ক্যাম্পাস

বিশ্বকাপ উন্মাদনা : রাবি যেন এক টুকরো ফুটবল গ্যালারী

রাবি প্রতিনিধি

শেয়ারঃ

বিশ্বকাপ উন্মাদনা : রাবি যেন এক টুকরো ফুটবল গ্যালারী - খবরের থাম্বনেইল ফটো

ফুটবল বিশ্বকাপকে ঘিরে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় (রাবি) যেন ধীরে ধীরে পরিণত হচ্ছে ছোট্ট এক ফুটবল নগরীতে। শিক্ষার্থীদের মুখে প্রিয় দলের জয়ধ্বনি, হাতে পতাকার চঞ্চল ওড়াওড়ি আর ক্যাম্পাসজুড়ে উৎসবের আমেজ—সব মিলিয়ে শুরু হয়েছে ফুটবলপ্রেমীদের এক বাঁধভাঙা বিশ্বকাপ উন্মাদনা।


বিশেষ করে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী আর্জেন্টিনা ও ব্রাজিল সমর্থকদের মধ্যে দেখা যাচ্ছে বাড়তি উত্তেজনা ও আনন্দঘন এক লড়াই। নিজেদের দলের প্রতি নিখাদ ভালোবাসা প্রকাশে কেউ করছেন রাজকীয় শোডাউন, কেউবা মেতে উঠছেন রঙিন আনন্দ শোভাযাত্রায়। ব্রাজিলের প্রথম ম্যাচকে কেন্দ্র করে সেই উন্মাদনায় নতুন মাত্রা যোগ করেছে ‘রাবি ব্রাজিল ফ্যানস ক্লাব’ ও ‘আর্জেন্টিনা ফ্যানস ক্লাব’-এর জমকালো সব আয়োজন।


বিশ্বকাপের এ তুমুল উন্মাদনা শুধু স্লোগান কিংবা ধোঁয়া ছড়ানো শোভাযাত্রাতেই সীমাবদ্ধ থাকেনি। ব্রাজিল ও মরক্কোর ম্যাচকে ঘিরে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে দেখা গেছে ভিন্ন এক উৎসবমুখর দৃশ্য। বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ হবিবুর রহমান হল মাঠে খেলা শুরুর আগেই শিক্ষার্থীদের উপচে পড়া ভিড় ছিল চোখে পড়ার মতো। হলুদ-সবুজ আর নীল-সাদা জার্সি, কপালে বাঁধা প্রিয় দলের পতাকা আর তারুণ্যের অবিরাম উচ্ছ্বাসে পুরো মাঠ যেন রূপ নেয় জীবন্ত এক ফুটবল গ্যালারিতে।


শিক্ষার্থীদের এ আকাশচুম্বী চাহিদাকে গুরুত্ব দিয়ে প্রায় সাড়ে ৩ লাখ টাকা ব্যয়ে জায়ান্ট স্ক্রিনে খেলা দেখার রাজকীয় ব্যবস্থা করে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (রাকসু)। রাতভর শত শত শিক্ষার্থী একসঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে বসে প্রিয় দলের খেলা উপভোগ করেন। প্রতিটি আক্রমণ আর গোলের মুহূর্তে পুরো মাঠ মেতে ওঠে গগনবিদারী উল্লাসে। অন্যদিকে, বিশ্ববিদ্যালয়ের চিরচেনা পরিবহন চত্বরেও এলইডি স্ক্রিনে খেলা দেখানোর আয়োজন করে শাখা ছাত্রদল। ফলে ক্যাম্পাসের একাধিক প্রান্তে একসঙ্গে জমে ওঠে বিশ্বকাপের জমজমাট আসর।


সব মিলিয়ে বিশ্বকাপ ঘিরে ক্যাম্পাসজুড়ে তৈরি হয় এক অপার্থিব আবহ—যেখানে সমর্থনের দিক থেকে দলভেদে বিভক্ত হলেও আনন্দের ক্যানভাসে সবাই ছিলেন এক সুতোয় বাঁধা। রাতের আঁধারে আকাশ থেকে ড্রোন ক্যামেরায় ধারণ করা দৃশ্যেও স্পষ্ট ধরা পড়ে সেই উন্মাদনার চিত্র। নিয়ন আলো, মানুষের উত্তাল ঢল আর রঙিন সমর্থনে মুখর হয়ে ওঠা পুরো ক্যাম্পাস যেন কয়েক ঘণ্টার জন্য রূপ নিয়েছিল এক বিশাল ফুটবল উৎসবমঞ্চে।


খেলা দেখতে এসে বাঁধভাঙা উচ্ছ্বাসে মেতে ওঠা ব্রাজিল সমর্থক তাসনিয়া তিথি বলেন, বিশ্বকাপে ব্রাজিলের প্রথম ম্যাচকে ঘিরে আমাদের মধ্যে আলাদা এক রোমাঞ্চ কাজ করছে। সেই আনন্দ থেকেই আমাদের আজকের এ বর্ণিল শোভাযাত্রার আয়োজন। আমরা মনে-প্রাণে বিশ্বাস করি, এবার ব্রাজিলের বহু প্রতীক্ষিত ‘মিশন হেক্সা’ সফল হবেই।


এদিকে ব্রাজিল সমর্থকদের এমন রাজকীয় উচ্ছ্বাসের জবাবে নিজেদের চিরচেনা উপস্থিতি জোরালোভাবে জানান দিয়েছেন আলবিসেলেস্তে বা আর্জেন্টিনা সমর্থকরাও। তাদের প্রবল বিশ্বাস, বর্তমান বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা আবারো নিজেদের শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণ করে শিরোপা ধরে রাখতে সক্ষম হবে। খেলা ঘিরে এ তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতা থাকলেও চত্বরে চত্বরে বজায় থাকা সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশই যেন সবচেয়ে বড় বার্তা দিচ্ছে রাবি ক্যাম্পাস।


আর্জেন্টিনা সমর্থক ও অন্যতম সংগঠক মো. সজিবুর রহমান বলেন, ‘বিশ্বকাপ এলেই ক্যাম্পাসে অন্যরকম একটা মায়াবী আবহ তৈরি হয়। আমরা শুধু প্রিয় দলকে সমর্থন জানাতেই মাঠে নামিনি, বরং এ বৈশ্বিক আনন্দটা সবার সঙ্গে ভাগাভাগি করতেই শোভাযাত্রায় অংশ নিয়েছি। আর্জেন্টিনা দল হিসেবে সবসময় চাপের মুহূর্তে সেরাটা ঢেলে দেয়। তাই আমরা শতভাগ আশাবাদী, এবারো দল কোটি ভক্তের প্রত্যাশা পূরণ করে শিরোপা অক্ষুণ্ন রাখবে।


বিশ্বকাপের এ রঙিন উৎসব শিক্ষার্থীদের ব্যস্ত ও একঘেয়ে একাডেমিক জীবনে এনে দিয়েছে ভিন্ন এক পরম প্রাণচাঞ্চল্য। দল আলাদা হতে পারে, জার্সির রঙে ভিন্নতা থাকতে পারে—কিন্তু ফুটবলকে ঘিরে রাবি শিক্ষার্থীদের এ অনাবিল আনন্দ আর বন্ধুত্ব অনন্য।


সম্পর্কিত খবর