ক্যাম্পাস

হলে ফেরার পথে জাবি ছাত্রীকে বহিরাগত কর্তৃক ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগ

জাবি প্রতিনিধি

শেয়ারঃ

হলে ফেরার পথে জাবি ছাত্রীকে বহিরাগত কর্তৃক ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগ- খবরের থাম্বনেইল ফটো

আবাসিক হলে ফেরার পথে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের এক ছাত্রীকে রাস্তা থেকে টেনেহিঁচড়ে নিয়ে জোরপূর্বক ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগ উঠেছে এক বহিরাগত যুবকের বিরুদ্ধে।


মঙ্গলবার (১২ মে) রাত ১১টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিত্যক্ত পুরাতন ফজিলতুন্নেছা হল সংলগ্ন এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। পরে ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীকে উদ্ধার করে বিশ্ববিদ্যালয়ের চিকিৎসাকেন্দ্রে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়।


ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী বিশ্ববিদ্যালয়ের জীববিজ্ঞান অনুষদের ৫১তম ব্যাচের শিক্ষার্থী বলে জানা গেছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, অভিযুক্ত যুবক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী নন।


এ ঘটনায় সিসিটিভি ফুটেজে এক ব্যক্তিকে ঘটনাস্থলের আশপাশে ঘোরাফেরা করতে দেখা গেলেও এখনো তার পরিচয় শনাক্ত করা যায়নি বলে জানিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।


বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তা শাখা কার্যালয়ে ভুক্তভোগীর সঙ্গে থাকা কয়েকজন শিক্ষার্থী জানান, রাত ১১টার দিকে ওই শিক্ষার্থী হলের দিকে যাচ্ছিলেন। এ সময় এক ব্যক্তি তার পিছু নেন। একপর্যায়ে পুরাতন ফজিলতুন্নেছা হল সংলগ্ন সড়কে ওই ব্যক্তি তার কাছে এসে কথা বলতে শুরু করেন।


এ সময় ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী তাকে জিজ্ঞেস করেন, তিনি ক্যাম্পাসের শিক্ষার্থী কি না। উত্তরে অভিযুক্ত ব্যক্তি নিজেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪৮তম ব্যাচের শিক্ষার্থী পরিচয় দিয়ে বলেন, তিনি পাশের বিশমাইল এলাকায় থাকেন। কথোপকথনের একপর্যায়ে অভিযুক্ত ব্যক্তি কাপড় দিয়ে শিক্ষার্থীর গলা পেঁচিয়ে তাকে নির্জন স্থানে টেনে নিয়ে ধর্ষণের চেষ্টা করেন বলে অভিযোগ উঠেছে।


পরে ভুক্তভোগীর চিৎকার শুনে কয়েকজন শিক্ষার্থী ঘটনাস্থলের দিকে এগিয়ে গেলে অভিযুক্ত ব্যক্তি পালিয়ে যায়। ঘটনাস্থলে গিয়ে তারা ওই নারী শিক্ষার্থীকে আতঙ্কিত অবস্থায় জঙ্গলের পাশে দেখতে পান। প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, তার শরীর ও পোশাকে মাটি লেগে ছিল।


পরবর্তীতে তাকে উদ্ধার করে বিশ্ববিদ্যালয়ের চিকিৎসাকেন্দ্রে নেওয়া হয়। চিকিৎসাকেন্দ্রের কর্তব্যরত চিকিৎসক তানভীর হোসেন জানান, ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।


এ ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক একেএম রাশিদুল আলম বলেন, “এটি অত্যন্ত ন্যাক্কারজনক একটি ঘটনা। আমরা সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে অভিযুক্তকে শনাক্তের চেষ্টা করছি, তবে এখনো তার পরিচয় নিশ্চিত করা যায়নি। ক্যাম্পাসের বিভিন্ন স্থানে সিসিটিভি রয়েছে, সেগুলো বিশ্লেষণ করে শিগগিরই পরিষ্কার ধারণা পাওয়া যাবে। ভুক্তভোগীর পাশে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন রয়েছে এবং দ্রুত আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”


সম্পর্কিত খবর