জাতীয়

দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক ও বৈশ্বিক পর্যায়ে সহযোগিতা জোরদারে আগ্রহী বাংলাদেশ ও রাশিয়া

ডেস্ক

শেয়ারঃ

দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক ও বৈশ্বিক পর্যায়ে সহযোগিতা জোরদারে আগ্রহী বাংলাদেশ ও রাশিয়া- খবরের থাম্বনেইল ফটো

জ্বালানি, বাণিজ্য, বিনিয়োগ এবং শিক্ষাসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতা জোরদার করার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেছে বাংলাদেশ ও রাশিয়া।


সোমবার মস্কোতে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান এবং রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই লাভরভের মধ্যে এক বৈঠকে এ বিষয়ে আলোচনা হয়।


পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, বৈঠকে দুই পররাষ্ট্রমন্ত্রী সমসাময়িক আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক বিষয় নিয়ে মতবিনিময় করেন।


জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের (ইউএনজিএ) ৮১তম অধিবেশনের সভাপতি নির্বাচিত হওয়ার পর এটি ড. খলিলুর রহমানের প্রথম দ্বিপক্ষীয় বিদেশ সফর। রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই লাভরভের আমন্ত্রণে তিনি তিন দিনের সরকারি সফরে মস্কো যান।


লাভরভ ইউএনজিএ সভাপতির দায়িত্ব গ্রহণের জন্য ড. খলিলুর রহমানকে অভিনন্দন জানান এবং জাতিসংঘকে আরও কার্যকর ও বৈশ্বিক ইস্যুতে কেন্দ্রীয় ভূমিকা জোরদারে তার প্রচেষ্টায় রাশিয়ার পূর্ণ সমর্থনের আশ্বাস দেন।


তিনি বলেন, “আমরা জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের বাস্তবমুখী ফলাফলের অপেক্ষায় আছি। এই মর্যাদাপূর্ণ দায়িত্ব পালনে রাশিয়া ড. খলিলুর রহমানের পাশে থাকবে।”


রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, দুই দেশের মধ্যে দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক বিদ্যমান রয়েছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, আগামী বছরের জানুয়ারিতে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের ৫৫তম বার্ষিকী বাণিজ্য, অর্থনীতি, সংস্কৃতি এবং সামরিক ও প্রযুক্তিগত সহযোগিতার মাধ্যমে উদযাপন করা হবে।


তিনি আরও বলেন, বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে দুই দেশের মধ্যে রাজনৈতিক সংলাপ স্থিতিশীলভাবে অগ্রসর হচ্ছে এবং মস্কো এই সফরের মাধ্যমে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরও এগিয়ে নিতে চায়।


বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন, প্রধানমন্ত্রী মিখাইল মিশুস্তিন এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই লাভরভের প্রতি বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর শুভেচ্ছা বার্তা পৌঁছে দেন। একই সঙ্গে তিনি রাশিয়ার সঙ্গে সম্পর্ক আরও জোরদারের বিষয়ে বাংলাদেশের প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেন।


১৯৭১ সালের বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধে সোভিয়েত ইউনিয়নের সহযোগিতার কথা স্মরণ করে ড. খলিলুর রহমান তৎকালীন সোভিয়েত ইউনিয়নের ভূমিকার প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। বিশেষ করে স্বাধীনতার পর চট্টগ্রাম বন্দর মাইনমুক্ত করতে সোভিয়েত নৌবাহিনীর অবদানের কথাও তিনি উল্লেখ করেন।


তিনি বলেন, বাণিজ্য, শিক্ষা, জ্বালানি ও প্রতিরক্ষা খাতে দুই দেশের সম্পর্ক সম্প্রসারিত হচ্ছে এবং এসব ক্ষেত্র আরও শক্তিশালী করার লক্ষ্যে বাংলাদেশ কাজ করছে।


বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রকে দুই দেশের অংশীদারিত্বের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতীক হিসেবে উল্লেখ করেন এবং প্রকল্পটি দ্রুত পূর্ণাঙ্গভাবে চালু হবে বলে আশা প্রকাশ করেন।


দ্বিপক্ষীয় বৈঠক শেষে দুই পররাষ্ট্রমন্ত্রী যৌথ সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য দেন। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের মতে, বৈঠকে জাতিসংঘসহ বহুপক্ষীয় ফোরামে সহযোগিতা এবং অর্থনৈতিক সম্পৃক্ততা বৃদ্ধির সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হয়।


উল্লেখ্য, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বাংলাদেশ ও রাশিয়ার মধ্যে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য ধারাবাহিকভাবে প্রায় ২ বিলিয়ন (২০০ কোটি) মার্কিন ডলারের বেশি পর্যায়ে রয়েছে। পাশাপাশি জ্বালানি, শিক্ষা ও কারিগরি খাতেও সহযোগিতা ক্রমাগত বৃদ্ধি পাচ্ছে।


সম্পর্কিত খবর