ক্যাম্পাস

চবিতে ছাত্রদল ও শিবিরের পাল্টাপাল্টি স্লোগান

চবি প্রতিনিধি

শেয়ারঃ

চবিতে ছাত্রদল ও শিবিরের পাল্টাপাল্টি স্লোগান- খবরের থাম্বনেইল ফটো

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে (চবি) চলমান ইস্যুতে পৃথক কর্মসূচি পালন করেছে শাখা ছাত্রদল ও ছাত্রশিবির। এ সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের জিরো পয়েন্ট এলাকায় মুখোমুখি অবস্থান ও পাল্টাপাল্টি স্লোগান দেয় উভয় সংগঠনের নেতাকর্মীরা।


রোববার (১৪ জুন) রাত ১০টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের জিরো পয়েন্ট এলাকায় উভয় সংগঠন তাদের ভিন্ন ভিন্ন কর্মসূচি পালন করে।


কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে ছাত্রশিবিরের বিরুদ্ধে ‘গুম ও অপহরণের নাটক সাজানোর’ অভিযোগ তুলে বিক্ষোভ মিছিল করে শাখা ছাত্রদল। মিছিলটি জিরো পয়েন্ট থেকে শুরু হয়ে সোহরাওয়ার্দী মোড় প্রদক্ষিণ করে পুনরায় জিরো পয়েন্টে এসে শেষ হয়।


মিছিলে নেতাকর্মীরা "জিয়ার সৈনিক এক হও, লড়াই কর", "জ্বালিয়ে দাও, গুঁড়িয়ে দাও ধর্ষকদের আস্তানা", "জামাত-শিবির ধর্ষক, ধর্ষক", "ধর্ষকদের কালো হাত ভেঙে দাও, গুঁড়িয়ে দাও", "বাহ, শিবির চমৎকার, ধর্ষকদের পাহারাদার", "ধর্ষকের নাটক করে যারা, দেশবিরোধী তারা" সহ বিভিন্ন স্লোগান দেন।


মিছিলে শাখা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল্লাহ আল নোমান বলেন, "৭১ এরা এদের ধর্ষকের ভূমিকা ছিল, এখন ২৬ এ তারা সেই ভূমিকা পালন করছে। আমরা এর বিরুদ্ধে আন্দোলন গড়ে তুলব। আমরা সহঅবস্থান চাই, তবে কোনো ধর্ষককে মেনে নেব না। আগের দিন নাই। এ দিন জুলাই-পরবর্তী দিন।


অপরদিকে, বিএনপির সংসদ সদস্য মনিরুল হক চৌধুরী কর্তৃক জাতীয় সংসদে হিজাব নিয়ে কটাক্ষ করার অভিযোগ তুলে বিক্ষোভ মিছিল করে শাখা ছাত্রশিবির।


বিক্ষোভ মিছিলে ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীরা "একশন, একশন, ডাইরেক্ট একশন", "হিজাব নিয়ে টালবাহানা চলবে না, চলবে না", "মনিরের দুই গালে জুতা মারো তালে তালে", "মনির তুই ধিক্কার, হিজাব নারীর অধিকার","বিএনপি-ছাত্রদল ধর্ষক, ধর্ষক", "গদি হবে খানখান, হিজাব নিয়ে দিলে টান", "লুচ্ছামি করিস না, পিঠের চামড়া থাকবে না", "ধর্ষণ আর করিস না, পিঠের চামড়া রাখব না", "বাহ, খাম্বা চমৎকার, ধর্ষকদের পাহারাদার" সহ বিভিন্ন স্লোগান দেন।


শাখা ছাত্রশিবিরের ছাত্র অধিকার সম্পাদক মোনায়েম শরীফের সঞ্চালনায় শাখা ছাত্রশিবিরের আন্তর্জাতিক ও মানবাধিকার সম্পাদক সাঈদ বিন হাবিব বলেন, "গত ১৭ বছরে পুরো ক্যাম্পাসে ছাত্রলীগ যেভাবে দমন-পীড়ন চালিয়েছে, এখন ছাত্রদলের মধ্যেও সেই ধরনের প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। তারা টেন্ডারবাজি, নারীদের পণ্য বানিয়ে দেশকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করছে।


বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানও এসব বিষয়ে লাগাম না দিয়ে উল্টো বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়াচ্ছেন। বিএনপির একজন সংসদ সদস্য মুখভর্তি দাড়ি রেখে আবার পর্দার বিপক্ষে কথা বলছেন। আমরা ছাত্রদলকে বলব, তারা যেন নিজেদের লাগাম টেনে ধরে। অন্যথায় আমরা আন্দোলনের মাধ্যমে তাদের লাগাম টেনে ধরব।"


শাখা শিবিরের সভাপতি ইব্রাহীম হোসেন রনি বলেন, "জাতীয় সংসদের মতো গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় একজন এমপি হিজাব নিয়ে যে বক্তব্য দিয়েছেন, তা অত্যন্ত দুঃখজনক। এ ধরনের মন্তব্য একজন ইউপি সদস্যের কাছ থেকেও প্রত্যাশিত নয়।


বিএনপির পক্ষ থেকে এ বিষয়ে যদি নির্দিষ্ট বক্তব্য দিয়ে দিত আমরা হয়তো আন্দোলন করতাম না কারন পাগলের কোনো বিচার নেই। তারা এমন একটি আইন করেছে, যেখানে ছেলে-মেয়ের সম্মতি থাকলে সেটিকে ধর্ষণ হিসেবে গণ্য করা হয় না।


এ ধরনের অবস্থান নেওয়ার কারণ হলো, তা না হলে নিজেদের দলের নেতাকর্মীদেরই খুজে পাবে না। বাংলাদেশের সংবিধানেও পোশাকের স্বাধীনতার কথা বলা হয়েছে। অথচ জাতীয় সংসদে দাঁড়িয়ে একজন এমপি পোশাক নিয়ে এ ধরনের মন্তব্য করেছেন। আমরা তার বক্তব্য প্রত্যাহারের দাবি জানাই এবং ভবিষ্যতে কোনো পোশাক নিয়ে যেন এ ধরনের মন্তব্য না করা হয়।"


সম্পর্কিত খবর