ক্যাম্পাস
উচ্চশিক্ষার নতুন যাত্রা: খুকৃবির নবীনদের স্বপ্ন ও ক্যাম্পাস ভাবনা

উচ্চশিক্ষার স্বপ্ন নিয়ে হাজারো শিক্ষার্থীর জীবনে বিশ্ববিদ্যালয়ে পদার্পণ এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা। নতুন পরিবেশ, নতুন মানুষ, নতুন বন্ধুত্ব আর অজানা সম্ভাবনার হাতছানিতে প্রতিটা ক্যাম্পাসই হয়ে ওঠে স্বপ্ন বোনার এক প্রাণবন্ত প্রাঙ্গণ। দীর্ঘ ভর্তি প্রক্রিয়া শেষে নতুন শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থীরা যখন খুলনা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় (খুকৃবি) প্রাঙ্গণে প্রথম পা রাখে, তখন পুরো ক্যাম্পাসজুড়ে ছড়িয়ে পড়ে এক উৎসবমুখর আবহ। কেউ হয়তো কৃষি প্রযুক্তিতে বিপ্লব আনার স্বপ্ন নিয়ে এসেছেন, আবার কেউ উপকূলীয় অঞ্চলের উপযোগী নতুন কোনো ফসলের জাত আবিষ্কারের সংকল্পে বুক বেঁধেছেন। নবীনদের এই পদচারণা কেবল একটি শিক্ষাবর্ষের শুরু নয়, বরং দেশ গড়ার কারিগর হিসেবে তাঁদের নতুন এক যাত্রার পথচলা, যা আগামী দিনে দেশের কৃষি খাত ও উচ্চশিক্ষার ধারায় এক নতুন মাত্রা যোগ করবে। ভবিষ্যৎ নিয়ে কী স্বপ্ন দেখছেন তারা? নবীন শিক্ষার্থীদের এমনই অনুভূতি, প্রত্যাশা ও ক্যাম্পাস ভাবনা তুলে ধরা হলো
শিক্ষা ও গবেষণার নবদিগন্ত
কৃষি বাংলাদেশের অর্থনীতির মেরুদণ্ড, তাই কৃষিবিজ্ঞানের চূড়ান্ত অগ্রগতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখার লক্ষ্যেই আমার খুকৃবির কৃষি অনুষদকে বেছে নেওয়া। আমি আশা করি, দ্রুততম সময়ে খুকৃবি একটি মানসম্মত স্থায়ী ক্যাম্পাসে স্থানান্তরিত হবে এবং বিশ্বমানের কৃষি গবেষণার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করবে। সেই সাথে আমার দৃঢ় বিশ্বাস, খুব শীঘ্রই আমাদের কৃষি অনুষদের শিক্ষার্থীদের জন্য একটি উপযুক্ত শ্রেণিকক্ষের ও সময়োপযোগী ব্যবহারিক কার্যক্রমের সুব্যবস্থা করে কৃষিবিজ্ঞানের চরম অগ্রগতিতে আমাদের অংশীদার হওয়ার সুযোগ করে দেওয়া হবে। আমি স্বপ্ন দেখি, এই কৃষি অনুষদের হাত ধরেই একদিন প্রাণপ্রিয় বিশ্ববিদ্যালয়টি শিক্ষা, গবেষণা ও প্রযুক্তিতে দেশকে নেতৃত্ব দেবে এবং আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলেও কৃষি গবেষণাকে এক অনন্য উচ্চতায় পৌঁছে দেবে।
-মো. আশিক আহমেদ আলভী (কৃষি অনুষদ)
প্রাণিসম্পদ ও জনস্বাস্থ্যের উন্নয়ন
পশুসম্পদ ও জনস্বাস্থ্য দেশের উন্নয়নের অবিচ্ছেদ্য অংশ। প্রাণিসম্পদের সুরক্ষা, রোগ প্রতিরোধ এবং নিরাপদ প্রাণিজ খাদ্য নিশ্চিত করার মাধ্যমে দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখার লক্ষ্যেই আমি খুকৃবির ভেটেরিনারি অনুষদকে বেছে নিয়েছি। আমি আশা করি, খুব দ্রুতই খুকৃবি একটি মানসম্মত স্থায়ী ক্যাম্পাসে স্থানান্তরিত হবে এবং বিশ্বমানের ভেটেরিনারি গবেষণা ও চিকিৎসা সেবার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করবে। সেই সাথে আমার দৃঢ় বিশ্বাস, অচিরেই আমাদের অনুষদের শিক্ষার্থীদের জন্য আধুনিক শ্রেণিকক্ষ, ল্যাব ও সময়োপযোগী ফিল্ড প্র্যাকটিসের সুব্যবস্থা করে ভেটেরিনারি বিজ্ঞানের অগ্রগতিতে আমাদের অংশীদার হওয়ার সুযোগ করে দেওয়া হবে।
-সুইটি সাহা (ভেটেরিনারি, অ্যানিমেল অ্যান্ড বায়োমেডিকেল সায়েন্সেস অনুষদ)
জলজ জীববৈচিত্র্যের সুরক্ষায় স্বপ্ন
ফিশারিজের শিক্ষার্থী হিসেবে আমরা দেশের জলজ পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্যের সঙ্গে নিজেদের ভবিষ্যৎকে যুক্ত করার সুযোগ পেয়েছি। তাই আমাদের প্রত্যাশাও অনেক বড়। একজন নবীন শিক্ষার্থী হিসেবে আমি আমার বিশ্ববিদ্যালয়ের স্থায়ী ক্যাম্পাসের বিষয়টিও বিশেষভাবে উল্লেখ করতে চাই। শিক্ষকবৃন্দ যথেষ্ঠ সহযোগী এবং স্নেহশীল বলেই আজ খুলনা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের এতদূর অগ্রগতি সম্ভব হয়েছে। একটি স্থায়ী ক্যাম্পাস, যথাযথ মাঠ গবেষণা এবং ল্যাব সুবিধা বৃদ্ধি পেলে একদিন দেশের সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ন একটি কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় হবে খুকৃবি।”
-ফারহা ফারুক ফিজা (ফিশারিজ অ্যান্ড ওশান সায়েন্সেস অনুষদ)
দক্ষ ও যোগ্য হয়ে ওঠার প্রেরণা
এই বিশ্ববিদ্যালয়ে এসে নতুন কিছু শেখা, নিজেকে দক্ষ ও যোগ্য হিসেবে গড়ে তোলা এবং ভবিষ্যতে গবেষণার সঙ্গে যুক্ত হওয়ার সুযোগকে আমি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ মনে করি। আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের স্থায়ী ক্যাম্পাস প্রতিষ্ঠিত হলে শিক্ষার্থীদের জন্য আরও সমৃদ্ধ ও সুন্দর শিক্ষার পরিবেশ তৈরি হবে বলে আমি আশা করি। আধুনিক শিক্ষা, গবেষণা ও সুযোগ-সুবিধার মাধ্যমে আমাদের বিশ্ববিদ্যালয় ভবিষ্যতে দেশের অন্যতম সেরা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে গড়ে উঠবে—এটাই আমার প্রত্যাশা। আর ভবিষ্যতে কৃষি ও অর্থনীতির সমন্বয়ে দেশের কৃষি খাতে অবদান রাখাই আমার স্বপ্ন।
-সুরাইয়া সারমিন (কৃষি অর্থনীতি ও কৃষি ব্যবসায় শিক্ষা অনুষদ)
প্রযুক্তিনির্ভর কৃষির অঙ্গীকার
আমার কাছে কৃষি শুধু ফসল উৎপাদনের বিষয় নয়, এর সঙ্গে আধুনিক প্রকৌশল, প্রযুক্তি ও উদ্ভাবনকে যুক্ত করেই ভবিষ্যতের কৃষিকে আরও শক্তিশালী করা সম্ভব। এই বিশ্ববিদ্যালয়ে এসে আমি শুধু একাডেমিক জ্ঞান অর্জন নয়, বাস্তব সমস্যাকে বুঝে তার প্রযুক্তিনির্ভর সমাধান খুঁজে বের করার মানসিকতা গড়ে তুলতে চাই ও ভবিষ্যতে গবেষণা, উদ্ভাবন ও প্রযুক্তির মাধ্যমে দেশের কৃষিকে আরও দক্ষ, টেকসই ও কৃষকবান্ধব করে তোলার কাজে নিজেকে যুক্ত করতে চাই। যদিও আমাদের বিশ্ববিদ্যালয় এখনো স্থায়ী ক্যাম্পাস, পর্যাপ্ত ল্যাব সুবিধা ও আধুনিক কৃষি যন্ত্রপাতির পূর্ণাঙ্গ সুবিধা থেকে বঞ্চিত, তবুও আমি এটিকে একটি সম্ভাবনাময় যাত্রার শুরু হিসেবে দেখি। আমি বিশ্বাস করি, ভবিষ্যতে স্থায়ী ক্যাম্পাস, উন্নত ল্যাব ও আধুনিক যন্ত্রপাতির সুবিধা যুক্ত হলে আমাদের শেখার ও গবেষণার সুযোগ আরও বিস্তৃত হবে। আর সেই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে শুধু একজন Agricultural Engineer হওয়া নয়, বরং দেশের কৃষির বাস্তব সমস্যার প্রযুক্তিনির্ভর সমাধান তৈরি করাই আমার স্বপ্ন।
-ফাইরোজ আবিবা নিধি (কৃষি প্রকৌশল ও প্রযুক্তি অনুষদ)







