ক্যাম্পাস

সবজিতে বিষ শনাক্তে শেকৃবির নতুন প্রযুক্তি: খরচ কমবে অন্তত ৪০ গুণ

শেকৃবি প্রতিনিধি

শেয়ারঃ

সবজিতে বিষ শনাক্তে শেকৃবির নতুন প্রযুক্তি: খরচ কমবে অন্তত ৪০ গুণ- খবরের থাম্বনেইল ফটো

সবজিতে বিষাক্ত কীটনাশকের উপস্থিতি শনাক্ত করতে এবার স্বল্প খরচে ও দ্রুত কার্যকর একটি নতুন পদ্ধতি উদ্ভাবন করেছেন শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শেকৃবি) গবেষকেরা।


নতুন এ প্রযুক্তির মাধ্যমে মাত্র ২০০ থেকে ২৫০ টাকায় এবং এক ঘণ্টারও কম সময়ে নির্ণয় করা যাবে কোনো সবজি বা পানিতে ক্ষতিকর কীটনাশক রয়েছে কি না।


গবেষকদের দাবি, বর্তমানে প্রচলিত পরীক্ষাপদ্ধতির তুলনায় এতে খরচ কমবে প্রায় ৪০ গুণ, যা নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিতকরণে বড় ভূমিকা রাখতে পারে।


রোববার(১১ই মে) শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের কনফারেন্স কক্ষে গবেষণাটির চূড়ান্ত প্রতিবেদন উপস্থাপন করা হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় রিসার্চ সিস্টেমের (সাউরেস) অর্থায়নে গবেষণাটি পরিচালনা করেন কৃষি রসায়ন বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মো. আব্দুল কাইউম।


গবেষকেরা জানান, উদ্ভাবিত পদ্ধতিটি ‘অ্যাসিটাইলকোলিনস্টেরেজ’ (AChE) নামক একটি এনজাইমের কার্যকারিতার ওপর ভিত্তি করে তৈরি। এটি মূলত একটি ‘কালোরিমেট্রিক’ বা বর্ণভিত্তিক পদ্ধতি, যেখানে কীটনাশকের উপস্থিতি অনুযায়ী নমুনার রঙ পরিবর্তিত হয়।


পরীক্ষায় যদি দেখা যায় এনজাইমের কার্যকারিতা ৫০ শতাংশের বেশি বাধাগ্রস্ত হয়েছে, তবে তা জনস্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ মাত্রায় কীটনাশকের উপস্থিতি নির্দেশ করে।


গবেষণায় দেখা গেছে, প্রচলিত GC-MS বা LC-MS পদ্ধতিতে প্রতি নমুনা পরীক্ষায় যেখানে ৬ থেকে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত খরচ হয়, সেখানে নতুন এই পদ্ধতিতে খরচ হবে মাত্র ২০০ থেকে ২৫০ টাকা।


একই সঙ্গে পরীক্ষার ফল পাওয়া যাবে মাত্র ৪০ থেকে ৬০ মিনিটের মধ্যে। গবেষকদের দাবি, ল্যাবরেটরি পরীক্ষায় এ পদ্ধতির নির্ভুলতার মাত্রা অত্যন্ত উচ্চমানের (R² = 0.997) হিসেবে প্রমাণিত হয়েছে।


গবেষণা প্রকল্পের প্রধান গবেষক অধ্যাপক ড. মো. আব্দুল কাইউম জানান, টমেটো, বেগুন, পালং শাক, করলা, শসা ও বাঁধাকপিসহ বিভিন্ন সবজি এবং সেচ ও পুকুরের পানির নমুনায় সফলভাবে এই পদ্ধতি প্রয়োগ করা হয়েছে।


তিনি বলেন, “বর্তমানে প্রচলিত পরীক্ষাপদ্ধতিগুলো ব্যয়বহুল হওয়ায় সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে। আমাদের উদ্ভাবিত পদ্ধতিটি সহজে বহনযোগ্য। ভবিষ্যতে এটিকে ‘র্যাপিড ডিটেকশন কিট’ (RDK) এবং কাগজভিত্তিক স্ট্রিপে রূপান্তরের কাজ চলছে, যাতে কৃষক কিংবা সাধারণ মানুষ নিজেরাই খাদ্যের নিরাপত্তা যাচাই করতে পারেন।”


সাউরেস পরিচালক অধ্যাপক ড. এফ এম আমিনুজ্জামান বলেন, “অর্গানোফসফরাস জাতীয় কীটনাশক মানুষের স্নায়ুতন্ত্র, লিভার ও কিডনির জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর। মাঠপর্যায়ে এই পদ্ধতির মাধ্যমে নিয়মিত নজরদারি চালানো গেলে নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিতকরণ আরও কার্যকর হবে।”


বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আব্দুল লতিফ এ উদ্ভাবনকে সময়োপযোগী ও যুগান্তকারী উল্লেখ করে বলেন, “মাঠপর্যায়ে এই প্রযুক্তির সফল প্রয়োগ শুধু নিরাপদ খাদ্যব্যবস্থা নিশ্চিত করবে না, বরং সরকারি পর্যায়ে কার্যকর কীটনাশক নীতিমালা প্রণয়নেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।”


সম্পর্কিত খবর