জাতীয়
বিএনপির ফ্যামিলি কার্ডের প্রতিশ্রুতিকে ‘১০ টাকা কেজি চালের পুনরাবৃত্তি’ আখ্যা

জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেছেন, বিএনপির দেওয়া ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষক কার্ডের প্রতিশ্রুতি বাস্তবতা বিবর্জিত এবং অতীতের ব্যর্থ আশ্বাসের পুনরাবৃত্তি। তিনি বলেন, “ভুয়া প্রতিশ্রুতিরও একটি সীমা থাকা উচিত। দেশের জনসংখ্যা ১৮ কোটি, অথচ তারা বলছে ৫০ কোটি কার্ড দেবে—এ ধরনের বক্তব্য জনগণকে বিভ্রান্ত করার শামিল।”
বুধবার (তারিখ উল্লেখযোগ্য) দুপুরে নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে অনুষ্ঠিত ১১ দলীয় জোটের জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
অধ্যাপক গোলাম পরওয়ার বলেন, এর আগেও বিএনপি ক্ষমতায় গেলে বেকার ভাতা, বিনামূল্যে সারসহ নানা প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল, কিন্তু বাস্তবে তার কোনো প্রতিফলন জনগণ দেখেনি। তিনি এসব প্রতিশ্রুতিকে শেখ হাসিনার সময়কার ১০ টাকা কেজি চালের ঘোষণার সঙ্গে তুলনা করে বলেন, “বাংলাদেশের মানুষ এখন আর এ ধরনের অবাস্তব আশ্বাসে বিশ্বাস করে না।”
রাষ্ট্র পরিচালনার সমালোচনা করে তিনি বলেন, দেশে দুর্নীতি ও দলীয়করণ সর্বত্র ছড়িয়ে পড়েছে। বিচারব্যবস্থা কার্যত বাধাগ্রস্ত হয়েছে এবং ন্যায়বিচার থেকে সাধারণ মানুষ বঞ্চিত হয়েছে। হাজার হাজার কোটি টাকা বিদেশে পাচার করা হয়েছে বলে অভিযোগ করে তিনি বলেন, ভিন্নমতের ওপর দমন-পীড়ন চালানো হয়েছে এবং আদালতকে স্বাধীনভাবে কাজ করতে দেওয়া হয়নি।
তিনি আরও বলেন, “অপরাধী, মাদক ব্যবসায়ী ও চাঁদাবাজরা প্রকাশ্যে অপরাধ করলেও তাদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। অথচ নিরপরাধ ও সৎ মানুষদের গ্রেপ্তার করে বছরের পর বছর কারাগারে রাখা হয়েছে, অনেক ক্ষেত্রে জামিনও দেওয়া হয়নি।”
নারায়ণগঞ্জের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট উল্লেখ করে অধ্যাপক গোলাম পরওয়ার বলেন, এই জেলা নানা কারণে আলোচিত ও সমালোচিত। তিনি বলেন, একসময় এখানে জামায়াতে ইসলামীর নেতাদের প্রবেশ নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছিল। কিন্তু সময়ের পরিবর্তনে আল্লাহর ইচ্ছায় সেই নিষেধাজ্ঞার রাজনীতিই আজ ইতিহাসে পরিণত হয়েছে।
আলোচনা সভা শেষে প্রধান অতিথি নারায়ণগঞ্জের পাঁচটি সংসদীয় আসনে জামায়াতে ইসলামীসহ ১১ দলীয় জোটের প্রার্থীদের হাতে নিজ নিজ দলের নির্বাচনী প্রতীক তুলে দেন।
সভায় উপস্থিত ছিলেন জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও নারায়ণগঞ্জ মহানগরী আমির মাওলানা আবদুল জব্বার, মহানগরী সেক্রেটারি ইঞ্জিনিয়ার মানোয়ার হোসাইন, জেলা সেক্রেটারি হাফিজুর রহমান, কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য মাওলানা মইনুদ্দিন আহমাদ, জেলা আমির মমিনুল হক সরকারসহ জোটভুক্ত দলের প্রার্থীরা ও বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী।








