ক্যাম্পাস

রাবিতে চলতি অর্থবছরের বাজেট বিষয়ক জাতীয় সেমিনার

রাবি প্রতিনিধি

শেয়ারঃ

রাবিতে চলতি অর্থবছরের বাজেট বিষয়ক জাতীয় সেমিনার- খবরের থাম্বনেইল ফটো

২০২৬-২০২৭ অর্থবছরের জাতীয় বাজেট উপলক্ষে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি) ‘বাজেট নিয়ে জনগণের প্রত্যাশা ও প্রস্তাবনা’ শীর্ষক জাতীয় সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়েছে।


মঙ্গলবার (২৩ জুন) সকাল ১০টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট ভবনে রাবি আইবিএস অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনের আয়োজনে এ সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়।


সেমিনারে বক্তারা বাজেট নিয়ে জনগণের প্রত্যাশা এবং বাজেট বাস্তবায়নের বিভিন্ন প্রস্তাবনা তুলে ধরেন।


সেমিনারে অর্থ মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব ড. আব্দুর রহিম বাজেট নিয়ে প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন। তিনি সরকারের রাজস্ব ও অর্থায়ন, সরকারের রাজস্ব আয়ের উৎস, রাজস্ব আদায়ে গৃহীত পদক্ষেপ, রাজস্ব ব্যবস্থাপনায় সংস্কার, ব্যয়ের প্রধান খাতসমূহ, পরিচালন ও উন্নয়ন বাজেট, ব্যয়ের খাত বিশ্লেষণ, জনকল্যাণমূলক সেবা এবং সামাজিক অবকাঠামোসহ বিভিন্ন বিষয় তুলে ধরেন।


এসময় প্রধান আলোচক হিসেবে সিপিডির সম্মানিত ফেলো প্রফেসর ড. মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, “নাগরিক হিসেবে বাজেট সম্পর্কে জানার অধিকার আমাদের রয়েছে। এই বাজেট যে একটি ব্যতিক্রমী বাজেট, সেটি অস্বীকার করার সুযোগ নেই। আমরা পোশাক শিল্পের পণ্যে শুল্কমুক্ত সুবিধা দিলেও অন্য অনেক ক্ষেত্রে, যেখানে এটি দেওয়া উচিত ছিল, তা দিতে পারিনি। জিডিপির একটি খাতে বাজেট বাড়ালে অন্য একটি খাতে কমাতে হয়। একটিতে বাড়ানো এবং অন্যটিতে কমানো একটি জটিল বিষয়। তবে সম্পদ আহরণ বাড়ানো গেলে অন্য খাত কমানো ছাড়াই বাজেট বৃদ্ধি করা সম্ভব।”


তিনি আরও বলেন, “আমাদের দেশে যাদের কর দেওয়ার কথা, তারা অনেকেই কর দিচ্ছেন না। কেবল প্রযুক্তির কথা বললেই হবে না, ব্যাংকিং খাতের সঙ্গেও সমন্বয় করতে হবে। সরকার যেহেতু জনকল্যাণমূলক রাষ্ট্র গঠনের কথা বলছে, সেহেতু প্রয়োজন হলে বিদেশি সহায়তা নিতে হবে, তবে তা সঠিকভাবে ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে।”


প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. মো. আব্দুল আলীম বলেন, “বর্তমান গণতান্ত্রিক সরকার ক্ষমতা গ্রহণের পর যে বাজেট উপস্থাপন করেছে, তা বিভিন্ন মহলে প্রশংসিত হয়েছে। স্বাস্থ্য, শিক্ষা, পরিবহন ও যোগাযোগ, বিদ্যুৎ, জ্বালানি, প্রতিরক্ষা এবং কৃষকের সুবিধাসহ নানা বিষয় এতে গুরুত্ব পেয়েছে। তবে এই বাজেট তখনই স্বার্থক হবে, যখন তা জনগণের প্রত্যাশা অনুযায়ী বাস্তবায়িত হবে।”


সভাপতির বক্তব্যে রাবি আইবিএস অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি প্রফেসর ড. মো. ফজলুল হক বলেন, “জাতীয় বাজেট দেশের একটি গুরুত্বপূর্ণ দলিল। এর মূল লক্ষ্য দেশের অর্থনীতির পুনর্গঠন। এবারের বাজেট যেহেতু উন্নয়নমুখী, তাই এর সফলতা নির্ভর করবে যথাযথ বাস্তবায়নের ওপর। জুলাই বিপ্লবের মূল চেতনা ছিল বৈষম্যের অবসান। তাই আমরা চাই বাজেট যেন বৈষম্যহীনতার ভিত্তিতে বাস্তবায়িত হয়।”


আয়োজন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “আইবিএস প্রতিষ্ঠার পর থেকেই প্রতিষ্ঠানটি বাংলাদেশ বিষয়াবলি নিয়ে গবেষণা কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে। সেই ধারাবাহিকতায় আজকের এই বাজেটবিষয়ক সেমিনারের আয়োজন করা হয়েছে। আমাদের কমিটি চিন্তা-ভাবনা করেছে, কীভাবে এই আয়োজনে নতুনত্ব আনা যায় এবং শিক্ষার্থীদের কল্যাণে কার্যকর ভূমিকা রাখা যায়।”


সেমিনারে আরও উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক ড. মামুনুর রশীদ, টিএমএসএস বগুড়ার নির্বাহী পরিচালক প্রফেসর ড. হোসনে আরা বেগম, আইবিএসের পরিচালক অধ্যাপক ড. এম. মোস্তফা কামালসহ আমন্ত্রিত অতিথিবৃন্দ।


সম্পর্কিত খবর