ক্যাম্পাস

রাবিতে আন্তর্জাতিক থ্যালাসেমিয়া দিবস পালিত

রাবি প্রতিনিধি

শেয়ারঃ

রাবিতে আন্তর্জাতিক থ্যালাসেমিয়া দিবস পালিত- খবরের থাম্বনেইল ফটো

'আর গোপন নয় ;অশনাক্তকে খুঁজে বের করা, অদৃশ্যকে সহায়তা করা' স্লোগানকে সামনে রেখে সারা বিশ্বের ন্যায় রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি) পালিত হয়েছে আন্তজার্তিক থ্যালাসেমিয়া সচেতনতা দিবস - ২০২৬।


মঙ্গলবার ( ১২ মে) বেলা ১২ টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং ও বায়োটেকনোলজি বিভাগের উদ্যোগে শিক্ষার্থীদের নিয়ে সেমিনার আয়োজনের মাধ্যমে দিবসটি পালিত হয়।


সেমিনারে বক্তারা থ্যালাসেমিয়া রোগের লক্ষণ, থ্যালাসেমিয়া রোগ হলে পরিবার সমাজের করণীয় এবং প্রতিরোধের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।


বিশেষ অতিথির বক্তব্যে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের কনসালট্যান্ট সাইকিয়াট্রিস্ট ডাঃ মোঃ রাকিবুজ্জামান চৌধুরী সৈকত বলেন, থ্যালাসেমিয়া রোগীদের জন্য পরিবারই সবচেয়ে বড় শক্তি। সন্তানের সামনে অতিরিক্ত দুশ্চিন্তা প্রকাশ করবেন না। নিয়মিত রক্তদান ও ফলো-আপ কখনো বাদ দেবেন না। অভিভাবকের মানসিক স্বাস্থ্যও গুরুত্বপূর্ণ- নিজেকে অবহেলা করবেন না।


শিক্ষক ও সমাজের করণীয় সম্পর্কে বলেন, স্কুল ও সমাজের উচিত সবাই মিলে সহায়ক পরিবেশ তৈরি করি। শিক্ষক ও সহপাঠীদের খ্যালাসেমিয়া সম্পর্কে জানান। বৈষম্য ও ঠাট্টা বন্ধ করা প্রয়োজন। সহপাঠীদের উৎসাহিত করুন সহানুভূতিশীল আচরণে - বন্ধুত্বই সবচেয়ে বড় ওষুধ। বয়স্ক রোগীদের কাজের জায়গায় বোঝাপড়া ও নমনীয়তা নিশ্চিত করুন।


সেমিনার বক্তা হিসেবে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের রক্তরোগ মেডিসিন, থ্যালাসেমিয়া ও ব্লাড ক্যান্সার বিশেষজ্ঞ ডাঃ মোঃ মারুফ আল হাসান বলেন, থ্যালাসেমিয়া মুলত একটি রক্তস্বল্পতাজনিত বংশগত রোগ যা শরীরে কম পরিমাণ হিমোগ্লোবিন তৈরি হয়। ফলে লোহওত রক্তকণিকা সঠিকভাবে উৎপাদন হতে পারে না এবল তা দ্রুত নষ্ট হয়ে যায়। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে সন্তান জন্মগ্রহণের এক বা দুি বছরের মধ্যে উপসর্গ হিসেবে রক্তস্বল্পতা দেখা দিলে মুলত থ্যালাসেমিয়া রোগটি ধরা পড়ে।


থ্যালাসেমিয়া রোগে করণীয় সম্পর্কে তিনি বলেন, থ্যালাসেমিয়া রোগীদের উচিত, রক্তরোগ বিশেষজ্ঞের পরামর্শ ও চিকিৎসা গ্রহণ, নিয়মিতভাবে রোগীর শারীরিক ও মানসিক বৃদ্ধি পর্যবেক্ষণ করা এবং ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী ঔষধ গ্রহণ এবং নিয়মিত রক্ত পরিসঞ্চালন যাতে হিমোগ্লোবিন গ্রহনযোগ্যতা মাত্রা বজায় থাকে।


সভাপতির বক্তব্যে জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং ও বায়োটেকনোলজি বিভাগের চেয়্যারrম্যান অধ্যাপক মোঃ আসাদুল ইসলাম বলেন, আমরা এই থ্যালাসেমিয়া রোগটাকে নিরব ঘাতক বলে থাকি। এটা মেজর একটা পাবলিক হেলথ চ্যালেন্জ। এই রোগটা আমাদের বংশে আর হবে না শুধু মাত্র আমরা যদি সচেতন হতে পারি। থ্যালাসেমিয়া সম্পর্কে সচেতনতা সৃষ্টি বর্তমানে অত্যন্ত জরুরি। থ্যালাসেমিয়ার কারণ, প্রতিরোধ ও প্রতিকার নিয়ে আমাদের সকলেরই জানা উচিত।


তিনি বলেন, বাংলাদেশে এ বিষয়ে জাতীয় পর্যায়ে তেমন কোনো কার্যকর কর্মসূচি না থাকায় এ ধরনের সচেতনতামূলক আয়োজন সময়োপযোগী ও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।


উল্লেখ্য, আন্তর্জাতিক থ্যালাসেমিয়া দিবস প্রতি বছরই বিশ্বজুড়ে পালিত হয়। এই দিবসটি থ্যালাসেমিয়া নামক মারাত্মক বংশগত রক্তরোগ সম্পর্কে জনসচেতনতা তৈরি, রোগ প্রতিরোধ এবং রোগীদের জীবনব্যাপী সংগ্রামের প্রতি সহমর্মিতা প্রদর্শনের জন্য উদযাপিত হয়।


সম্পর্কিত খবর