ক্যাম্পাস
শিবিরের বিরুদ্ধে ‘গুমের নাটক’ অভিযোগে বেরোবিতে ছাত্রদলের বিক্ষোভ, হাস্যকর দাবি শিবিরের

ছাত্রশিবিরের এক কেন্দ্রীয় নেতার বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া ধর্ষণ ও জোরপূর্বক ভ্রূণ হত্যার মামলার সুষ্ঠু বিচার দাবি এবং ‘গুমের নাটক’ সাজানোর অভিযোগ তুলে বিক্ষোভ সমাবেশ করেছে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় (বেরোবি) শাখা ছাত্রদল।
রোববার (১৪ জুন) বিকেল সাড়ে ৪টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের সামনে আয়োজিত এ কর্মসূচিতে শাখা ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা অংশ নেন।
সমাবেশে বক্তারা অভিযোগ করেন, গুম ও অপহরণের মতো স্পর্শকাতর বিষয় নিয়ে বিভ্রান্তি ছড়িয়ে প্রকৃত ভুক্তভোগীদের অবমাননা করা হচ্ছে। পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সংঘবদ্ধভাবে মিথ্যা প্রচারণা চালানোর অভিযোগও তোলেন তারা। এসব কর্মকাণ্ড বন্ধে সরকারের কার্যকর পদক্ষেপ কামনা করেন বক্তারা।
বেরোবি ছাত্রদলের সভাপতি রাফায়েল ইমতিয়াজ ইয়ামিন বলেন,নারীরা আজ জামায়াত-শিবিরের কারণে অনিরাপদ। কেউ প্রতিবাদ করলে তারা চরিত্রহনন করে। এজন্য বিশেষ করে নারী শিক্ষার্থীরা তাদের বিরুদ্ধে কথা বলতে পারে না। আমরা দেখেছি, নারীকে লাত্থি দিয়ে ফেলে দেওয়ায় অভিযুক্ত ব্যক্তিকে তারা ফুলের মালা দিয়ে বরণ করা নিয়েছিল।
এ ধরনের নেক্কারজনক ঘটনা জামায়াত-শিবির প্রতিনিয়ত করে যাচ্ছে। আমরা সরকারের কাছে দাবি জানাই, জিসান মিয়া প্রধানের বিরুদ্ধে আনা ধর্ষণ ও জোরপূর্বক ভ্রূণ হত্যার বিচার করতে হবে তাকে ফাঁসিতে ঝুলাতে হবে।জামায়াত-শিবিরকে বলতে চাই, এসব গুমের নাটক করবেন না। গুমের নাটক সাজিয়ে দেশকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করবেন না।
এদিকে ছাত্রদলের এ কর্মসূচিকে ‘হাস্যকর’ আখ্যা দিয়েছে বেরোবি ছাত্রশিবির। সংগঠনটির নেতা আহমেদুল হক আলবির বলেন, এটি ছাত্রদলের দেউলিয়াত্বের প্রমাণ। জিসান মিয়ার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ এখনো অস্পষ্ট। প্রশাসন এখানে বাদী ও বিবাদী কাউকে সামনে আসতে দিচ্ছে না। আর ঘটনাটি এখনো প্রমাণিত হয়নি। অভিযোগ ওঠা আর প্রমাণিত হওয়া এক জিনিস নয়। তাই এ বিষয়ে আমাদের বক্তব্য দেওয়া সমীচীন হবে না।
উল্লেখ্য, সম্প্রতি কুমিল্লার দাউদকান্দি থেকে নিখোঁজ হওয়ার একদিন পর লাকসাম থেকে উদ্ধার হন ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সাহিত্য ও সংস্কৃতি বিষয়ক সম্পাদক জিসান মিয়া প্রধান। পরে তার বিরুদ্ধে এক নারীকে ধর্ষণ এবং জোরপূর্বক ভ্রূণ হত্যার অভিযোগে মামলা দায়ের করা হয়।
এ ঘটনায় কুমিল্লা জেলা পুলিশ জানিয়েছে, জিসান মিয়া প্রধান অপহরণের শিকার হননি। পুলিশের দাবি, নিজের পরিচয় গোপন করে এক নারীর সঙ্গে সম্পর্ক স্থাপনের পর আইনি জটিলতা এড়াতে তিনি আত্মগোপনে যান। জেলা পুলিশের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।





