ক্যাম্পাস
চাকসু নেতার হামলাকারী ২৪ ঘন্টায় গ্রেফতার, ফের ২৪ ঘন্টায় জামিন

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (চাকসু) ক্যাফেটেরিয়া ও পাঠাগার সম্পাদক মাসুম বিল্লার ওপর নৃশংস হামলার ঘটনায় গ্রেফতার হওয়া প্রধান আসামিকে ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই জামিনে মুক্তি করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) দুপুরের দিকে এ জামিন দেওয়া হয়। এ ঘটনায় ক্ষোভে ফুঁসে উঠেছে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের শিক্ষার্থীরা।
জানা যায়, গত সোমবার (৩০ মার্চ) রাতে চট্টগ্রামের হাটহাজারী এলাকায় একটি ফিলিং স্টেশনে মোটরসাইকেলে তেল নিতে গেলে মাসুম বিল্লার ওপর অতর্কিত হামলা চালায় একদল দুর্বৃত্ত। হামলাকারীরা তাকে ধারালো অস্ত্র, ব্লেড ও ক্ষুর দিয়ে আঘাত করে এবং গলার রগ কাটার চেষ্টাও করে বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী। এতে তিনি গুরুতর আহত হন।
আহত অবস্থায় সহপাঠীরা তাকে প্রথমে বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিকেল সেন্টারে এবং পরে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন। চিকিৎসকরা জানান, তার চোখের ওপরে গভীর ক্ষতসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে।
ঘটনার পর ভুক্তভোগী ও সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, গত ৪ মার্চ ক্যাম্পাসে এক মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় আহত এক শিক্ষার্থীর পক্ষে সমঝোতায় ভূমিকা রাখেন মাসুম বিল্লাহ। সেই ঘটনার জের ধরেই পরিকল্পিতভাবে এ হামলা চালানো হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
হামলার ঘটনায় হাটহাজারী থানা-পুলিশ অভিযান চালিয়ে জালাল উদ্দিন মুন্না নামে একজনকে গ্রেফতার করে। তাকে ঘটনার মূল হোতা বলে দাবি করেন চাকসুর নেতারা।
তবে গ্রেফতারের মাত্র ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই ওই আসামিকে আবার জামিনে মুক্তি পাওয়ায় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন শিক্ষার্থীরা। তাদের অভিযোগ, এমন গুরুতর হামলার ঘটনায় দ্রুত জামিন পাওয়া বিচার ব্যবস্থার দুর্বলতা প্রকাশ করে এবং এতে অপরাধীরা উৎসাহিত হতে পারে।
জানতে চাইলে ভুক্তভোগী চাকসু নেতা মাসুম বিল্লাহ বলেন, একজন ছাত্রপ্রতিনিধি হত্যা চেষ্টা মামলার আসামি যদি এক দিনের মধ্যে জামিন পেয়ে যায় তাহলে আমার বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ শিক্ষার্থীরা কতটুকু ন্যায্য বিচার পাবে এবং বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন কতটুকু বিচার নিশ্চিত করতে পারবে বলে মনে হয়?
বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের গাফিলতির চরম স্পষ্টতা এখানে ফুটে উঠেছে।
এ সম্পর্কে চাকসু ভিপি ইব্রাহিম হোসেন রনি বলেন, ঘটনার পরদিন ৩১ তারিখ দুপুরে হাটহাজারী থানা থেকে আমাকে জানানো হয়, এ ঘটনায় জড়িত ‘মুন্না’ নামে একজন আসামিকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তবে প্রধান আসামি আরিফুল ইসলাম এখনো গ্রেফতার হয়নি। আমি দ্রুত সময়ের মধ্যে প্রধান আসামিকে গ্রেফতারের জোর দাবি জানাই। কিন্তু বিস্ময়করভাবে, গ্রেফতার হওয়া আসামি মুন্নাকে আজ আদালত জামিন দিয়েছে! এত বড় অপরাধের পর এই মামলায় তার জামিন পাওয়ার কথা নয়। সে নিজ মুখেই স্বীকার করেছে যে, সে মাসুমকে মারধর করেছে যার ভিডিও প্রশাসন ও আমাদের কাছে রয়েছে। তবুও সে কীভাবে জামিন পেল, তা বুঝতে কারও বাকি থাকার কথা নয়। তিনি আরও বলেন, চবি প্রশাসনের প্রতি আহ্বান- এ বিষয়ে আর দেরি নয়। দ্রুত সময়ের মধ্যে সকল অপরাধীকে গ্রেফতারের ব্যবস্থা করুন; অন্যথায় সকল শিক্ষার্থীকে সঙ্গে নিয়ে চাকসু কঠোর কর্মসূচি দিতে বাধ্য হবে।
এ বিষয়ে চবি ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জালাল সিদ্দিকী বলেন, প্রশাসনের দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তিবর্গ হয়তো আসামীর ব্যাপারে সিরিয়াসলি মামলা পরিচালনা করেনি, যার কারণে আসামী অতি সহজেই জামিনে মুক্তি পেয়ে গেছেন। আইনের ফাঁক ফোকর দিয়ে যাতে আসামী সহজে ছাড় না পায় আর শিক্ষার্থীদের উপর ভবিষ্যতে হামলার দুঃসাহস না দেখায় সেই ব্যাপারে প্রশাসনের জোরালো পদক্ষেপ নেয়া উচিত।
হাটহাজারী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) জাহিদুর রহমান বলেন, আমরা থানা থেকে রিমান্ডের আবেদন করেছি। আজ কোর্টে আমাদের এডভোকেট এবং বাদী উপস্থিত ছিলেন। কোর্ট রিমান্ড না দিয়ে কেন মুক্তি দিয়েছে আমরা তা জানি না।
জানতে চাই এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আল্-ফোরকান বলেন, এই সম্পর্কে আমি অবগত হওয়ার পর সাথে সাথে ওসি সাহেবকে কল করেছি হয়তো ব্যস্ত থাকায় কল রিসিভ করেনি। আসামিকে কোর্ট থেকে জামিন দিয়েছে তাহলে আইনজ্ঞ যারা ছিলো তারা কি যথাযথ দলিল উপস্থাপন করেছে কিনা সেটা দেখতে হবে। আসামি ধরার পর যদি ঐ ধরায় ছুটে যায় তাহলে এই ধরার মানে কি!! আর আমাদের কোন কোন জায়গায় দুর্বলতা আছে সেটাও জানা দরকার। আমি বাকি আসামিদেরকেও ধরার জন্য আলোচনা করতেছি।








