ক্যাম্পাস

জাবিতে হিম উৎসব বন্ধসহ তিন দফা দাবিতে প্রক্টর বরাবর স্মারকলিপি

জাবি প্রতিনিধি

শেয়ারঃ

জাবিতে হিম উৎসব বন্ধসহ তিন দফা দাবিতে প্রক্টর বরাবর স্মারকলিপি- খবরের থাম্বনেইল ফটো

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে (জাবি) আয়োজিত ‘হিম উৎসব’-এ পবিত্র কোরআনের সূরা নাস-এর অপব্যাখ্যা ও ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাতের অভিযোগ তুলে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর বরাবর স্মারকলিপি প্রদান করেছেন একদল শিক্ষার্থী। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে হিম উৎসব আয়োজন বন্ধ অথবা প্রশাসনিক তত্ত্বাবধানে আয়োজন নিশ্চিত করার দাবিও জানান তারা।


শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) রাত ১০টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. এ কে এম রাশিদুল আলম বরাবর লিখিত এই স্মারকলিপি জমা দেওয়া হয়।


স্মারকলিপিতে উত্থাপিত শিক্ষার্থীদের তিন দফা দাবি হলো—

১. গতকালের ঘটনায় ধর্মীয় অবমাননার সঙ্গে জড়িত আয়োজক এবং পরিস্থিতি উত্তপ্ত করে তোলা ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে দ্রুত প্রাতিষ্ঠানিক ও আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ।

২. বারবার মাদক সেবনসহ বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের অভিযোগে ‘হিম উৎসব’ আয়োজন বন্ধ করা অথবা প্রশাসনের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ ও তত্ত্বাবধানে উৎসব আয়োজন নিশ্চিত করা।

৩. ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাতকে সমর্থনের দায়ে তুলনামূলক সাহিত্য ও সংস্কৃতি বিভাগের প্রভাষক হাসান নাঈমের বিরুদ্ধে প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থা গ্রহণ।


লিখিত অভিযোগে শিক্ষার্থীরা উল্লেখ করেন, গত ৬ ফেব্রুয়ারি দিবাগত রাতে হিম উৎসবের মঞ্চে পালাগান পরিবেশনের সময় সূরা নাস-এর একটি অংশ পাঠ করে তার বিকৃত ও বিতর্কিত ব্যাখ্যা দেওয়া হয়। শিল্পীরা তিলাওয়াতের পাশাপাশি দাবি করেন, সূরাটিতে আল্লাহ নাচার কথা বলেছেন—যা সম্পূর্ণরূপে ধর্মীয় বিকৃতি ও অবমাননাকর। এ ঘটনার প্রতিবাদ জানাতে গেলে শিক্ষার্থীরা আয়োজকদের দ্বারা শারীরিক লাঞ্ছনা ও হেনস্তার শিকার হন বলেও অভিযোগ করেন তারা।


এছাড়া ওই ঘটনার পর বিশ্ববিদ্যালয়ের তুলনামূলক সাহিত্য ও সংস্কৃতি বিভাগের এক শিক্ষক হাসান নাঈম সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পরোক্ষভাবে ঘটনাটিকে সমর্থন করেছেন বলে অভিযোগ তোলা হয় স্মারকলিপিতে।


স্মারকলিপি প্রদানকালে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন জাকসুর সমাজসেবা ও মানবসেবা উন্নয়ন বিষয়ক সম্পাদক আহসান লাবিব এবং পরিবেশ ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিষয়ক সম্পাদক সাফায়েত মীর। তারা ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে দোষীদের দ্রুত শাস্তির আওতায় আনার দাবি জানান।


এ বিষয়ে প্রক্টর অধ্যাপক ড. এ কে এম রাশিদুল আলম বলেন, “শিক্ষার্থীরা তাদের নৈতিক অবস্থান থেকে একটি লিখিত অভিযোগপত্র জমা দিয়েছে। বিষয়টি অত্যন্ত সংবেদনশীল। আমরা এটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করছি এবং তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”


উল্লেখ্য, গত শুক্রবার রাতে হিম উৎসবের দ্বিতীয় দিনে পালাগান পরিবেশনের সময় এক বাউল শিল্পী সূরা নাস-এর খণ্ডিত অংশ পাঠ করে ‘যত নাচবি তত বাঁচবি’ বলে মন্তব্য করেন। এর প্রতিবাদে গভীর রাতে শিক্ষার্থীরা শহীদ মিনারের সামনে স্লোগান দেন এবং পরে উপাচার্যের বাসভবনের সামনে অবস্থান নেন। এ সময় উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ কামরুল আহসান শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলে তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেন।


সম্পর্কিত খবর