ক্যাম্পাস

গাউসিয়া কমিটি বাংলাদেশের রাবি শাখার নতুন কমিটি অনুমোদন

রাবি প্রতিনিধি

শেয়ারঃ

গাউসিয়া কমিটি বাংলাদেশের রাবি শাখার নতুন কমিটি অনুমোদন- খবরের থাম্বনেইল ফটো

গাউসিয়া কমিটি বাংলাদেশ, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় শাখার ২০২৬–২৭ কার্যকরী কমিটি গঠন করা হয়েছে। এতে সভাপতি হিসেবে আরবি বিভাগের শিক্ষার্থী মোহাম্মদ সাইমুন এবং সাধারণ সম্পাদক হিসেবে ফাইন্যান্স বিভাগের মুহাম্মদ শাহনেওয়াজ ইমন দায়িত্ব পেয়েছেন। সাংগঠনিক সম্পাদক হয়েছেন হামিদ হুসাইন ইশান।


গত ১৪ আগস্ট রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় মসজিদে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে নতুন কমিটি ঘোষণা করা হয়। পরবর্তীতে ১৭ আগস্ট গাউসিয়া কমিটি বাংলাদেশ কেন্দ্রীয় কমিটির অনুমোদন লাভ করে রাবি শাখার ২০২৬–২৭ কার্যকরী কমিটি।


পবিত্র কোরআন তেলাওয়াতের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের কার্যক্রম শুরু হয়। এ সময় গাউসিয়া কমিটির আদর্শ, উদ্দেশ্য ও সাংগঠনিক কার্যক্রমের পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে দ্বীনি, মানবিক ও সামাজিক কার্যক্রম আরও গতিশীল করার বিষয়ে আলোচনা করা হয়।


নবগঠিত কমিটিতে একাধিক সিনিয়র সহ-সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন তৈয়ব বিন শাজাহান, রেজাউল ইসলাম, মোহাম্মদ আজিজ, মোহাম্মদ শাহাদাত, দ্বীন মুহাম্মদ ও মুহাম্মদ সাইফুর রহমান। দপ্তর সম্পাদক হয়েছেন জিওগ্রাফি বিভাগের মুহাম্মদ জহিরুল ইসলাম ইমন।


এ ছাড়া অর্থ সম্পাদক হিসেবে মুহাম্মদ মুনাজাত উদ্দিন, প্রচার সম্পাদক রাকিবুল ইসলাম ফকির, ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট সম্পাদক আনিসুর রহমান আনিস, আইটি সম্পাদক মুহাম্মদ আনোয়ার সজীব, দাওয়াতুল খায়র সম্পাদক ফাতিন হাসনাত, ক্যারিয়ার ডেভেলপমেন্ট সম্পাদক মুহাম্মদ আহনাফ জিসান, ছাত্রী কল্যাণ সম্পাদক জান্নাতুন নাঈম তাইমুন, সংস্কৃতি সম্পাদক ইশতিয়াক আহমেদ সজীব, আইন সম্পাদক মিরাজুল হক এবং গ্রন্থ ও প্রকাশনা সম্পাদক মুহাম্মদ আরমান দায়িত্ব পেয়েছেন।


নতুন কমিটিতে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষার্থীদের অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এর ফলে একাডেমিক বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দ্বীনি, সাংগঠনিক, সাংস্কৃতিক, ক্যারিয়ার ও মানবিক কার্যক্রমে সমন্বিতভাবে কাজ করার সুযোগ তৈরি হবে।


গাউসিয়া কমিটি বাংলাদেশ ১৯৮৬ সালে আওলাদে রাসূল (সা.) তৈয়ব শাহ (রহ.)-এর মাধ্যমে প্রতিষ্ঠিত একটি সুফিবাদী, সমাজ সংস্কারমূলক, অরাজনৈতিক ও আধ্যাত্মিক সংগঠন হিসেবে নিজেদের কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে। ব্যক্তি ও সমাজের সংস্কার, আত্মশুদ্ধি, সুন্নীয়তের শিক্ষা ও প্রচার, দ্বীনি জ্ঞান ও নৈতিক প্রশিক্ষণ এবং মানবসেবাকে সংগঠনটির কার্যক্রমের অন্যতম লক্ষ্য হিসেবে উল্লেখ করা হয়।


দাওয়াতে খায়র, খতমে গাউসিয়া, গেয়ারভী শরীফ, ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষে জশনে জুলুসসহ বিভিন্ন দ্বীনি ও সামাজিক কর্মসূচি পালন করে থাকে সংগঠনটি।


এ ছাড়া করোনা মহামারির সময় সংগঠনটির স্বেচ্ছাসেবকেরা মৃতদের কাফন-দাফন ও জানাজা, অক্সিজেন ও অ্যাম্বুলেন্স সেবা, চিকিৎসা সহায়তা ও খাদ্য বিতরণে অংশ নেন। বিভিন্ন দুর্যোগে ত্রাণ বিতরণ, শীতবস্ত্র বিতরণ, শিক্ষাসহায়তা, রক্তদান এবং অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানোর মতো মানবিক কার্যক্রমেও সংগঠনটির কর্মীদের অংশগ্রহণ রয়েছে।


নবগঠিত কমিটির মাধ্যমে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে দ্বীনি ও নৈতিক শিক্ষার প্রসার, আত্মশুদ্ধি, সুন্নীয়তের আদর্শ চর্চা, দাওয়াতি কার্যক্রম, মানবসেবা এবং শিক্ষার্থীবান্ধব সামাজিক ও সাংস্কৃতিক উদ্যোগ আরও বিস্তৃত করার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছেন সংশ্লিষ্টরা।


সম্পর্কিত খবর