ক্যাম্পাস
জাবিতে জুলাই হামলায় অভিযুক্তদের দায়মুক্তির অভিযোগ: রায় প্রত্যাখ্যান করে পুনঃতদন্তের দাবি শিক্ষার্থীদের

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে (জাবি) জুলাই অভ্যুত্থানে শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার ঘটনায় অভিযুক্ত শিক্ষক, কর্মকর্তা ও ছাত্রলীগের উল্লেখ্যযোগ্য সংখ্যাক নেতাকর্মীকে আপিলের মাধ্যমে দায়মুক্তি দেওয়ার সিদ্ধান্ত প্রত্যাখ্যান করেছেন আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা। তারা এ সিদ্ধান্তকে ন্যায়বিচারবিরোধী দাবি করে পুনর্তদন্ত কমিটি গঠন করে নতুন তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশের দাবি জানিয়েছেন।
বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট ভবনে ‘সম্প্রতি সিন্ডিকেটে জুলাই হামলার ঘটনায় অভিযুক্তদের বিষয়ে নেওয়া সিদ্ধান্ত বিষয়ে’ উপাচার্য অধ্যাপক মোহাম্মদ কামরুল আহসানের সঙ্গে এক উন্মুক্ত আলোচনা সভায় শিক্ষার্থীরা এসব দাবি উত্থাপন করেন।
সভায় উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক ড. শামছুল আলম, উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক এ কে এম নজরুল ইসলাম, কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড আব্দুর রব, প্রক্টর অধ্যাপক ড এ কে এম রাশিদুল আলম, আপিল কমিটির প্রধান অধ্যাপক সোহেল রানা ও শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।
সভায় শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করেন, সাক্ষীদের পরিচয় ফাঁস হওয়ায় তাঁরা ও তাঁদের পরিবার নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। তাঁরা অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা, গ্রেপ্তারে প্রশাসনিক উদ্যোগ এবং দায়মুক্তির ভিত্তি প্রকাশের দাবি জানান। পাশাপাশি তৎকালীন প্রক্টরের ভূমিকা, কিছু অভিযুক্তের শাস্তি লঘু হওয়া এবং কয়েকজনের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা না নেওয়ার বিষয়েও প্রশ্ন তোলেন। তাঁদের আশঙ্কা, দায়মুক্তিপ্রাপ্ত ব্যক্তিরা আবার ক্যাম্পাসে প্রভাব বিস্তারের সুযোগ পেতে পারেন।
বিশ্ববিদ্যালয়ের বায়োটেকনোলজি এন্ড জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ৪৮তম ব্যাচের শিক্ষার্থী আব্দুল্লাহ আল মামুন অভিযোগ করেন, সাক্ষীদের পরিচয় ফাঁস হয়ে যাওয়ায় তারা ও তাদের পরিবার হুমকির মুখে পড়েছেন। আমাদের সাক্ষীদের তথ্য কেন ফাঁস হলো, তার জবাব চাই।
তিনি বলেন, “বিশ্ববিদ্যালয়কে ফৌজদারি মামলার পাশাপাশি অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারে চাপ সৃষ্টি করতে হবে। যারা দায়মুক্তি পেয়েছেন, তারা কীসের ভিত্তিতে মুক্তি পেলেন, সেই তদন্ত প্রতিবেদনও প্রকাশ করতে হবে।”
অনেক অভিযুক্তকে শুধু সতর্ক করা হয়েছে এবং এর যৌক্তিকতা আসলে কতটুকু? এমন প্রশ্নের জবাবে উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ড নজরুল ইসলাম বলেন, “সতর্কীকরণও একটি শাস্তি। এতে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির দায় স্বীকৃত হয় এবং নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত তিনি কিছু প্রশাসনিক সুবিধা থেকে বঞ্চিত থাকেন।”
বিশ্ববিদ্যালয়ের সরকার ও রাজনীতি বিভাগের ৪৯তম ব্যাচের শিক্ষার্থী আনজুম শাহরিয়ার বলেন, “ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে হামলার স্পষ্ট ফুটেজ ছিল। সেই প্রেক্ষিতে তাদের শাস্তির আওতায় আনা হয়েছিল। কিন্তু এই কয়েকমাসে কি এমন হলো যে তাদের দায়মুক্তি দেওয়া হলো?”
দায়মুক্তির অভিযোগের বিষয়ে আপিল কমিটির প্রধান ও ফার্মেসী বিভাগের অধ্যাপক ড. সোহেল রানা বলেন, “যেসব অভিযোগের ক্ষেত্রে পর্যাপ্ত সাক্ষ্য-প্রমাণ, প্রত্যক্ষ তথ্য বা ভিডিও ফুটেজ পাওয়া যায়নি, সেসব বিবেচনায় রেখেই আপিল কমিটি সিদ্ধান্ত নিয়েছে।”
শিক্ষার্থীদের অভিযোগকে আমলে নিয়ে এবং পুনর্তদন্তের আশ্বাস দিয়ে উপাচার্য অধ্যাপক মোহাম্মদ কামরুল আহসান বলেন, “বিশ্ববিদ্যালয় আবেগ নয়, তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তিনি বলেন, "অপরাধী বেঁচে যাক, কিন্তু নির্দোষ যেন শাস্তির আওতায় না আসে।”
তিনি জানান, বহিরাগতদের বিরুদ্ধে আইসিটি আইনে মামলার বিষয়টি বিশ্ববিদ্যালয় দেখবে। সাক্ষীদের তথ্য কীভাবে ফাঁস হয়েছে, সেটিও তদন্ত করা হবে। প্রয়োজনে বিষয়টি পুনরায় সিন্ডিকেটে তোলার সুযোগ রয়েছে।
তিনি আরও বলেন, “সিন্ডিকেটের সিদ্ধান্ত পরিবর্তনের জন্য নির্ধারিত প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে হবে এবং বিচার অবশ্যই সুনির্দিষ্ট অভিযোগ ও প্রমাণের ভিত্তিতেই হবে।







