জাতীয়
চট্টগ্রাম বন্দরে শ্রমিকদের বিক্ষোভ
নৌ পরিবহন উপদেষ্টার গাড়ি আটকে চেয়ারম্যান অপসারণের দাবি

চট্টগ্রাম বন্দরের সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের সঙ্গে আলোচনা করতে এসে বন্দর ভবনের সামনে আন্দোলনরত শ্রমিক-কর্মচারীদের বিক্ষোভের মুখে পড়েছেন নৌ পরিবহন উপদেষ্টা এম সাখাওয়াত হোসেন। এ সময় শ্রমিকরা বন্দর চেয়ারম্যান এম মনিরুজ্জামানের অপসারণের দাবি জানান।
বৃহস্পতিবার বেলা ১১টার দিকে নৌ পরিবহন উপদেষ্টার গাড়িবহর চট্টগ্রাম বন্দর ভবনে প্রবেশ করতে গেলে গেটের সামনে শ্রমিক-কর্মচারীরা তা আটকে দেন। পরে উপদেষ্টা গাড়ি থেকে নেমে আন্দোলনরত শ্রমিকদের সঙ্গে কথা বলেন।
বিক্ষোভকালে শ্রমিক-কর্মচারীরা অভিযোগ করেন, চট্টগ্রাম বন্দরকে একটি বিশেষ গোষ্ঠীর হাতে তুলে দেওয়ার ষড়যন্ত্র চলছে। তারা বন্দরকে কোনো ‘মাফিয়া গোষ্ঠির’ নিয়ন্ত্রণে যেতে না দেওয়ার দাবি জানান এবং বর্তমান চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগ তুলে ধরে তাকে অপসারণের আহ্বান জানান।
এ সময় নৌ পরিবহন উপদেষ্টা এম সাখাওয়াত হোসেন বলেন, অন্তর্বর্তী সরকার দেশের স্বার্থ বিসর্জন দিয়ে কোনো সিদ্ধান্ত নেবে না। তিনি বলেন, “আগে যেমন একটি গোষ্ঠী বন্দরকে নিয়ন্ত্রণ করত, ভবিষ্যতে আর সে রকম কোনো পরিস্থিতি তৈরি হতে দেওয়া হবে না।”
চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগের বিষয়ে উপদেষ্টা বলেন, বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হবে। তিনি জানান, সকল পক্ষের সঙ্গে আলোচনা শেষে দুপুরে তিনি শ্রমিক-কর্মচারীদের সঙ্গে আলাদাভাবে বৈঠকে বসবেন। সমস্যার সমাধানের মানসিকতা নিয়েই তিনি চট্টগ্রামে এসেছেন বলেও উল্লেখ করেন।
উল্লেখ্য, মঙ্গলবার থেকে চট্টগ্রাম বন্দর বিদেশি প্রতিষ্ঠান ডিপি ওয়ার্ল্ডকে ইজারা দেওয়ার প্রক্রিয়ার প্রতিবাদ এবং শ্রমিকদের গণহারে বদলির আদেশ প্রত্যাহারের দাবিতে অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতি পালন করছেন বন্দর শ্রমিক-কর্মচারীরা।
এর আগে গত শনিবার থেকে সোমবার পর্যন্ত তিন দিন টানা ২৪ ঘণ্টা করে কর্মবিরতি পালন করা হয়। এ কর্মসূচিতে জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দল, স্কপ এবং বন্দর রক্ষা পরিষদ নামে তিনটি সংগঠন অংশ নেয়।
বন্দরকেন্দ্রিক চলমান এই অচলাবস্থায় আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রমে নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে বলে সংশ্লিষ্ট মহল উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।








