ক্যাম্পাস
গণভোট সেমিনারের পরিকল্পনা নিয়ে জাকসুতে মতবিরোধ, ভিপি ও সমাজসেবা সম্পাদকের পাল্টাপাল্টি অভিযোগ

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদ (জাকসু) একটি গণভোট বিষয়ক সেমিনারের আয়োজন করেছে। তবে জাকসুর ভিপি অধ্যাপক আব্দুর রশিদ জিতু অভিযোগ করেছেন, এই সেমিনার পূর্ব আলোচনা ছাড়া আয়োজন করা হয়েছে এবং এটি অগণতান্ত্রিক ও গোষ্ঠীগত স্বার্থে ব্যবহৃত হওয়ার চেষ্টা করেছে। অন্যদিকে, জাকসুর সমাজসেবা সম্পাদক আহসান লাবিব দাবি করেছেন যে, সেমিনার আয়োজনের বিষয়ে সর্বপ্রথমই ভিপির সঙ্গে আলোচনা হয়েছে।
বুধবার (৮ এপ্রিল) দুপুরে তারা সোশ্যাল মিডিয়ায় পাল্টাপাল্টি পোস্ট করেন। এর আগে সকালেই "গণভোট অস্বীকার ও অধ্যাদেশ বাতিলের রাজনীতি: সংসদীয় স্বৈরতন্ত্রে প্রবেশ এবং সংকটের পথে দেশ" শিরোনামে আগামী ৯ এপ্রিলের সেমিনার আহ্বান করে জাকসু তাদের ফেসবুক পেজে একটি ফটোকার্ড শেয়ার করে।
ফেসবুক পোস্টে ভিপি আব্দুর রশিদ জিতু লিখেছেন, "জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদ (জাকসু) একটি গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান, যেখানে যেকোনো গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণে সদস্যদের সক্রিয় অংশগ্রহণ অপরিহার্য। বিশেষ করে সেমিনার বা বৃহৎ আয়োজনের ক্ষেত্রে পূর্বপরিকল্পিত আলোচনা, স্বচ্ছতা এবং সম্মিলিত সিদ্ধান্ত গ্রহণ জরুরি।
সম্প্রতি জাকসুর ব্যানারে একটি সেমিনারের ফটোকার্ড প্রকাশ হয়েছে, যা গভীর উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে। কারণ, এই আয়োজনের বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক সভা অনুষ্ঠিত হয়নি; সকল সদস্যের সঙ্গে ন্যূনতম আলোচনাও করা হয়নি। গেস্ট নির্বাচন, বাজেট নির্ধারণ, সময়সূচি চূড়ান্তকরণ কিংবা আয়োজনের উদ্দেশ্য—কোনো বিষয়ে সম্মিলিত সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রমাণ পাওয়া যায় না।
প্রচারণা শুরুর আগেও আমি অবগত ছিলাম না; সভাপতিও অবহিত ছিলেন না। এটি স্পষ্ট করে যে, প্রাতিষ্ঠানিক প্রক্রিয়া উপেক্ষা করে একতরফাভাবে সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও বাস্তবায়ন চেষ্টা করা হয়েছে। এ ধরনের কর্মকাণ্ড জাকসুর গণতান্ত্রিক চর্চাকেই প্রশ্নবিদ্ধ করে এবং প্ল্যাটফর্মকে ব্যক্তিগত বা গোষ্ঠীগত স্বার্থে ব্যবহার করার ইঙ্গিত দেয়।"
অন্যদিকে, সমাজসেবা সম্পাদক আহসান লাবিব লিখেছেন, "আমি সর্বপ্রথম জাকসুর ভিপি আব্দুর রশিদ জিতু ভাইয়ের কাছে সমসাময়িক ইস্যু নিয়ে একটি সেমিনার করার বিষয়ে পরামর্শ করেছি। আমি প্রাথমিকভাবে সম্ভাব্য অতিথিদের নাম দিয়েছি এবং জানিয়েছি যে সেমিনারে সব পক্ষকে আমন্ত্রণ দেওয়া হবে।
ভিপি বলেন, ‘প্রোগ্রাম করা যায়, তবে আমাকে না রাখলে ভালো হয়। তুই জিএস মাজহারুল ইসলামের সঙ্গে আলোচনা করে প্রোগ্রাম কর।’ এরপর আমি মাজহার ভাইয়ের সঙ্গে আলোচনা করে বিভিন্ন দল ও মতের একাডেমিক, শিক্ষক ও নেতৃবৃন্দকে এপ্রোচ করি। কিছু শিক্ষক ও নেতৃবৃন্দ সময় দিতে পারেননি।
গতকাল রাত ৮টায় ভিপিকে আপডেট জানাই, কিন্তু তিনি রেসপন্স দেননি। এরপর মাজহার ভাইয়ের সঙ্গে আলোচনা করে কাজ এগিয়ে নিই। পেইজ থেকে পোস্ট দেওয়ার পর ভিপি অভিযোগ করেছেন যে, তার সঙ্গে বিস্তারিত আলাপ করা হয়নি, অথচ প্রথম আলাপই তার সঙ্গে হয়েছে।"







