জাতীয়
সংবিধান সংশোধন ছেলেখেলায় পরিণত: আলী রীয়াজ

প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী অধ্যাপক আলী রীয়াজ বলেছেন, বাংলাদেশের সংবিধান সংশোধনকে রাজনৈতিকভাবে ছেলেখেলায় পরিণত করা হয়েছে। তিনি বলেন, “১৯৭৫ সালে চতুর্থ সংশোধনী মাত্র ১৭ মিনিটে পাস হয়েছিল, কোনো কমিটিতে যাওয়া হয়নি। এ ধরনের প্রক্রিয়া সংবিধানের মূল নীতির পরিপন্থী।”
আজ সোমবার রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট ভবনে আয়োজিত ‘গণভোট ২০২৬ বিষয়ে জনসচেতনতামূলক প্রচার-প্রচারণা’ শীর্ষক সভায় প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি আরও বলেন, সংবিধান সংশোধনে বিস্তৃত ঐকমত্য নিশ্চিত করতে উচ্চকক্ষ গঠনের প্রয়োজন। এতে ভোটের গুরুত্ব বৃদ্ধি পাবে।
আলী রীয়াজ গণভোটে তরুণদের ‘হ্যাঁ’ ভোটে অংশগ্রহণের আহ্বান জানিয়ে বলেন, “জুলাই জাতীয় সনদ কেবল একটি দলিল নয়, বাংলাদেশের ভবিষ্যতের পথরেখা। যারা রক্ত দিয়েছে, যারা ১৬ বছর ধরে ফ্যাসিবাদী শাসনের বিরুদ্ধে লড়াই করেছে, তাদের ত্যাগের জন্য আমাদের দায়িত্ব রয়েছে।”
তিনি বলেন, “বাংলাদেশকে প্রকৃত অর্থে জবাবদিহিমূলক রাষ্ট্র হিসেবে গড়তে হলে শুধু সরকার নয়, নাগরিকদের সক্রিয় ভূমিকা প্রয়োজন। ‘হ্যাঁ’ ভোট আমাদের সেই সুযোগ দিচ্ছে।”
জরুরি অবস্থা প্রসঙ্গে আলী রীয়াজ বলেন, “বর্তমান সংবিধানে জরুরি অবস্থায় মানুষের বেঁচে থাকার অধিকার পর্যন্ত স্থগিত করা যেতে পারে। কিন্তু জুলাই জাতীয় সনদ বলছে, ‘রাইট টু লাইফ’ কখনো স্থগিত করা যাবে না এবং বিরোধী দলের অংশগ্রহণ বাধ্যতামূলক।”
সভায় বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের সদস্য আনোয়ার হোসেন ও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক সালেহ্ হাসান নকীব বক্তব্য দেন। তারা বললেন, গণভোটে অংশগ্রহণ দেশের ভবিষ্যতের জন্য একটি দায়িত্ব ও রক্তের ঋণ পরিপূরণের সুযোগ।








