ক্যাম্পাস

কুবির বিজয়-২৪ হলের প্রাধ্যক্ষের নামফলক খুলে ফেলার ঘটনায় ছাত্রদল কর্মীর সম্পৃক্ততা

কুবি প্রতিনিধি

শেয়ারঃ

কুবির বিজয়-২৪ হলের প্রাধ্যক্ষের নামফলক খুলে ফেলার ঘটনায় ছাত্রদল কর্মীর সম্পৃক্ততা- খবরের থাম্বনেইল ফটো

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে (কুবি) উপাচার্য পরিবর্তনের রাতেই বিজয়-২৪ হলের প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ মাহমুদুল হাসান খান-এর নামফলক খুলে ফেলার অভিযোগ উঠেছে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের এক কর্মীর বিরুদ্ধে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিশ্ববিদ্যালয়জুড়ে আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।


অভিযুক্ত বিএম সুমন প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের ২০১৮–১৯ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী। বিশ্ববিদ্যালয়ে তার স্নাতক পর্যায়ের পড়াশোনা শেষ হলেও তিনি এখনও হলে অবস্থান করছেন বলে জানিয়েছেন হল কর্তৃপক্ষ। জানা গেছে, তিনি বর্তমানে লোকপ্রশাসন বিভাগে দ্বিতীয় মাস্টার্সে অধ্যয়নরত।


সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণে দেখা যায়, বৃহস্পতিবার রাত ৯টা ১৬ মিনিটে তিনি বিজয়-২৪ হলের প্রাধ্যক্ষ কক্ষের সামনে গিয়ে নামফলকটি খুলে ফেলেন। এ সময় তার সঙ্গে লোকপ্রশাসন বিভাগের ২০২০–২১ শিক্ষাবর্ষের আবাসিক শিক্ষার্থী আব্দুল্লাহ আল নোমানকে দেখা যায়। পরে শুক্রবার সকালে ঘটনাস্থল পরিদর্শন ও সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করে বিষয়টি নিশ্চিত হয় প্রশাসন।


অভিযুক্ত বিএম সুমনের সঙ্গে থাকা আব্দুল্লাহ আল নোমান বলেন, “রাতে সুমন ভাই আমাকে একটি বিষয় দেখানোর কথা বলে সঙ্গে নিয়ে গিয়েছিলেন। তিনি নেমপ্লেট খুলবেন, এটি আগে জানতাম না। জানলে সেখানে যেতাম না। নেমপ্লেট খুলে ফেলার পর আমি তাকে বলেছি, এটি ঠিক হয়নি। এরপর আর কী ঘটেছে সে বিষয়ে আমি কিছু জানি না।”


এ ঘটনায় বিজয়-২৪ হলের আবাসিক শিক্ষার্থী বায়েজিদ হোসেন বলেন, “৫ আগস্ট পরবর্তী সময়ে আমরা একটি নতুন ও শৃঙ্খলাপূর্ণ বিশ্ববিদ্যালয় পরিবেশ প্রত্যাশা করেছিলাম। কিন্তু ভিসি পরিবর্তনের ঘোষণার পরপরই প্রভোস্টের নেমপ্লেট খুলে নেওয়ার ঘটনা অত্যন্ত দুঃখজনক ও শৃঙ্খলাবিরোধী। এটি একজন শিক্ষককে অবমাননার শামিল। আমরা প্রশাসনের কাছে দ্রুত বিচার দাবি করছি।”


এ বিষয়ে অভিযুক্ত বিএম সুমনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।


বিজয়-২৪ হলের প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ মাহমুদুল হাসান খান বলেন, “বিষয়টি সম্পর্কে আমি অবগত হয়েছি। সকালে দেখি আমার নামফলক খুলে ফেলা হয়েছে। অভিযুক্ত শিক্ষার্থী বিএম সুমন এটি করেছে বলে জেনেছি। তার সঙ্গে আমার ব্যক্তিগত কোনো বিরোধ নেই। তবে তিনি মাস্টার্স শেষ করায় তাকে একাধিকবার হল ছাড়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। জুনিয়র শিক্ষার্থীদের হলে তোলার প্রক্রিয়া চলমান থাকায় যাদের মাস্টার্স শেষ হয়েছে, তাদের হল ছাড়তে বলা হচ্ছে।”


সম্পর্কিত খবর