আন্তর্জাতিক
ইরান যুদ্ধ নিয়ে নিজের অবস্থান জানালেন রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান

তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান বলেছেন, ইরানকে ঘিরে চলমান সহিংসতা যাতে আরও না বাড়ে, সে জন্য জোরালো কূটনৈতিক প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে তুরস্ক।
বৃহস্পতিবার আঙ্কারায় আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন। ওই অনুষ্ঠানে অ্যান্তেনিও গুতেরেসকে আতাতুর্ক আন্তর্জাতিক শান্তি পুরস্কার প্রদান করা হয়। তুরস্কের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা আনাদুলু এজেন্সি এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে।
এরদোয়ান বলেন, কূটনীতি ও সংলাপই ন্যায্য এবং স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠার সবচেয়ে নিরাপদ পথ।
তিনি উল্লেখ করেন, যুক্তরাষ্ট্র, ইসরাইল ও ইরানকে ঘিরে কূটনৈতিক প্রক্রিয়ায় নানা চ্যালেঞ্জ থাকলেও তুরস্ক ধৈর্য ও দৃঢ়তার সঙ্গে শান্তির প্রচেষ্টা চালিয়ে যাবে।
অনুষ্ঠানে জাতিসংঘ মহাসচিবের তুরস্ক সফরের প্রসঙ্গ তুলে এরদোয়ান বলেন, ২০১৭ সালে দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে অ্যান্তেনিও গুতেরেস নিরপেক্ষতা ও প্রজ্ঞার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করে আসছেন। তার প্রতিটি সফরই তুরস্কের জন্য বিশেষ তাৎপর্য বহন করে।
এরদোয়ান আরও বলেন, শরণার্থী সুরক্ষা, বিশ্বজনীন ন্যায় প্রতিষ্ঠা এবং রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে পরিচালিত শাটল কূটনীতিতে গুতেরেস গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন।
তিনি বলেন, শান্তি ও নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠায় নীরব সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষের কণ্ঠস্বর হয়ে ওঠার স্বীকৃতি হিসেবে গুতেরেসকে আতাতুর্ক আন্তর্জাতিক শান্তি পুরস্কার দিতে পেরে তিনি আনন্দিত।
রমজান মাসের প্রসঙ্গ টেনে এরদোয়ান আশা প্রকাশ করেন, পবিত্র রমজান মানবজাতির জন্য কল্যাণ বয়ে আনবে এবং বিশ্বজুড়ে শান্তি, স্থিতিশীলতা ও সমৃদ্ধির পথ সুগম করবে।
তিনি বলেন, তুরস্ক তার বৈদেশিক নীতিতে ‘দেশে শান্তি, বিশ্বে শান্তি’ নীতিকে কেন্দ্রবিন্দুতে রাখে—যা প্রজাতন্ত্রের প্রতিষ্ঠাতা মুস্তাফা কামাল আতাতুর্কের রেখে যাওয়া ঐতিহ্য।
এরদোয়ান আরও বলেন, তুরস্ক জাতিসংঘের প্রতিষ্ঠাগত মূল্যবোধের অন্যতম দৃঢ় সমর্থক। তিনি বলেন, “যেখানে আগুন, সেখানে আমরা পানি নিয়ে যাই; যেখানে ব্যথা, ট্রাজেডি বা কান্না আছে, সেখানে আমরা সর্বশক্তি প্রয়োগ করি।”








