ক্যাম্পাস

ছাত্রত্ব শেষ হওয়ায় প্রশ্নবিদ্ধ জাকসুর ভিপি-জিএসের পদ

জাবি প্রতিনিধি

শেয়ারঃ

ছাত্রত্ব শেষ হওয়ায় প্রশ্নবিদ্ধ জাকসুর ভিপি-জিএসের পদ- খবরের থাম্বনেইল ফটো

প্রায় ৩৩ বছর পর গত বছরের ১১ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (জাকসু) নির্বাচনে সহ-সভাপতি (ভিপি) নির্বাচিত হন আব্দুর রশিদ জিতু এবং সাধারণ সম্পাদক (জিএস) নির্বাচিত হন মাজহারুল ইসলাম। তবে বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়ম অনুযায়ী তাদের ছাত্রত্ব শেষ হয়ে যাওয়ায় পদে বহাল থাকা নিয়ে ক্যাম্পাসজুড়ে আলোচনা-সমালোচনা চলছে।


খোঁজ নিয়ে জানা যায়, জাকসুর ভিপি আব্দুর রশিদ জিতু বিশ্ববিদ্যালয়ের তুলনামূলক সাহিত্য ও সংস্কৃতি ইনস্টিটিউটের ৪৭তম ব্যাচের শিক্ষার্থী এবং জিএস মাজহারুল ইসলাম ইংরেজি বিভাগের ৪৮তম ব্যাচের শিক্ষার্থী। তারা দুজনই জাকসু নির্বাচনকে সামনে রেখে এক বছর একাডেমিক বিরতি (ড্রপ) নিয়েছিলেন। নির্বাচিত হওয়ার পর মাজহারুল ইসলাম তার পরবর্তী ব্যাচের সঙ্গে থিসিস জমা দিয়ে স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করেন। তবে জিতু তার স্নাতকোত্তরের ৫০৪ নম্বর কোর্স নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সম্পন্ন করতে না পারায় বৈধ ছাত্রত্ব হারিয়েছেন।


বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক দপ্তর সূত্রে জানা যায়, বিশ্ববিদ্যালয়ের বিধি অনুযায়ী স্নাতক সম্পন্ন করার জন্য নির্ধারিত চার বছরের পাশাপাশি অতিরিক্ত দুই বছর এবং এক বছর মেয়াদি স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করার জন্য অতিরিক্ত এক বছর সময় দেওয়া হয়। সে অনুযায়ী, চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে জিতুর ছাত্রত্বের বৈধতা শেষ হয়েছে। তিনি তার বিভাগের ৪৮তম ব্যাচের সঙ্গে স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করতে পারেননি। অন্যদিকে, গত মে মাসে নিজ বিভাগের ৪৯তম ব্যাচের সঙ্গে থিসিস জমা দিয়ে ছাত্রত্ব শেষ করেন জিএস মাজহারুল ইসলাম।


শিক্ষার্থীদের ছাত্রত্বের মেয়াদ শেষ হওয়ার বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের ডেপুটি রেজিস্ট্রার (শিক্ষা) সৈয়দ মোহাম্মদ আলী রেজা বলেন, “স্নাতকোত্তর পরীক্ষা সম্পন্ন হওয়ার সাত দিনের মধ্যে ক্লিয়ারেন্স শেষ করে হল ত্যাগের নির্দেশনা রয়েছে। পরীক্ষা সম্পন্ন হওয়ার পরই ছাত্রত্ব শেষ বলে গণ্য হবে; এটি ফলাফল প্রকাশের ওপর নির্ভর করে না। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে স্নাতক বা স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করতে না পারলে তা নিয়মিত নয়, বিশেষ বিবেচনায় সম্পন্ন করতে হয়।”


তুলনামূলক সাহিত্য ও সংস্কৃতি ইনস্টিটিউটের পরিচালক অধ্যাপক শামীমা সুলতানা বলেন, “জিতু নির্ধারিত সময়ের মধ্যে একটি কোর্সের পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেননি। বিধি অনুযায়ী তাকে স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করতে বিশেষ পরীক্ষায় অংশ নিতে হবে।”


ইংরেজি বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক মোহাম্মদ রায়হান শরীফ বলেন, “জাকসুর জিএস মাজহার তার একাডেমিক কার্যক্রম সম্পন্ন করেছেন। এখন শুধু ফলাফল প্রকাশ বাকি রয়েছে।”


এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ও জাকসুর সভাপতি অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ কামরুল আহসান বলেন, “আমি সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর সঙ্গে আলোচনা করে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেব।”


সম্পর্কিত খবর