ক্যাম্পাস

নেচার ইনডেক্সে কুবির অবস্থান ২৭তম

কুবি প্রতিনিধি

শেয়ারঃ

নেচার ইনডেক্সে কুবির অবস্থান ২৭তম- খবরের থাম্বনেইল ফটো

বিশ্বখ্যাত স্প্রিঞ্জার নেচারের ‘নেচার ইনডেক্স’-এর হালনাগাদ র‌্যাংকিংয়ে স্থান পেয়েছে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় (কুবি)। দেশের সরকারি ও বেসরকারি ২৭টি বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে এবার বিশ্ববিদ্যালয়টির অবস্থান ২৭তম। দুটি গবেষণাপত্র প্রকাশের মাধ্যমে ০.০৮ শেয়ার স্কোর অর্জন করে এ অবস্থান অর্জন করে কুবি। তবে গত বছর বিশ্ববিদ্যালয়টির অবস্থান ছিল ২২তম, ফলে এবার পাঁচ ধাপ পিছিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।


গত বছরের ১ ফেব্রুয়ারি থেকে চলতি বছরের ৩১ জানুয়ারি পর্যন্ত বিশ্বজুড়ে প্রকাশিত উচ্চমানের পিওর সায়েন্স ও মেডিকেল জার্নালে প্রকাশিত গবেষণাপত্র এবং সংশ্লিষ্ট গবেষকদের অবদানের ভিত্তিতে এ সূচক প্রকাশ করা হয়।


নেচার ইনডেক্সের নিয়ম অনুযায়ী, কোনো গবেষণাপত্রে একাধিক দেশি বা বিদেশি প্রতিষ্ঠান বা গবেষক যুক্ত থাকলে গবেষণার মোট অবদান ভগ্নাংশ আকারে ভাগ করা হয়। এই অংশকেই ‘শেয়ার স্কোর’ বলা হয়। মূলত এই শেয়ার স্কোরের ভিত্তিতেই চূড়ান্ত র‌্যাংকিং নির্ধারণ করা হয়।


সর্বশেষ তালিকায় দেশের সরকারি ও বেসরকারি ২৭টি বিশ্ববিদ্যালয়ের পাশাপাশি দুটি মেডিকেল কলেজ এবং জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত তেজগাঁও কলেজও স্থান পেয়েছে। র‌্যাংকিং অনুযায়ী, ৩৭টি গবেষণাপত্র ও ৬.৩৯ শেয়ার স্কোর নিয়ে দেশের শীর্ষ গবেষণা প্রতিষ্ঠান হিসেবে রয়েছে আন্তর্জাতিক উদরাময় গবেষণা কেন্দ্র, বাংলাদেশ (আইসিডিডিআর,বি)।


একাডেমিক প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ১৪টি গবেষণাপত্র ও ১.০৬ শেয়ার স্কোর নিয়ে শীর্ষে রয়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়। তালিকায় আরও রয়েছে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট), জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়, রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়, জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়, মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়, বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়, শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়, যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় এবং খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (কুয়েট)।


কুবির আইন বিভাগের শিক্ষার্থী দিলোয়ার হোসেন বলেন, “কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের নেচার ইনডেক্সে অবস্থান পিছিয়ে যাওয়ার অন্যতম কারণ গবেষণার ধারাবাহিকতা ও মান ধরে রাখতে না পারা। শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের আরও গবেষণামুখী করতে উৎসাহ দেওয়া প্রয়োজন। গবেষণার সংখ্যা ও মানের ভিত্তিতে আলাদা অর্থ পুরস্কার ও সম্মাননা চালু করলে ইতিবাচক প্রতিযোগিতা তৈরি হবে। পাশাপাশি প্রতিটি বিভাগে গবেষণা খাতে বরাদ্দ বৃদ্ধি এবং মাস্টার্স শিক্ষার্থীদের গবেষণায় সম্পৃক্ত করা হলে বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণা পরিবেশ আরও শক্তিশালী হবে।”


গবেষণা ও সম্প্রসারণ দপ্তরের পরিচালক অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ বেলাল উদ্দিন বলেন, “মূলত বিজ্ঞান, পদার্থবিজ্ঞান, রসায়ন ও পরিবেশবিষয়ক গবেষণার ভিত্তিতে এ র‌্যাংকিং প্রকাশ করা হয়েছে। কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের ২৭তম অবস্থান পাওয়া অবশ্যই একটি ইতিবাচক দিক। ভবিষ্যতে এসব খাতে গবেষণার সংখ্যা ও মানসম্মত জার্নালে প্রকাশনা বাড়লে অবস্থান আরও উন্নত হবে বলে আশা করছি।”


তিনি আরও বলেন, “শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের গবেষণায় সম্পৃক্ততার মাধ্যমে গবেষণা তহবিলকে সর্বোচ্চ কার্যকরভাবে ব্যবহার করার চেষ্টা চলছে। বর্তমানে ১১ জন শিক্ষক পিএইচডি অধ্যয়নরত আছেন। ফলে গবেষণার পরিমাণ ও মান আরও বাড়বে এবং ভবিষ্যতে বিশ্ববিদ্যালয়ের র‌্যাংকিংয়েও ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে বলে আমরা আশা করি।”


উপাচার্য অধ্যাপক ড. এম এম শরীফুল করীম বলেন, “এই সাফল্য বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য অত্যন্ত ইতিবাচক। এটি প্রমাণ করে যে গত ২০ বছরে বিশ্ববিদ্যালয় যে ধারাবাহিক একাডেমিক ও গবেষণামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করেছে, তারই প্রতিফলন এটি। তবে আমাদের লক্ষ্য এখানেই থেমে থাকা নয়, বরং আরও এগিয়ে যাওয়া। ভবিষ্যতে বিশ্ববিদ্যালয়কে আরও সমৃদ্ধ ও উচ্চতর অবস্থানে নিতে শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও সংশ্লিষ্ট সবার সহযোগিতা প্রয়োজন।”


সম্পর্কিত খবর