আন্তর্জাতিক

আবারও বন্ধ রাফা সীমান্ত, উন্নত চিকিৎসার আশায় অপেক্ষমাণ হাজারো ফিলিস্তিনি

ডেস্ক

শেয়ারঃ

আবারও বন্ধ রাফা সীমান্ত, উন্নত চিকিৎসার আশায় অপেক্ষমাণ হাজারো ফিলিস্তিনি- খবরের থাম্বনেইল ফটো

প্রায় ১৮ মাস পর গত ২ ফেব্রুয়ারি গাজা উপত্যকার রাফা সীমান্ত আংশিকভাবে খুলে দেয় ইসরাইল। তবে সীমান্ত খুললেও গুরুতর অসুস্থ ও যুদ্ধাহত ফিলিস্তিনিদের মিশরে যাওয়ার সুযোগ অত্যন্ত সীমিত রাখা হয়। প্রথম দিন মাত্র পাঁচজন মুমূর্ষু রোগীকে মিশরে যাওয়ার অনুমতি দেয় ইসরাইলি কর্তৃপক্ষ। সীমান্ত খোলার পরও উন্নত চিকিৎসার আশায় অ্যাম্বুলেন্সে করে অপেক্ষা করতে থাকেন বহু আহত ও জটিল রোগে আক্রান্ত ফিলিস্তিনি।


এই অবস্থার মধ্যেই বুধবার হঠাৎ করে রাফা সীমান্ত দিয়ে রোগীদের মিশরে যাওয়া স্থগিত করেছে ইসরাইল। ফিলিস্তিনি রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির মুখপাত্র রায়েদ আল-নিমস এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি আল জাজিরাকে জানান, “মাত্র কয়েক মিনিট আগে ইসরাইল সীমান্ত ক্রসিং বন্ধ করে দেওয়ার ঘোষণা দেয়।” এর ফলে অসুস্থ ফিলিস্তিনিদের প্রাথমিক চিকিৎসা কিংবা স্থানান্তরের ব্যবস্থা ব্যাহত হয়েছে।


রায়েদ আল-নিমস বলেন, আহতদের অ্যাম্বুলেন্সে করে রাফা ক্রসিংয়ে নেওয়া হয়েছিল, সেখান থেকে তাদের মিশরের হাসপাতাল বা অন্যত্র পাঠানোর কথা ছিল। কিন্তু হঠাৎ সীমান্ত বন্ধ হয়ে যাওয়ায় রেড ক্রিসেন্টের পক্ষে তাদের হাসপাতালে স্থানান্তর করাও সম্ভব হয়নি।


এর আগে সোমবার মাত্র পাঁচজন এবং মঙ্গলবার ১৬ জন ফিলিস্তিনিকে মিশরে যাওয়ার অনুমতি দিয়েছিল ইসরাইলি কর্তৃপক্ষ। যদিও তারা প্রতিদিন অন্তত ৫০ জন রোগীকে সীমান্ত পার হওয়ার সুযোগ দেওয়ার কথা বলেছিল। বাস্তবে সেই সংখ্যা তার অনেক নিচে রয়ে গেছে।


গাজা উপত্যকার সঙ্গে বহির্বিশ্বের যোগাযোগের একমাত্র প্রবেশদ্বার রাফা সীমান্ত। এই সীমান্ত দিয়ে মানুষের চলাচলের ওপর দীর্ঘদিন ধরে কঠোর নিয়ন্ত্রণ আরোপ করে রেখেছে ইসরাইল। যুদ্ধের সময় গাজা ছেড়ে যাওয়া অনেক ফিলিস্তিনি ফিরে আসার সময় কঠোর নিরাপত্তা তল্লাশির মুখোমুখি হয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। ফিরে আসা ব্যক্তিরা জানিয়েছেন, চোখ বেঁধে ও হাতকড়া পরিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। কেউ কেউ যৌন হয়রানির শিকার হওয়ার অভিযোগও তুলেছেন।


গাজার স্বাস্থ্য কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে ১৮ হাজারেরও বেশি ফিলিস্তিনি রোগী উন্নত চিকিৎসার জন্য স্থানান্তরের অপেক্ষায় রয়েছেন। এদের মধ্যে প্রায় ৪৪০ জন গুরুতর অবস্থায় আছেন, যাদের তাৎক্ষণিক চিকিৎসা প্রয়োজন। তবে কেন বহু রোগীকে সীমান্ত পার হওয়ার অনুমতি দেওয়া হচ্ছে না—এ বিষয়ে ইসরাইলি কর্তৃপক্ষ কোনো ব্যাখ্যা দেয়নি।


এদিকে যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকার দাবি করা হলেও গাজায় ইসরাইলি হামলা অব্যাহত রয়েছে। ফিলিস্তিনি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে জানানো হয়, বুধবার ইসরাইলি হামলায় অন্তত ২১ জন নিহত এবং ৩৮ জন আহত হয়েছেন। যুদ্ধবিরতির ঘোষণার পর থেকে এ পর্যন্ত মোট ৫৫৬ জন নিহত এবং প্রায় দেড় হাজার মানুষ আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে মন্ত্রণালয়।


সম্পর্কিত খবর