিকে নিতে চেষ্টা করতেছে এজন্য আমরা চলে যাচ্ছি।
এদিকে, আন্দোলনকে 'হাইজ্যাক' করার অভিযোগ তুলেছে ছাত্রদল। শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক সদস্য অনন্যা ফারিয়া বলেন, “ছাত্রদল, ছাত্রশক্তিসহ সকল রাজনৈতিক দল ও অরাজনৈতিক শিক্ষার্থী নির্বিশেষে সকলে আমাদের বোনের প্রতি ধর্ষণচেষ্টা ও হত্যাচেষ্টার বিচারের দাবিতে একত্র হয়েছিল। কিন্তু পূর্বঘোষণা ছাড়া ছাত্র ইউনিয়নের নেতাকর্মীরা শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা ও বিচার দাবির বিষয়টি বাদ দিয়ে মিছিলকে ভিসি ও প্রক্টরের পদত্যাগ দাবির দিকে নিয়ে গেছে।”
তিনি আরও বলেন, “এই দাবিগুলো নিয়ে আমাদের সঙ্গে কোনো আলোচনা করা হয়নি। আমরা আলোচনা করার চেষ্টা করলে তা প্রত্যাখ্যান করা হয়েছে। আমরা বামপন্থী ডিরেক্টেড এই মিছিলকে প্রত্যাখ্যান করছি। তারা দলীয় এজেন্ডা বাস্তবায়নের মাধ্যমে ক্যাম্পাসকে অস্থিতিশীল করতে চায়।”
এরপর, রাত বারোটায় আন্দোলনকারীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনের সামনে অবস্থান নিয়ে স্লোগান দিতে থাকেন। সেখানে প্রগতিশীল শিক্ষার্থীদের একটি অংশ ভিসি প্রক্টরের পদত্যাগের দাবিতে স্লোগান দিতে থাকেন। "এক দুই তিন চার প্রক্টর তুই গদি ছাড়, ভিসি তুই গদি ছাড়" স্লোগান দিতে দেখা যায় তাদের। একই সঙ্গে, প্রগতিশীল এবং বামপন্থী সংগঠনের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে ছাত্রশক্তি, ছাত্রদল এবং সাধারণ শিক্ষার্থীদের 'ভুয়া', 'ভুয়া' স্লোগান দিতে দেখা যায়।
এরপর রাত দেড়টায় ৩০-৪০ জন নারী শিক্ষার্থী প্রশাসনিক ভবনে অবরুদ্ধ উপাচার্যের নিকট দাবি উপস্থাপন করেন। পরবর্তীতে, দীর্ঘ আলোচনার পর রাত সাড়ে তিনটার দিকে ছয়টি দাবি গ্রহণ করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক মোহাম্মদ কামরুল আহসান। এরপর আন্দোলন স্থগিত করেন সকলে।
আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের একজন নাজিহা নাওয়ার বলেন, 'আমরা উপাচার্য স্যারের কাছে আমাদের দাবিগুলো উত্থাপন করেছি এবং তিনি আমাদের দাবিগুলো গ্রহণ করেছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তারা দাবিগুলো বাস্তবায়ন করতে না পারলে আমরা ক্লাস পরীক্ষা বর্জন করে আরো কঠোর আন্দোলনের ডাক দিবো।
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক মোহাম্মদ কামরুল আহসান বলেন, আমরা শিক্ষার্থীদের দাবিগুলোকে ইতিবাচক হিসেবে নিয়েছি। যে জায়গাগুলোতে অতি দ্রুত সমাধান করা যায়, আমরা ইতিমধ্যে প্রশাসনের উচ্চ মহলে যোগাযোগ করেছি। আশা করছি দুষ্কৃতিকারীদের বিরুদ্ধে দৃঢ় অবস্থান নিতে পারব।




