জাতীয়
ভোটকেন্দ্রে মোবাইল নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের দাবি, সন্ধ্যার মধ্যে সিদ্ধান্ত বদলের আহ্বান নাহিদ ইসলামের

ভোটকেন্দ্রে ভোটারদের জন্য মোবাইল ফোন বহনে নিষেধাজ্ঞার সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম। তিনি বলেন, আজ সোমবার সন্ধ্যার মধ্যে নির্বাচন কমিশন (ইসি) এ সিদ্ধান্ত পরিবর্তন না করলে কর্মসূচি ঘোষণার বিষয়ে দলটি ভাবতে বাধ্য হবে।
সোমবার দুপুরে রাজধানীর মোহাম্মদপুর কেন্দ্রীয় ঈদগাহ মাঠে ঢাকা-১৩ আসনের ১১ দলীয় নির্বাচনী ঐক্যের প্রার্থী বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মামুনুল হকের নির্বাচনী সমাবেশে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে নাহিদ ইসলাম এসব কথা বলেন। সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান।
নাহিদ ইসলাম বলেন, ভোটকেন্দ্রে মোবাইল ফোন বহনে নিষেধাজ্ঞা আরোপের পেছনে নির্বাচন কমিশনের আইনগত ভিত্তি স্পষ্ট নয়। তিনি অভিযোগ করেন, এ ধরনের সিদ্ধান্ত ভোটের স্বচ্ছতা ও ভোটারের তথ্য অধিকারকে সীমিত করতে পারে। তাঁর ভাষায়, “নির্বাচনের একেবারে দ্বারপ্রান্তে এসে এমন সিদ্ধান্ত জনগণের মধ্যে প্রশ্ন ও সন্দেহ তৈরি করছে।”
উল্লেখ্য, গতকাল রোববার নির্বাচন কমিশনের এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট উপলক্ষে ভোটাররা ভোটকেন্দ্রের ভেতরে মোবাইল ফোন নিতে পারবেন না। একই সঙ্গে ভোটকেন্দ্রের চারশ গজ ব্যাসার্ধের মধ্যেও মোবাইল ফোন বহন নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
নাহিদ ইসলাম আরও বলেন, নির্বাচন কমিশনের দায়িত্ব নিরপেক্ষ ও বিশ্বাসযোগ্য নির্বাচন নিশ্চিত করা। কোনো ধরনের পক্ষপাতমূলক আচরণ বা সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হলে তা গণতন্ত্রের জন্য ক্ষতিকর হবে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর উদ্দেশে তিনি বলেন, নিরপেক্ষভাবে দায়িত্ব পালনের মাধ্যমে জনগণের ভোটাধিকার রক্ষা করা তাদের সাংবিধানিক দায়িত্ব। একই সঙ্গে তিনি গণমাধ্যমের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, নির্বাচনী প্রচারণা ও বিজ্ঞাপনের ক্ষেত্রে সকল রাজনৈতিক দল ও জোটের প্রতি সমান আচরণ নিশ্চিত করা জরুরি।
গণমাধ্যম প্রসঙ্গে নাহিদ ইসলাম বলেন, অতীতের অভিজ্ঞতার কারণে গণমাধ্যমের ওপর মানুষের আস্থা এখনো পুরোপুরি ফিরে আসেনি। তাই এই নির্বাচনে ন্যায়নিষ্ঠ ও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের মাধ্যমে সেই আস্থা পুনরুদ্ধারের সুযোগ রয়েছে।
সমাবেশে বক্তারা বলেন, আসন্ন ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচন শান্তিপূর্ণ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য করতে নির্বাচন কমিশনসহ সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।








