মতামত
ইসলামী ব্যাংক: গ্রাহকদের আস্থা এখনই ফিরিয়ে আনতে হবে

বাংলাদেশের ব্যাংকিং খাতে ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসি একটি গুরুত্বপূর্ণ ও ঐতিহ্যবাহী প্রতিষ্ঠান। দেশের বৃহত্তম শরিয়াহভিত্তিক ব্যাংক হিসেবে এটি দীর্ঘদিন ধরে কোটি গ্রাহকের আস্থা অর্জন করেছে। তবে গত কয়েক বছরে মালিকানা, সুশাসন, ঋণ ব্যবস্থাপনা ও তারল্য সংকটকে কেন্দ্র করে ব্যাংকটি নানা বিতর্কের মুখোমুখি হয়েছে।
সাম্প্রতিক সময়ে চেয়ারম্যান নিয়োগকে ঘিরে গ্রাহকদের একটি অংশের প্রতিবাদ এবং স্বল্প সময়ে উল্লেখযোগ্য অঙ্কের আমানত প্রত্যাহারের ঘটনা নতুন করে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।
ব্যাংকিং খাতের মূল ভিত্তি হলো গ্রাহকের আস্থা। একটি ব্যাংকের আর্থিক শক্তি যতই বড় হোক না কেন, গ্রাহকের আস্থায় চিড় ধরলে তার প্রভাব দ্রুত পুরো প্রতিষ্ঠানে ছড়িয়ে পড়ে। সাম্প্রতিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, কয়েক দিনের মধ্যে ইসলামী ব্যাংকের আমানত উল্লেখযোগ্য পরিমাণে কমেছে, যা পরিস্থিতির গুরুত্বকে স্পষ্ট করে তোলে।
তবে সংকটের মধ্যেও ইতিবাচক দিক রয়েছে। ব্যাংকটির তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে আমানত ও রেমিট্যান্স সংগ্রহে উল্লেখযোগ্য প্রবৃদ্ধি অর্জিত হয়েছে এবং প্রতিষ্ঠানটি এখনও দেশের অন্যতম বৃহৎ ব্যাংক হিসেবে কার্যক্রম পরিচালনা করছে।
এ অবস্থায় প্রয়োজন দোষারোপের রাজনীতি নয়, বরং কার্যকর সংস্কার। প্রথমত, ব্যাংকের পরিচালনা ও মালিকানায় পূর্ণ স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে হবে। দ্বিতীয়ত, খেলাপি ঋণ ও অনিয়মের অভিযোগগুলো নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে দায়ীদের জবাবদিহির আওতায় আনতে হবে।
তৃতীয়ত, বাংলাদেশ ব্যাংককে কঠোর তদারকির মাধ্যমে গ্রাহকদের স্বার্থ রক্ষা করতে হবে। একই সঙ্গে ব্যাংক কর্তৃপক্ষের উচিত নিয়মিত তথ্য প্রকাশ ও গ্রাহকদের সঙ্গে যোগাযোগ বৃদ্ধি করে আস্থার সংকট দূর করা।
ইসলামী ব্যাংক কেবল একটি আর্থিক প্রতিষ্ঠান নয়; এটি বাংলাদেশের ইসলামী ব্যাংকিং ব্যবস্থার প্রতীক। তাই এর সংকট কোনো একক প্রতিষ্ঠানের সংকট নয়, বরং পুরো ব্যাংকিং খাতের জন্য একটি সতর্কবার্তা।
সুশাসন, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা গেলে ইসলামী ব্যাংক আবারও দেশের অর্থনীতিতে তার ঐতিহাসিক ভূমিকা শক্তভাবে পালন করতে সক্ষম হবে। আস্থা পুনর্গঠনের এই কাজ শুরু করতে হবে এখনই।





