ক্যাম্পাস

ঢাবিতে ইয়াং স্কলার সেমিনার অনুষ্ঠিত

ঢাবি প্রতিনিধি

শেয়ারঃ

ঢাবিতে ইয়াং স্কলার সেমিনার অনুষ্ঠিত- খবরের থাম্বনেইল ফটো

তরুণ গবেষকদের একাডেমিক চিন্তা, গবেষণা দক্ষতা ও সমসাময়িক রাজনৈতিক-সামাজিক বিষয়ে বিশ্লেষণধর্মী দৃষ্টিভঙ্গি বিকাশের লক্ষ্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে দিনব্যাপী ‘ইয়াং স্কলার সেমিনার (ওয়াইএসএস)- ২০২৬’ অনুষ্ঠিত হয়েছে। বুধবার (১৩ মে) সকাল ১০টায় রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগে আয়োজিত এ সেমিনার উদ্বোধন করা হয়। দিনব্যাপী বিভিন্ন সেশন শেষে সার্টিফিকেট প্রদান অনুষ্ঠানের মাধ্যমে সেমিনারটি শেষ হয়।


অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক ড. আব্দুস সালাম। বিশেষ অতিথি ছিলেন সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের ডিন (ভারপ্রাপ্ত) অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ মঈনুল ইসলাম। সভাপতিত্ব করেন রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. নাসিমা খাতুন।


সেমিনারে ‘গভর্ন্যান্স, ডেমোক্রেসি অ্যান্ড ইলেকটোরাল পলিটিক্স’, ‘পাবলিক পলিসি, গভর্ন্যান্স অ্যান্ড সোসাইটি’ এবং ‘ইন্টারন্যাশনাল রিলেশনস, পলিটিক্যাল চেঞ্জ অ্যান্ড আইডিওলজি’ এই তিনটি থিমের ওপর নির্বাচিত ১৪টি গবেষণাপত্র উপস্থাপন করা হয়।


উপস্থাপিত গবেষণাপত্রের মধ্যে ছিল ‘সিক্সটিন ইয়ার্স অব ফিয়ার: এনফোর্সড ডিসঅ্যাপিয়ারেন্স ইন পোস্ট-২০০৯ বাংলাদেশ’, ‘ট্রান্সপারেন্সি উইদাউট গভর্ন্যান্স ট্র্যাপ’, ‘রিফর্মস অব ইলেকশন কমিশন অব বাংলাদেশ’, ‘এআই অ্যান্ড পাবলিক সেক্টর ট্রান্সফরমেশন’ এবং ‘দ্য রিটার্ন অব রাইট: আন্ডারস্ট্যান্ডিং দ্য গ্লোবাল রিসার্জেন্স অব রাইট উইং পলিটিক্স’সহ সমসাময়িক বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। 


বিভিন্ন সেশনে সভাপতিত্ব ও আলোচক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন বিভাগের অধ্যাপক ড. ফরিদ উদ্দিন আহমেদ, অধ্যাপক ড. সাব্বির আহমেদ, অধ্যাপক ড. গোবিন্দ চক্রবর্তী, অধ্যাপক ড. শান্তনু মজুমদার, অধ্যাপক কাজী মোহাম্মদ মাহবুবুর রহমান, অধ্যাপক মোহাম্মদ আইনুল ইসলাম, সহযোগী অধ্যাপক মো. মনিরুল ইসলাম, সহযোগী অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ বদরুল হাসান এবং সহযোগী অধ্যাপক শারমিন ভূঁইয়া। সেমিনারটির সার্বিক তত্বাবধানে ছিলে অধ্যাপক ড. শান্তনু মজুমদার।


প্রধান অতিথির বক্তব্যে অধ্যাপক ড. আব্দুস সালাম বলেন, বর্তমান বিশ্বে উদ্ভাবন ও গবেষণার গুরুত্ব অত্যন্ত বেশি। গবেষণার সঙ্গে নীতি-নির্ধারণ ও সমাজ পরিবর্তনের সম্পর্ক তুলে ধরে তিনি বলেন, বিজ্ঞানীদের গবেষণা ও উদ্ভাবন সঠিকভাবে প্রয়োগ করে মানবকল্যাণ নিশ্চিত করতে হয়। এ ক্ষেত্রে পলিটিক্যাল সায়েন্টিস্ট, পলিসি মেকার ও গবেষকদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।


ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ঐতিহাসিক ভূমিকার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, শিক্ষা ও গবেষণাকে আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করতে হবে। ১৯৭১, ১৯৯০ কিংবা ২০২৪ সালের আন্দোলন- সব ক্ষেত্রেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় জাতিকে নেতৃত্ব দিয়েছে।


বিশ্ববিদ্যালয়ের বৈশ্বিক র‌্যাংকিং প্রসঙ্গে তিনি বলেন, গবেষণার মানোন্নয়ন ও আন্তর্জাতিক মানের জার্নালে প্রকাশনা বাড়াতে হবে। গবেষণা, ওয়েবসাইট ও একাডেমিক কার্যক্রমের আন্তর্জাতিক দৃশ্যমানতা বাড়াতে পারলে বিশ্ববিদ্যালয়ের র‌্যাংকিং আরও উন্নত হবে।


রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. ফরিদ উদ্দিন আহমেদ বলেন, এ ধরনের গবেষণামূলক আয়োজন শিক্ষার্থীদের জ্ঞান ও দক্ষতা বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। শিক্ষার্থীদের গবেষণা ও একাডেমিক কার্যক্রমে আরও বেশি সম্পৃক্ত হওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, নিয়মিত গবেষণা সেমিনারে অংশগ্রহণ করলে শিক্ষার্থীদের জ্ঞান, উপস্থাপনা দক্ষতা ও লেখার সক্ষমতা বৃদ্ধি পাবে।


তিনি আরও বলেন, গবেষণার পাশাপাশি প্রকাশনার দিকেও গুরুত্ব দিতে হবে। এখন থেকেই পরিকল্পনা করে কাজ করলে শিক্ষার্থীরা ভবিষ্যতে আন্তর্জাতিক মানের জার্নালে গবেষণাপত্র প্রকাশ করতে পারবে।


অনুষ্ঠানে বক্তারা রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থীদের গবেষণামুখী শিক্ষা ও একাডেমিক উৎকর্ষ অর্জনের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। পাশাপাশি ভবিষ্যতে নিয়মিতভাবে এ ধরনের ইয়াং স্কলার সেমিনার আয়োজনের প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।


সম্পর্কিত খবর