ক্যাম্পাস
উদ্বোধনের আগেই ফাটল ধরেছে রাবির ১০ তলা হলে; আতংকে শিক্ষার্থীরা

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) শেরে বাংলা ফজলুল হক হল ও মন্নুজান হলকে ঝুঁকিপূর্ণ ঘোষণা করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। এর পরিপ্রেক্ষিতে শেরেবাংলা হলের কিছু শিক্ষার্থীকে নির্মাণাধীন ১০ তলা আবাসিক ভবনে স্থানান্তর করা হয়েছে।
তবে উদ্বোধনের আগেই নির্মাণাধীন এই ভবনের বিভিন্ন দেয়াল ও পিলারে ফাটল দেখা গেছে। এতে সেখানে অবস্থানরত আবাসিক শিক্ষার্থীদের মধ্যে আতঙ্ক ও উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে।
ভবনটির নির্মাণমান ও নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন অনেকেই। এর আগে ২০২৪ সালের ৩০ জানুয়ারি নির্মাণাধীন হলটির মিলনায়তনের ছাদ ঢালাইয়ের সময় ধসে পড়ে। ওই ঘটনায় অন্তত ৯ জন আহত হন।
বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিকল্পনা ও উন্নয়ন দপ্তর সূত্রে জানা গেছে, নির্মাণাধীন ১০ তলা আবাসিক হল এবং ২০ তলাবিশিষ্ট একাডেমিক ভবনের নির্মাণকাজ করেছে রূপপুরের ‘বালিশ-কাণ্ডে’ আলোচিত ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ‘মজিদ সন্স কনস্ট্রাকশন লিমিটেড’। এর মধ্যে ৭০ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত হচ্ছে ১০ তলা আবাসিক হল এবং ১৫৩ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত হচ্ছে ২০ তলাবিশিষ্ট বিজ্ঞান ভবন।
তবে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ভবন দুটির নির্মাণকাজ সম্পন্ন করতে পারেনি প্রতিষ্ঠানটি। নির্মাণাধীন এ দুই ভবনে কাজ করতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে দুই শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে। এছাড়া ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের মালামালবাহী ট্রাকের চাপায় হিমেল নামে এক শিক্ষার্থীর মৃত্যুর ঘটনাও ঘটে। এর আগেও বিভিন্ন সময়ে প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে নানা অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনার অভিযোগ উঠেছে।
জানা গেছে, পূর্ববর্তী বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন হলটির নাম নির্ধারণ করেছিল ‘শহীদ এএইচএম কামরুজ্জামান হল’। তবে জুলাই আন্দোলনের পর শিক্ষার্থীদের দাবির মুখে এটি ‘সাকিব-রায়হান হল’ নামে পরিচিতি পেতে শুরু করে। পরবর্তীতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন হলটির চূড়ান্ত নাম ঘোষণা করে ‘বিজয় ৭১ হল’।
প্রায় ২৪ হাজার বর্গমিটার আয়তনের এই আবাসিক হলে প্রায় ১ হাজার ১০০ শিক্ষার্থীর আবাসনের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। হলটিতে রয়েছে চারটি আধুনিক লিফট, একটি বৃহৎ মসজিদ এবং প্রায় ৩০০ আসনবিশিষ্ট আধুনিক অডিটোরিয়াম। এছাড়া শিক্ষার্থীদের জন্য দ্বিতীয় তলায় থাকছে সমৃদ্ধ লাইব্রেরি, ইনডোর গেমস রুম, জিমনেসিয়াম ও রিডিং রুম। নিচতলায় রাখা হয়েছে গ্রিন জোন এবং স্থায়ী দোকানের ব্যবস্থা।
এদিকে প্রায় ৭৪ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত আধুনিক এই আবাসিক হলটি গত বছরের ডিসেম্বর মাসেই শিক্ষার্থীদের জন্য উন্মুক্ত করার কথা জানিয়েছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিকল্পনা ও উন্নয়ন দপ্তরের পরিচালক এস. এম. ওবায়দুল ইসলাম। তবে ২০২১ সালের সেপ্টেম্বর মাসে নির্মাণকাজ শুরু হওয়া হলটির সময়সীমা একাধিকবার বাড়ানো হলেও পাঁচ বছরেও তা পুরোপুরি চালু করা সম্ভব হয়নি। এর মধ্যেই ভবনের বিভিন্ন স্থানে ফাটল দেখা দেওয়ায় নতুন করে নিরাপত্তা শঙ্কা তৈরি হয়েছে।
উল্লেখ্য, ২০২২ সালের ২ জানুয়ারি ১০ তলা হলের সামনে ফলক উন্মোচনের মাধ্যমে ভবনটির নির্মাণকাজের উদ্বোধন করেন রাজশাহী সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটন। এর আগে ২০১৮ সালের ২৯ সেপ্টেম্বর হলটির ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন সাবেক রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ।







