আন্তর্জাতিক
ফিলিপাইনে শক্তিশালী ভূমিকম্পে হতাহত ৫, সুনামি সতর্কতা জারি

ছবি : বাসস
ফিলিপাইনের দক্ষিণাঞ্চলে ৭ দশমিক ৮ তীব্রতার এক শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে।
এতে অন্তত এক ব্যক্তি নিহত এবং চারজন আহত হয়েছেন। ভূমিকম্পে বেশ কয়েকটি ভবন ধসে পড়েছে এবং পুরো অঞ্চলে সুনামি সতর্কতা জারি করা হয়েছে।
খবর বার্তা সংস্থা এএফপি’র।
যুক্তরাষ্ট্রের ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা (ইউএসজিএস) জানিয়েছে, মিন্দানাও দ্বীপের সারাঙ্গানি প্রদেশের পশ্চিমে প্রায় ২৪ কিলোমিটার দূরে সমুদ্রে ভূমিকম্পটি আজ আঘাত হানে। এরপর ফিলিপাইন ও ইন্দোনেশিয়ার কর্তৃপক্ষ ক্ষতিগ্রস্ত উপকূলীয় এলাকার বাসিন্দাদের অবিলম্বে উঁচু ও নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছে।
জেনারেল সান্তোস সিটি পুলিশের মাস্টার সার্জেন্ট রবার্ট ডাগন এএফপিকে জানান, এখন পর্যন্ত একজনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে এবং চারজন আহত হয়েছেন। তিনি বলেন, এটি প্রাথমিক তথ্য। হতাহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে।
তিনি আরও বলেন, ‘অনেক ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং কয়েকটি ভবন ধসে পড়েছে। বর্তমানে উদ্ধারকাজ চলছে, তাই ক্ষতিগ্রস্ত ভবনের সঠিক সংখ্যা জানানো এখনই সম্ভব নয়।’
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে প্রকাশিত এবং এএফপি কর্তৃক যাচাইকৃত ভিডিওতে দেখা গেছে, জেনারেল সান্তোস শহরের একটি শপিং সেন্টার সম্পূর্ণ ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। সেখানে জনপ্রিয় ফাস্টফুড চেইন ‘জলিবি’র একটি শাখাও ছিল। এছাড়া একটি খালি স্কুল ভবনও ধসে পড়েছে।
ভিডিওতে এক ব্যক্তিকে চিৎকার করে বলতে শোনা যায়, ‘হে ঈশ্বর! ভবনটি ধসে পড়েছে... পুরো ভবনটাই ধসে পড়েছে!।’
প্যাসিফিক সুনামি সতর্কতা কেন্দ্র এক বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, আগামী তিন ঘণ্টার মধ্যে ফিলিপাইন, ইন্দোনেশিয়া, পালাউ, তাইওয়ান ও পাপুয়া নিউগিনির উপকূলীয় এলাকায় সুনামি আঘাত হানার আশঙ্কা রয়েছে।
ইউএসজিএসের তথ্য অনুযায়ী জানা গেছে, প্রথম ভূমিকম্পের প্রায় দুই ঘণ্টা পর ওই এলাকায় ৬ দশমিক ১ মাত্রার একটি শক্তিশালী আফটারশক বা কম্পন অনুভূত হয়।
ফিলিপাইনের প্রেসিডেন্ট ফার্দিনান্দ মার্কোস ক্ষতিগ্রস্ত মিন্দানাও অঞ্চলের বিভিন্ন এলাকায় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ ঘোষণা করেছেন। পাশাপাশি উপকূলীয় এলাকার বাসিন্দাদের দ্রুত নিরাপদ ও উঁচু স্থানে সরে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন।
তিনি বলেন, ‘এখনই উঁচু স্থানে চলে যান। অপেক্ষা করবেন না। আপনার জীবনের চেয়ে মূল্যবান আর কিছু নেই।’
দেশটির জাতীয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সংস্থা জানিয়েছে, ক্ষয়ক্ষতির তথ্য এখনও যাচাই করা হচ্ছে।
অন্যদিকে ইন্দোনেশিয়ার জাতীয় দুর্যোগ সংস্থা উত্তর সুলাওয়েসির রাজধানী মানাদো, উত্তর গোরোন্তালো প্রদেশ এবং সাংগিহে দ্বীপপুঞ্জের স্থানীয় কর্তৃপক্ষকে বাসিন্দাদের দ্রুত নিরাপদ উঁচু স্থানে সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে।
জাপানও তাদের প্রশান্ত মহাসাগরীয় উপকূলের বিস্তীর্ণ এলাকায় সুনামি সতর্কতা জারি করেছে। দেশটির আবহাওয়া কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, স্থানীয় সময় সকাল সাড়ে ১১টার দিকে বিভিন্ন উপকূলে এক মিটার পর্যন্ত উচ্চতার ঢেউ আঘাত হানতে পারে।
মিন্দানাওয়ের দাভাও সিটির দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, তারা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছেন এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিয়মিত তথ্য প্রকাশ করবেন।
ফিলিপাইন পৃথিবীর অন্যতম ভূমিকম্পপ্রবণ দেশ। দেশটি প্রশান্ত মহাসাগরীয় ‘রিং অব ফায়ার’ অঞ্চলে অবস্থিত, যেখানে ভূমিকম্প ও আগ্নেয়গিরির কার্যক্রম প্রায়ই ঘটে থাকে।
গত অক্টোবরেও পূর্ব মিন্দানাও অঞ্চলে ৭.৪ ও ৬.৭ তীব্রতার দুটি শক্তিশালী ভূমিকম্পে অন্তত আটজন নিহত হন।
সরকারি তথ্যমতে, এর কয়েকদিন আগেই ফিলিপাইনের মধ্যাঞ্চলীয় সেবু প্রদেশে ৬.৯ তীব্রতার আরেকটি ভূমিকম্পে ৭৬ জন নিহত হন এবং প্রায় ৭২ হাজার ভবন ধ্বংস বা ক্ষতিগ্রস্ত হয়।







