ক্যাম্পাস

জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় সম্মিলিত উদ্যোগের আহ্বান, বিশ্ব পরিবেশ দিবসে চবিতে র‌্যালি ও আলোচনা সভা

চবি প্রতিনিধি

শেয়ারঃ

জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় সম্মিলিত উদ্যোগের আহ্বান, বিশ্ব পরিবেশ দিবসে চবিতে র‌্যালি ও আলোচনা সভা- খবরের থাম্বনেইল ফটো

‘জলবায়ু পরিবর্তন: আজকের পদক্ষেপ, আগামীর নিরাপত্তা’ প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে (চবি) বিশ্ব পরিবেশ দিবস ২০২৬ উদযাপিত হয়েছে।


বৃহস্পতিবার (১১ জুন) বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনস্টিটিউট অব ফরেস্ট্রি অ্যান্ড এনভায়রনমেন্টাল সায়েন্সের উদ্যোগে বর্ণাঢ্য র‌্যালি, বৃক্ষরোপণ, পোস্টার ও পরিবেশগত মডেল প্রদর্শনী এবং আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়।


সকাল সাড়ে ১০টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ মিনার প্রাঙ্গণ থেকে একটি বর্ণাঢ্য র‌্যালি বের করা হয়। র‌্যালিটি রেজিস্ট্রার ভবন এলাকায় গিয়ে শেষ হয়। পরে বিশ্ববিদ্যালয় চত্বরে স্মারক বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।


অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আল-ফোরকান। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপ-উপাচার্য (একাডেমিক) অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আল-আমীন, উপ-উপাচার্য (প্রশাসনিক) অধ্যাপক ড. মো. সফিকুল ইসলাম, বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার (ভারপ্রাপ্ত) মোহাম্মদ সালামত উল্লাহ এবং প্রক্টর অধ্যাপক ড. মো. সফিকুল ইসলাম।


সকাল সাড়ে ১১টায় ইনস্টিটিউটের অডিটোরিয়ামে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক ড. মো. আখতার হোসেন।


স্বাগত বক্তব্যে তিনি বলেন, “এর আগে অনেকবার পরিবেশ দিবস উদযাপন করেছি, তবে এবারের আয়োজন আমাদের জন্য বিশেষ, কারণ সম্প্রতি আমরা জাতীয় পরিবেশ পদক অর্জন করেছি। পরিবেশ দূষণের কারণে নানা ধরনের জটিল রোগ, বিশেষ করে ক্যান্সারের মতো রোগের প্রকোপ বাড়ছে। পরিবেশ সংরক্ষণে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং প্রকৃতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ জীবনযাপনই আমাদেরকে এসব ঝুঁকি থেকে রক্ষা করতে পারে।”


আলোচনা সভায় মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সহকারী অধ্যাপক ড. মো. আব্দুল্লাহ আল মামুন। তিনি জলবায়ু পরিবর্তনের কারণ, প্রভাব এবং এর দীর্ঘমেয়াদি বৈশ্বিক প্রেক্ষাপট তুলে ধরেন। পাশাপাশি পরিবেশ রক্ষায় করণীয় বিভিন্ন বিষয়ে সচেতনতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করেন।


অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ইনস্টিটিউটের পরিচালক অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ মোশাররফ হোসেন।


প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আল-ফোরকান বলেন, “জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব আজ বিশ্ববাসীর জন্য অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ। টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করতে পরিবেশবান্ধব জীবনধারা গড়ে তুলতে হবে। জলবায়ুর ভারসাম্য রক্ষায় আমাদের সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।”


তিনি আরও বলেন, “ইনস্টিটিউট অব ফরেস্ট্রি অ্যান্ড এনভায়রনমেন্টাল সায়েন্সের তত্ত্বাবধানে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রায় ৫৬০ একর এলাকায় বনায়ন কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। এ কার্যক্রমের স্বীকৃতি হিসেবে প্রতিষ্ঠানটি জাতীয় পর্যায়ে পুরস্কৃত হয়েছে।”


উপ-উপাচার্য (একাডেমিক) অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আল-আমীন বলেন, “পরিবেশ রক্ষায় সচেতনতা তৈরির পাশাপাশি গবেষণা ও উদ্ভাবন কার্যক্রমকে আরও জোরদার করতে হবে। এ ক্ষেত্রে বিশ্ববিদ্যালয়গুলো গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।”


উপ-উপাচার্য (প্রশাসনিক) অধ্যাপক ড. মো. সফিকুল ইসলাম বলেন, “প্রাকৃতিক সম্পদ সংরক্ষণ এবং সবুজায়ন কার্যক্রম সম্প্রসারণের মাধ্যমে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি নিরাপদ ও বাসযোগ্য পরিবেশ নিশ্চিত করা সম্ভব।”


সভাপতির বক্তব্যে ইনস্টিটিউটের পরিচালক অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ মোশাররফ হোসেন বলেন, “পরিবেশ সংরক্ষণে আমরা দীর্ঘদিন ধরে কাজ করে যাচ্ছি। ইতোমধ্যে তিনবার প্রধানমন্ত্রীর পদক এবং চলতি বছর জাতীয় পরিবেশ পদক অর্জন করেছি। ভবিষ্যতেও আমাদের কার্যক্রম আরও বিস্তৃত করার পরিকল্পনা রয়েছে।”


বক্তারা জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবিলায় পরিবেশ সংরক্ষণ, বনভূমি রক্ষা, কার্বন নিঃসরণ হ্রাস এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করেন। একই সঙ্গে পরিবেশবান্ধব সমাজ গঠনে তরুণ প্রজন্মকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।


সম্পর্কিত খবর