সারাদেশ
তিস্তার পানি বিপৎসীমার নিচে, বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি

ভারী বৃষ্টিপাত ও ভারত থেকে নেমে আসা উজানের পাহাড়ি ঢলে আগেরদিন ডালিয়া পয়েন্টে তিস্তার পানি বিপদসীমার এক সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হলেও কিছুটা কমেছে। বিপৎসীমা ৫২ দশমিক ১৫ সেন্টিমিটারের বিপরীতে বুধবার দুপুরে পানির উচ্চতা রেকর্ড করা হয়েছে ৫২ দশমিক ১ সেন্টিমিটার।
এ প্রসঙ্গে পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী সরদার উদয় রায়হান আমার দেশকে বলেন, উত্তরের চার জেলায় এবং সিলেট-সুনামগঞ্জের নিম্নাঞ্চলে সাময়িকভাবে বন্যা পরিস্থিতি তৈরি হলেও আতঙ্কিত হওয়ার মতো কিছু নেই। আগের দিনের তুলনায় তিস্তা নদীর পানি কমে আসায় উত্তরের চার জেলার পরিস্থিতি কিছুটা উন্নতি হয়েছে। অন্যান্য নদীর পানি কিছুটা বাড়লেও তা বিপৎসীমা অতিক্রম করার মতো পরিস্থিতি হয়নি।
পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের বুধবারের পূর্বাভাসে বলা হয়, দেশের সকল প্রধান নদ-নদীসমূহ বিপদসীমার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। তবে তিস্তা নদী ডালিয়া (নীলফামারী), কাউনিয়া (রংপুর) ও তারাপুর (গাইবান্ধা) স্টেশনে, সুরমা নদী ছাতক (সুনামগঞ্জ) স্টেশনে, কুশিয়ারা নদী ফেঞ্চুগঞ্জ (সিলেট) ও মারকুলি (সুনামগঞ্জ) স্টেশনে এবং সোমেশ্বরী নদী কলমাকান্দা (নেত্রকোণা) স্টেশনে সতর্কসীমায় প্রবাহিত হচ্ছে।
২৪ ঘণ্টায় দেশের অভ্যন্তরে সিলেট ও চট্টগ্রাম বিভাগে অতি ভারি এবং রংপুর বিভাগে মাঝারি-ভারি থেকে ভারি বৃষ্টিপাত পরিলক্ষিত হয়েছে। উজানে ভারতের পশ্চিমবঙ্গ প্রদেশে অতি ভারি এবং মেঘালয় ও ত্রিপুরা প্রদেশে ভারি বৃষ্টিপাত পরিলক্ষিত হয়েছে। আবহাওয়া সংস্থাসমূহের তথ্য অনুযায়ী, দেশের অভ্যন্তরে রংপুর, সিলেট ও ময়মনসিংহ বিভাগ এবং তৎসংলগ্ন উজানে ভারতের পশ্চিমবঙ্গ, আসাম, মেঘালয় ও ত্রিপুরা প্রদেশে আগামী ৩ দিন মাঝারি-ভারি থেকে ভারি এবং পরবর্তী ২ দিন ভারি থেকে অতি ভারি বৃষ্টিপাতের পূর্বাভাস রয়েছে।
এতে ব্রহ্মপুত্র-যমুনা নদ-নদীসমূহের পানি সমতল বৃদ্ধি পেয়েছে, যা আগামী ৫ দিন তা অব্যাহত থাকতে পারে। আগামী ৪র্থ ও ৫ম দিন ব্রহ্মপুত্র নদী কুড়িগ্রাম, গাইবান্ধা, জামালপুর ও বগুড়া জেলায় সতর্কসীমায় প্রবাহিত হতে পারে এবং নদীসংলগ্ন নিম্নাঞ্চল কোথাও কোথাও সাময়িকভাবে প্লাবিত হতে পারে। গঙ্গা-পদ্মা নদীসমূহের পানি সমতল বৃদ্ধি পেয়েছে, যা আগামী ৫ দিন অব্যাহত থাকতে পারে; তবে বিপদসীমার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হতে পারে।
উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সুরমা-কুশিয়ারা নদীসমূহের পানি সমতল বৃদ্ধি পেয়েছে, যা আগামী ৩ দিন বৃদ্ধি পেতে পারে। এ সময়ে উক্ত নদীসমূহ সিলেট ও সুনামগঞ্জ জেলায় সতর্কসীমায় প্রবাহিত হতে পারে এবং নদীসংলগ্ন নিম্নাঞ্চল কোথাও কোথাও সাময়িকভাবে প্লাবিত হতে পারে।
সংস্থাটি আরো জানায়, ২৪ ঘণ্টায় উত্তরাঞ্চলীয় রংপুর বিভাগের তিস্তা ও ধরলা নদীসমূহের পানি সমতল বৃদ্ধি পেয়েছে, অপরদিকে দুধকুমার নদীর পানি সমতল হ্রাস পেয়েছে; নদীসমূহের পানি সমতল আগামী ১ দিন বৃদ্ধি এবং পরবর্তী ২ দিন স্থিতিশীল থাকতে পারে। আগামী ৪৮ ঘন্টায় উক্ত নদীসমূহ নীলফামারী, লালমনিরহাট, কুড়িগ্রাম ও রংপুর জেলায় সতর্কসীমায় প্রবাহিত হতে পারে এবং নদীসংলগ্ন নিম্নাঞ্চল কোথাও কোথাও সাময়িকভাবে প্লাবিত হতে পারে।
উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় ময়মনসিংহ বিভাগের সোমেশ্বরী, ভুগাই ও কংস নদীসমূহের পানি সমতল হ্রাস পেয়েছে, যা আগামী ২ দিন হ্রাস পেতে পারে এবং ৩য় দিন স্থিতিশীল থাকতে পারে। এ সময়ে সোমেশ্বরী নদী নেত্রকোনা জেলায় সতর্কসীমায় প্রবাহিত হতে পারে।
চট্টগ্রাম বিভাগের গোমতী, মুহরী, হালদা, সাঙ্গু ও মাতামুহুরী নদীসমুহের পানি সমতল হ্রাস পেয়েছে, অপরদিকে সেলোনিয়া ও ফেনী নদীসমূহের পানি সমতল স্থিতিশীল রয়েছে। গোমতী, মুহরী, সেলোনিয়া ও ফেনী নদীসমূহের পানি সমতল আগামী ৩ দিন স্থিতিশীল থাকতে পেতে পারে, অপরদিকে হালদা, সাঙ্গু ও মাতামুহুরী নদীসমুহের পানি সমতল আগামী ৩ দিন বৃদ্ধি পেতে পারে।
এদিকে, তিস্তার বন্যায় জেলার ডিমলা উপজেলার পূর্ব ছাতনাই, খগাখাড়বাড়ি, টেপাখড়িবাড়ি, খালিশা চাপানী, ঝুনাগাছ চাঁপানী, গয়াবাড়ি ও জলঢাকার গোলমুন্ডা, ডাউয়াবাড়ি, শৌলমারী ও কৈমারী ইউনিয়নের বিস্তীর্ণ এলাকায় চর গ্রামে বাড়িঘরে পানি প্রবেশ করায় দুর্ভোগ দেখা দিয়েছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় প্রতিনিধিরা।







