ক্যাম্পাস

চবিতে চাকসুর ব্যতিক্রমী ঈদ আয়োজন, ভোজের সঙ্গে হাড়ি ভাঙা ও ফটোসেশন

চবি প্রতিনিধি

শেয়ারঃ

চবিতে চাকসুর ব্যতিক্রমী ঈদ আয়োজন, ভোজের সঙ্গে হাড়ি ভাঙা ও ফটোসেশন- খবরের থাম্বনেইল ফটো

ঈদে বাড়ি না ফেরা চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) শিক্ষার্থীদের নিয়ে ব্যতিক্রমী কুরবানি উৎসবের আয়োজন করেছে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (চাকসু)। কুরবানির ভোজের পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের জন্য হাড়ি ভাঙা খেলা, ফটোসেশন ও আড্ডার ব্যবস্থা রাখা হয়।


শুক্রবার (২৯ মে) ঈদের দ্বিতীয় দিন চাকসু ভবনে এ আয়োজন করা হয়। এতে প্রায় ৭০০ শিক্ষার্থী অংশ নেন।


আয়োজনে মুসলিম ও অমুসলিম শিক্ষার্থীদের জন্য আলাদা খাবারের ব্যবস্থা রাখা হয়। চাকসুর নিচতলার ক্যাফেটেরিয়ায় গরুর মাংস পরিবেশন করা হয়। দ্বিতীয় তলার ছেলেদের কমনরুমে অমুসলিম শিক্ষার্থীদের জন্য খাসির মাংসের ব্যবস্থা করা হয়। এছাড়া নারী শিক্ষার্থীদের জন্য চাকসুর দ্বিতীয় তলার মেয়েদের কমনরুমে আলাদা আয়োজন রাখা হয়।


খাবারের পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে হাড়ি ভাঙা খেলা ও ফটোসেশনের আয়োজন করা হয়। এছাড়া চাকসু ভবনের সামনে শিক্ষার্থীদের আড্ডার ব্যবস্থাও রাখা হয়।


অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আল ফুরকান, ইনস্টিটিউট অব মেরিন সায়েন্সেসের অধ্যাপক ড. মো. শফিকুল ইসলাম এবং ওশানোগ্রাফি বিভাগের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ মোসলেম উদ্দিন।


চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আল ফুরকান বলেন, “চাকসুকে এমন উদ্যোগ আয়োজনের জন্য চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় পরিবার ও আমার পক্ষ থেকে ধন্যবাদ জানাচ্ছি। ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে শিক্ষার্থীদের জন্য তারা যে সুন্দর আয়োজন করেছে, তা অত্যন্ত প্রশংসনীয়।”


তিনি আরও বলেন, “আমরা চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে একটি শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান ও সহমর্মিতাপূর্ণ ক্যাম্পাস প্রতিষ্ঠার দিকে এগিয়ে যাচ্ছি। চাকসুর নেতৃবৃন্দসহ সব শিক্ষার্থী এ উদ্যোগে সামিল হবেন বলে আশা করছি।”


চাকসু ভিপি ইব্রাহীম হোসেন রনি বলেন, “আমরা ৭০০ শিক্ষার্থী ভাইবোনের জন্য খাবারের আয়োজন করেছিলাম। পাশাপাশি অন্যান্য ধর্মাবলম্বী ভাইবোনদের জন্যও আলাদা আয়োজন রাখা হয়েছিল। আলহামদুলিল্লাহ, আমাদের শিক্ষার্থী ভাইবোনেরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণ করে একসঙ্গে খাওয়া-দাওয়া করেছেন, আনন্দ করেছেন। অত্যন্ত চমৎকার আয়োজনের মধ্য দিয়ে আমরা আজকের দিনটি উদযাপন করেছি। যারা আমাদের আয়োজনে আন্তরিকভাবে সহযোগিতা করেছেন, তাদের সবাইকে ধন্যবাদ জানাচ্ছি।”


চাকসু জিএস সাঈদ বিন হাবিব বলেন, “ঈদে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের অসংখ্য শিক্ষার্থী পরীক্ষা, বাড়ির দূরত্বসহ নানা কারণে ক্যাম্পাসে থেকে যায়। আমরা চাকসু নেতৃবৃন্দ চেয়েছিলাম শিক্ষার্থী ভাইবোনদের সঙ্গে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করতে। যেন তারা চাকসুর পক্ষ থেকে অন্তত একবেলা একসঙ্গে আহার করতে পারে, সেজন্যই আমাদের এই আয়োজন। ঈদের দিনও একজন শিক্ষার্থী খাবারের আয়োজন রেখেছেন, আজ রাতেও খাবারের ব্যবস্থা রয়েছে। আমরা চাই রাজনীতি, ধর্ম ও বর্ণ নির্বিশেষে সবাই একসঙ্গে ক্যাম্পাসে শিক্ষার্থীদের কল্যাণে কাজ করুক। এমন সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশ বজায় থাকুক, সম্প্রীতির বার্তা সবার মাঝে ছড়িয়ে পড়ুক এবং ঈদ হয়ে উঠুক সার্বজনীন উৎসব।”


সম্পর্কিত খবর