সারাদেশ
বগুড়ায় ৬ বছরের শিশুর বস্তাবন্দি মরদেহ উদ্ধার, প্রতিবেশী দম্পতি আটক

বগুড়ার আদমদীঘি উপজেলার সান্তাহার পৌর শহরে ছয় বছর বয়সী এক শিশুর বস্তাবন্দি মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। কানে থাকা স্বর্ণের দুল ছিনিয়ে নেওয়ার উদ্দেশ্যে শিশুটিকে শ্বাসরোধে হত্যার অভিযোগ উঠেছে প্রতিবেশী এক দম্পতির বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় তিনজনকে আটক করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১১ জুন) রাতে সান্তাহার পৌর শহরের সাহেবপাড়া মহল্লার একটি বাড়ি থেকে শিশু রাখা মনির মরদেহ উদ্ধার করা হয়। ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়লে বিক্ষুব্ধ জনতা অভিযুক্তদের মারধর করে এবং তাদের বাড়িতে ভাঙচুর চালায়।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সাহেবপাড়া এলাকার অটোভ্যান গ্যারেজকর্মী আবু রায়হানের মেয়ে রাখা মনি তার দাদীর কাছে থাকত। সে স্থানীয় একটি নূরানী মাদরাসার নার্সারি শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল। বৃহস্পতিবার বিকেলে প্রাইভেট পড়তে যাওয়ার উদ্দেশ্যে বাড়ি থেকে বের হওয়ার পর সে নিখোঁজ হয়।
পরিবারের সদস্যরা দীর্ঘ সময় খোঁজাখুঁজির একপর্যায়ে প্রতিবেশী আমজাদের বাড়ির একটি প্লাস্টিকের বস্তার ভেতরে শিশুটির মরদেহ দেখতে পান। পরে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে।
প্রাথমিক তদন্তে পুলিশ জানতে পেরেছে, শিশুটির কানে থাকা স্বর্ণের দুলের লোভে তাকে বাড়িতে ডেকে নেওয়া হয়। এরপর গলায় ফাঁস দিয়ে হত্যা করে মরদেহ বস্তাবন্দি করে লুকিয়ে রাখা হয়।
এ ঘটনায় সাহেবপাড়া এলাকার আমজাদ, তার স্ত্রী বন্যা এবং প্রতিবেশী বাবুকে আটক করেছে পুলিশ। এছাড়া জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আরও এক নারীকে থানায় নেওয়া হয়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, আমজাদ দীর্ঘদিন ধরে মাদক ব্যবসা ও মাদকসেবনের সঙ্গে জড়িত। তবে বিষয়টি তদন্তাধীন বলে জানিয়েছে পুলিশ।
সান্তাহার পুলিশ ফাঁড়ির পরিদর্শক খন্দকার ফরিদ হোসেন বলেন, “শিশুটির মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।
হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত সন্দেহে কয়েকজনকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। ঘটনার প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটন এবং প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা গ্রহণে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।”
ঘটনার পর এলাকায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।







