ক্যাম্পাস
রুয়েটে দুই বিভাগের শিক্ষার্থীদের সংঘর্ষ: ভাঙচুর ও রাজনৈতিক ইন্ধনের পাল্টাপাল্টি অভিযোগ

রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (রুয়েট) যন্ত্রকৌশল এবং কম্পিউটার বিজ্ঞান ও প্রকৌশল (সিএসই) বিভাগের শিক্ষার্থীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। বুধবার (৮ এপ্রিল) সন্ধ্যায় এই সংঘর্ষে উভয় পক্ষের অন্তত ৫–৬ জন শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন। এ সময় ক্যাম্পাসের একটি দোকানের কয়েকটি চেয়ারও ভাঙচুর করা হয়। ল্যাপটপ ব্যবহার ও ব্যক্তিগত তথ্য চুরির অভিযোগকে কেন্দ্র করে শুরু হওয়া এই বিবাদের পেছনে রাজনৈতিক সম্পৃক্ততার পাল্টাপাল্টি অভিযোগও উঠেছে।
ঘটনার সূত্রপাত হয় ৪ এপ্রিল রাতে। সিএসই বিভাগের শিক্ষার্থী সাকিব রেজা জানান, তার রুমমেট যন্ত্রকৌশল বিভাগের ফয়সাল নাহার ও ফারহান তানভীর তোর্সা তার ল্যাপটপ থেকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের ব্যক্তিগত তথ্য এবং কথোপকথন হাতিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেন। বিষয়টি টের পেয়ে সাকিব তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করলে ধাক্কাধাক্কির ঘটনা ঘটে। নিরাপত্তাহীনতার কারণে তিনি বাসা ছেড়ে ক্যাম্পাসে চলে আসেন।
মীমাংসার উদ্দেশ্যে বুধবার সন্ধ্যায় উভয় বিভাগের শিক্ষার্থীরা ক্যাম্পাসের ‘ফটিক জল’-এর সামনে বসেন। প্রত্যক্ষদর্শীদের তথ্য অনুযায়ী, সেখানে যন্ত্রকৌশল বিভাগের ১৫–১৭ জন এবং সিএসই বিভাগের ১০–১২ জন শিক্ষার্থী উপস্থিত ছিলেন। আলোচনার সময় উত্তেজনা বাড়ে এবং সংঘর্ষ শুরু হয়ে শারীরিক শিক্ষা কেন্দ্রের দিকে ছড়িয়ে পড়ে। এ সময় একটি দোকানের ৭–৮টি চেয়ার ভাঙচুর করা হয়।
সাকিব রেজা অভিযোগ করেছেন, রাজনৈতিক বিদ্বেষের কারণে তার তথ্য চুরির চেষ্টা ও উপর হামলা করা হয়েছে। সংঘর্ষের সময় তাকে বাঁচাতে এসে তার সহপাঠী রাহী গুরুতর আহত হন। আহত রাহিকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এবং সাকিবকে রুয়েট মেডিকেল সেন্টারে চিকিৎসা দেয়া হয়েছে। তিনি ঘটনার সুষ্ঠু বিচার দাবি করেছেন।
অন্যদিকে, যন্ত্রকৌশল বিভাগের শিক্ষার্থী লাবিব সিদ্দিকের দাবি, সাকিবের অনুমতিতে ফয়সাল ও ফারহান তার ল্যাপটপ ব্যবহার করছিলেন। তবে ল্যাপটপে রাজনৈতিক বিষয় দেখার অভিযোগে সাকিব উত্তেজিত হয়ে তাদের ওপর হামলা চালান এবং হত্যার হুমকি দেন। মীমাংসা বৈঠকেও সাকিব ঔদ্ধত্যপূর্ণ আচরণ করেন এবং সংঘর্ষ শুরু হয়। সংঘর্ষে যন্ত্রকৌশল বিভাগের মুমিন, তাশফিক ও অন্যান্য শিক্ষার্থীরা আহত হন এবং প্রাথমিক চিকিৎসা নেন।
খবর পেয়ে রুয়েটের ছাত্রকল্যাণ পরিচালক অধ্যাপক ড. রবিউল ইসলাম সরকার, সহকারী ছাত্রকল্যাণ পরিচালক আবু ইসমাইল সিদ্দিকী এবং নিরাপত্তা শাখার প্রধান আবুল হাশেম দ্রুত ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। নিরাপত্তা শাখার প্রধান বলেন, “ঘটনার পরপরই আমরা আহতদের চিকিৎসার ব্যবস্থা করেছি। ইতোমধ্যে তদন্ত শুরু হয়েছে। তদন্ত সাপেক্ষে দোষীদের বিরুদ্ধে যথাযথ প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”







