ক্যাম্পাস
ঝিনাইদহে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের ওপর লাঞ্ছনা ও ভিডিও ছড়িয়ে অপপ্রচার

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়-এর (ইবি) দুই ছাত্রীকে শ্লীলতাহানি, শারীরিক লাঞ্ছনা এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভিডিও ছড়িয়ে অপপ্রচারের অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় একদল যুবকের বিরুদ্ধে। গত শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) ঝিনাইদহ শহরের মুজিব চত্বর সংলগ্ন শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে এ ঘটনা ঘটে।
এ ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিন্যান্স অ্যান্ড ব্যাংকিং বিভাগের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী উর্মিলা তন্বী ও ইশমাম হোসেন তন্দ্রা বাদী হয়ে ঝিনাইদহ সদর থানায় মামলা দায়ের করেছেন। অভিযুক্তরা হলেন— হাসিবুল রহমান (২০), সোহেল আহম্মদ (২১), খন্দকার সাব্বির (২০) ও মাশরাফি আলম প্রাপ্য (২০)। এছাড়া অজ্ঞাতনামা আরও ১৫–২০ জনকে আসামি করা হয়েছে।
এজাহার সূত্রে জানা যায়, ২৪ এপ্রিল সন্ধ্যা আনুমানিক ৭টার দিকে ফিন্যান্স অ্যান্ড ব্যাংকিং বিভাগের চারজন শিক্ষার্থী (যাদের মধ্যে একটি দম্পতিও ছিলেন) ঝিনাইদহ শহরের শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে বিশ্ববিদ্যালয়ের বাসের জন্য অপেক্ষা করছিলেন। এ সময় স্থানীয় কয়েকজন যুবক তাদের উদ্দেশে অশালীন মন্তব্য ও পোশাক নিয়ে কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য করতে থাকে। শিক্ষার্থীরা প্রতিবাদ করলে অভিযুক্তরা সংঘবদ্ধ হয়ে তাদের ঘিরে ফেলে।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, অভিযুক্তরা তাদের গায়ে হাত দেয় এবং পোশাক টানাটানি করে শ্লীলতাহানির চেষ্টা চালায়। এ সময় তাদের সহপাঠী শাকিলকে মারধর করা হয়। একপর্যায়ে অভিযুক্তরা মোবাইল ফোনে ঘটনার ভিডিও ধারণ করে এবং সেখানে একটি উচ্ছৃঙ্খল জনসমাগম (মব) সৃষ্টি হয়।
ভুক্তভোগী ছাত্রীরা জানান, ঘটনার সময় পুলিশকে খবর দেওয়া হলে তারা ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়; তবে অভিযুক্তরা তখনও বেপরোয়া আচরণ করতে থাকে। পরবর্তীতে ধারণকৃত ভিডিওগুলো ‘ঝিনেদার আকাশ’, ‘Creative By Prapp’, ‘নবগঙ্গা টিভি’, ‘Daily Jhenaidah’ এবং ‘সোহেল রানা সেতু’সহ বিভিন্ন ফেসবুক পেজ ও ব্যক্তিগত প্রোফাইল থেকে ছড়িয়ে দেওয়া হয়।
মামলার বাদী উর্মিলা তন্বী ও ইশমাম হোসেন তন্দ্রা বলেন, ‘আমাদের অনুমতি ছাড়া ভিডিও ধারণ করে মিথ্যা ও বিভ্রান্তিকর ক্যাপশন ব্যবহার করে বিকৃতভাবে প্রচার করা হচ্ছে। এতে আমাদের ব্যক্তিগত সম্মান ও নিরাপত্তা হুমকির মুখে পড়েছে। আমরা এই সাইবার বুলিং ও লাঞ্ছনার দৃষ্টান্তমূলক বিচার চাই।’
তারা আরও বলেন, “প্রচারিত ভিডিওগুলো দ্রুত অপসারণ করে সংশ্লিষ্টদের ক্ষমা চাওয়া উচিত। ভবিষ্যতে এমন ঘটনা প্রতিরোধে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের একটি হেল্প ডেস্ক থাকা প্রয়োজন, যাতে শিক্ষার্থীরা দ্রুত অভিযোগ জানাতে পারে।”
এ বিষয়ে ঝিনাইদহ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সামসুল আরেফিন বলেন, ‘আমরা অভিযোগ পেয়েছি। দ্রুত তদন্ত করে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’






