ক্যাম্পাস
ইবির বাসে কথা কাটাকাটি থেকে দফায় দফায় সংঘর্ষ, আহত ছয়

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) বাসে কথা কাটাকাটির জেরে সিনিয়র ও জুনিয়র শিক্ষার্থীদের মধ্যে মারধরের ঘটনা ঘটেছে।
রোববার (১৭ এপ্রিল) বিকেল ৪টার দিকে ক্যাম্পাস থেকে ঝিনাইদহগামী ‘মধুমতি’ বাসে এ ঘটনা ঘটে। এর জের ধরে রাত সাড়ে ৮টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকে বায়োটেকনোলজি ও লোকপ্রশাসন বিভাগের শিক্ষার্থীদের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষ ও মারধরের ঘটনা ঘটে। এতে উভয় পক্ষের অন্তত ছয়জন আহত হন।
ঘটনায় জড়িত হিসেবে লোকপ্রশাসন বিভাগের ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের সাইমুন আহমেদ হৃদয়, ব্যবস্থাপনা বিভাগের ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের জিহাদ এবং বায়োটেকনোলজি অ্যান্ড জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষের অন্তর বিশ্বাসের নাম জানা গেছে।
প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, বিকেল ৪টার দিকে ঝিনাইদহগামী বাসে অন্তর বিশ্বাসসহ কয়েকজন শিক্ষার্থী যাচ্ছিলেন। এ সময় বাসের ভেতরে লোকপ্রশাসন বিভাগের ৮–৯ জন শিক্ষার্থী উচ্চস্বরে কথাবার্তা ও গান-বাজনা করছিলেন। এতে বিরক্ত হয়ে অন্তরের পাশের এক শিক্ষার্থী তাদের শান্ত হতে বলেন। এ নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে কথা কাটাকাটি শুরু হয়। এক পর্যায়ে ম্যানেজমেন্ট বিভাগের জিহাদ অন্তর বিশ্বাসের গলা চেপে ধরেন। পরে অন্তর বিশ্বাস ধাক্কা দিলে হৃদয় তাকে এলোপাতাড়ি কিল-ঘুষি মারেন।
পরবর্তীতে বাসটি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকে পৌঁছালে আগে থেকে অবস্থান নেওয়া দুই পক্ষের শিক্ষার্থীদের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। এ সময় বায়োটেকনোলজি বিভাগের শিক্ষার্থীরা হৃদয়কে মারধর করেন বলে জানা যায়। এরপর লোকপ্রশাসন বিভাগের কয়েকজন শিক্ষার্থী পাল্টা হামলা চালান। এতে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ বাধে।
সংঘর্ষ থামাতে গিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর আহত হন। তাকে রক্ষা করতে ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক্স ইঞ্জিনিয়ারিং (ইইই) বিভাগের শিক্ষার্থীরা এগিয়ে এলে তাদের সঙ্গে বায়োটেকনোলজি বিভাগের শিক্ষার্থীদের বাগবিতণ্ডা ও হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। পরে লোকপ্রশাসন বিভাগের কিছু শিক্ষার্থী ফলিত বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি অনুষদের জানালা ভাঙচুর করেছেন বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে।
বায়োটেকনোলজি বিভাগের শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, লোকপ্রশাসন বিভাগের ৭–৮ জন শিক্ষার্থী মিলে অন্তর বিশ্বাসকে চড়-থাপ্পড় মারেন এবং জিহাদ তার গলা চেপে ধরেন। পরে তারা প্রধান ফটকে গিয়ে সহপাঠীদের রক্ষায় গেলে তামিম ও জিহাদের নেতৃত্বে তাদের ওপর হামলা চালানো হয়। এ সময় ইইই বিভাগের কিছু শিক্ষার্থীও হামলায় যুক্ত হন বলে দাবি করেন তারা। ঘটনায় বায়োটেকনোলজি বিভাগের নাফিজ আনাম, সাগর গোঁড়ামি, আবির ও মুমিনসহ কয়েকজন আহত হন। তারা আরও অভিযোগ করেন, লোকপ্রশাসন বিভাগের শিক্ষার্থীরা হুমকি দিয়ে বলেন, “তোরা চিনিস আমরা কে? ভিসি কোন বিভাগের জানিস? ভিসি আমার চাচা, তুই চিনিস আমি কে?”
অন্যদিকে, লোকপ্রশাসন বিভাগের শিক্ষার্থীরা এ বিষয়ে একাধিকবার মন্তব্য করতে রাজি হননি।
ইইই বিভাগের শিক্ষার্থীরা জানান, তারা ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন না এবং কী ঘটেছে তা তারা জানেন না।
এ বিষয়ে প্রক্টর অধ্যাপক ড. শাহীনুজ্জামান বলেন, বিষয়টি সমাধানের জন্য উভয় বিভাগের শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের নিয়ে আলোচনা করা হচ্ছে। তিনি আরও জানান, ইইই বিভাগের শিক্ষার্থীরা প্রধান ফটকে উপস্থিত ছিলেন না।








