ক্যাম্পাস
রাষ্ট্রীয় মৌলিক সংস্কার ও মানবাধিকার রক্ষাসংক্রান্ত অধ্যাদেশসমূহ বাতিলের চক্রান্তের প্রতিবাদে রাকসুর বিবৃতি

গণভোটের জনমত উপেক্ষা করে রাষ্ট্রীয় মৌলিক সংস্কার ও মানবাধিকার রক্ষাসংক্রান্ত অধ্যাদেশসমূহ বাতিলের চক্রান্তের প্রতিবাদ জানিয়েছে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (রাকসু)।
বুধবার (৮ এপ্রিল) সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় রাকসুর ভিপি, জিএস ও এজিএস স্বাক্ষরিত এক বিবৃতিতে এ প্রতিবাদ জানানো হয়।
বিবৃতিতে রাকসু নেতৃবৃন্দ বলেন, জুলাই–আগস্টের ছাত্র-জনতার রক্তক্ষয়ী বিপ্লবের মাধ্যমে যে নতুন বাংলাদেশের স্বপ্ন তৈরি হয়েছে, এই অধ্যাদেশগুলো ছিল তার আইনি ভিত্তি। সাম্প্রতিক গণভোটে দেশের মানুষ রাষ্ট্র সংস্কারের পক্ষে নিরঙ্কুশ রায় দেওয়ার পরও এই অধ্যাদেশগুলো বাতিলের চেষ্টা করা জনগণের রায়ের প্রতি সুস্পষ্ট অবজ্ঞা। বিগত স্বৈরাচারী আমলে আমরা দেখেছি কীভাবে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে পঙ্গু করে গুম, বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড ও বিচারহীনতার সংস্কৃতি তৈরি করা হয়েছিল। এই অধ্যাদেশগুলো বাতিলের অর্থ হলো পুনরায় সেই ফ্যাসিবাদী কাঠামোর পথ প্রশস্ত করা, যা দেশের সাধারণ শিক্ষার্থীদের তথা আপামর জনসাধারণের জন্য চরম উদ্বেগের।
তারা বলেন, রাবি ও রাকসু সবসময়ই অন্যায়ের বিরুদ্ধে আপসহীন। আমাদের অসংখ্য সহযোদ্ধা জুলাই বিপ্লবে জীবন দিয়েছেন এবং পঙ্গুত্ব বরণ করেছেন কেবল একটি ইনসাফভিত্তিক সমাজ ও রাষ্ট্র বিনির্মাণের লক্ষ্যে। সেই শহীদী আকাঙ্ক্ষাকে পদদলিত করে কোনো স্বার্থান্বেষী মহলকে আমরা রাষ্ট্র সংস্কারের পথ রুদ্ধ করতে দেব না।
সরকারের কাছে দাবি জানিয়ে বিবৃতিতে আরও বলা হয়, অবিলম্বে অধ্যাদেশসমূহ বাতিলের প্রস্তাব প্রত্যাহার করতে হবে। গণভোটের মাধ্যমে প্রতিফলিত জনআকাঙ্ক্ষাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর আমূল সংস্কার নিশ্চিত করতে হবে। গুম ও বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের পথ চিরতরে বন্ধ করতে আইনি রক্ষাকবচগুলো আরও শক্তিশালী করতে হবে।
রাকসু নেতারা সতর্ক করে বলেন, ছাত্র-জনতার ত্যাগের বিনিময়ে অর্জিত এই স্বাধীনতাকে কোনো আপসকামিতার মাধ্যমে বিপন্ন হতে দেওয়া হবে না। যদি ফ্যাসিবাদের পুনরুত্থানের কোনো অপচেষ্টা চালানো হয়, তবে রাবি থেকে আবারও তীব্র গণআন্দোলনের সূচনা করা হবে।







