মতামত
ফুটবল বিশ্বকাপকে ঘিরে অনলাইন জুয়া বন্ধ করতে হবে

ফুটবল বিশ্বকাপ পৃথিবীর সর্ববৃহৎ ক্রীড়া আসর। এই আয়োজনকে কেন্দ্র করে কোটি কোটি মানুষ আনন্দ, উচ্ছ্বাস ও ক্রীড়া-চেতনায় উদ্বুদ্ধ হয়। কিন্তু দুঃখজনকভাবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বিশ্বকাপকে ঘিরে অনলাইন জুয়ার বিস্তার উদ্বেগজনক মাত্রায় বৃদ্ধি পেয়েছে। খেলাধুলার সুস্থ বিনোদনকে পুঁজি করে এক শ্রেণির অসাধু চক্র তরুণ সমাজকে জুয়ার ফাঁদে ফেলছে, যা ব্যক্তি, পরিবার ও সমাজের জন্য মারাত্মক হুমকি হয়ে উঠেছে।
বর্তমানে স্মার্টফোন ও ইন্টারনেটের সহজলভ্যতার কারণে অনলাইন বেটিং বা জুয়ার বিভিন্ন প্ল্যাটফর্ম সহজেই মানুষের নাগালে পৌঁছে যাচ্ছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, ইউটিউব, এমনকি বিভিন্ন ওয়েবসাইটে আকর্ষণীয় বিজ্ঞাপন দিয়ে মানুষকে জুয়ার প্রতি উৎসাহিত করা হচ্ছে। বিশেষ করে ফুটবল বিশ্বকাপের ম্যাচগুলোকে কেন্দ্র করে কে জিতবে, কত গোল হবে কিংবা কোন খেলোয়াড় গোল করবে—এসব বিষয়ে বাজি ধরার প্রবণতা ব্যাপকভাবে বাড়ছে।
এই প্রবণতার সবচেয়ে বড় শিকার হচ্ছে তরুণ ও শিক্ষার্থী সমাজ। অল্প সময়ে বেশি অর্থ উপার্জনের লোভে অনেকেই জুয়ার সঙ্গে জড়িয়ে পড়ছে। শুরুতে সামান্য অর্থ দিয়ে খেলা শুরু হলেও পরে তা আসক্তিতে পরিণত হয়। ফলে শিক্ষাজীবন ব্যাহত হয়, পারিবারিক অশান্তি সৃষ্টি হয় এবং অনেক ক্ষেত্রে ঋণগ্রস্ততা ও অপরাধপ্রবণতাও বৃদ্ধি পায়। অনলাইন জুয়ার কারণে দেশ অর্থনৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে পাশাপাশি নৈতিক অবক্ষয়ও ত্বরান্বিত হচ্ছে।
বাংলাদেশের আইন অনুযায়ী জুয়া নিষিদ্ধ হলেও প্রযুক্তির অপব্যবহারের মাধ্যমে বিদেশভিত্তিক বিভিন্ন বেটিং সাইট দেশে কার্যক্রম পরিচালনা করছে। অনেক সময় মোবাইল ব্যাংকিং বা ডিজিটাল লেনদেনের মাধ্যমে এসব জুয়ার অর্থ আদান-প্রদান হচ্ছে। ফলে আইন প্রয়োগকারী সংস্থার জন্যও বিষয়টি চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। সিআইডি ইতিমধ্যে তিনজন জুয়াড়িকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়েছে বলে জানানো হয়েছে।
এই পরিস্থিতিতে সরকার, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, গণমাধ্যম, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং অভিভাবকদের সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন। অবৈধ বেটিং ওয়েবসাইট ও অ্যাপ বন্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে হবে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জুয়ার বিজ্ঞাপন নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। পাশাপাশি শিক্ষার্থী ও তরুণদের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং খেলাধুলার ইতিবাচক মূল্যবোধ তুলে ধরতে হবে।
ফুটবল বিশ্বকাপ আনন্দ, সম্প্রীতি ও ক্রীড়া-সংস্কৃতির উৎসব। এটিকে কোনোভাবেই জুয়ার আসরে পরিণত হতে দেওয়া যায় না। সুস্থ সমাজ ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের স্বার্থে বিশ্বকাপকে ঘিরে অনলাইন জুয়ার বিস্তার রোধে এখনই কঠোর ও কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা সময়ের দাবি। খেলাকে খেলার জায়গায় রাখতে হবে, জুয়ার হাত থেকে সমাজকে রক্ষা করতে হবে।






