ক্যাম্পাস

রাকসু জিএস সালাহউদ্দিন আম্মারের ওপর হামলা: ৫ জনের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা

রাবি প্রতিনিধি

শেয়ারঃ

রাকসু জিএস সালাহউদ্দিন আম্মারের ওপর হামলা: ৫ জনের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা- খবরের থাম্বনেইল ফটো

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (রাকসু) নির্বাচিত সাধারণ সম্পাদক (জিএস) সালাহউদ্দিন আম্মারের ওপর হামলার অভিযোগে পাঁচ জনের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা করা হয়েছে। মামলায় আসামিদের বিরুদ্ধে জোরপূর্বক অফিসে প্রবেশ, মারধর, হত্যার উদ্দেশ্যে আঘাত, ভাঙচুরসহ ক্ষতিসাধনের অভিযোগ আনা হয়েছে।


রাকসুর নেতৃবৃন্দের সঙ্গে আলোচনা করে রাজশাহীর চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মতিহার আমলী আদালতে এ মামলাটি করা হয়।


মামলার বাদী সালাহউদ্দিন আম্মারের আবেদনে পাঁচজনকে নামীয় আসামি করা হয়েছে। তারা হলেন–রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগের ২০১৭-১৮ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী মো. আনাস, সংস্কৃত বিভাগের ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের মো. মাহমুদ হাসান মাহিন ও মামুন মিয়া, ট্যুরিজম অ্যান্ড হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্ট বিভাগের ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের মাহফুজুল ইসলাম নয়ন এবং ইসলামী স্টাডিজ বিভাগের ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের আখতারুল ইসলাম। এ ছাড়া অজ্ঞাত আরও ৭-৮ জনকে আসামি করা হয়েছে।


মামলার অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, গত ২৭ জুলাই দুপুর আনুমানিক ২টা ৪৫ মিনিট থেকে ৩টা ১৫ মিনিটের মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের রাকসু ভবনের জিএসের অফিসে এ হামলার ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় জিএস সালাহউদ্দিন আম্মার ছাড়াও রাকসুর তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক নাজমুস সাকিব এবং সাক্ষী হিসেবে উল্লেখ করা মেহেদী আহত হন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।


আদালতে দেওয়া দরখাস্তে সালাহউদ্দিন আম্মার উল্লেখ করেন, ঘটনার সময় তিনি রাকসুর জিএসের অফিসে বসে দাপ্তরিক কাজ করছিলেন। এ সময় অভিযুক্তরা লোহার রড, বাঁশ ও লাঠিসহ দেশীয় অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে অবৈধভাবে সমবেত হয়ে তাঁর অফিসের সামনে জড়ো হন। একপর্যায়ে তারা রাকসু ভবনের দ্বিতীয় তলায় উঠে তাঁর ২০২ নম্বর অফিস কক্ষে জোরপূর্বক প্রবেশ করেন।


অভিযোগে বলা হয়, অফিসে প্রবেশের পর অভিযুক্তরা সালাহউদ্দিন আম্মারের সঙ্গে খারাপ আচরণ ও অশ্রাব্য ভাষায় গালিগালাজ শুরু করেন। তিনি এর প্রতিবাদ করলে তাঁকে কিল-ঘুষি মেরে আহত করা হয়। একই সঙ্গে তাঁর অফিসের চেয়ার-টেবিল ও অন্যান্য আসবাবপত্র ভাঙচুর করে আনুমানিক এক লাখ টাকার ক্ষতি করা হয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে।


অভিযোগে আরও বলা হয়, হামলাকারীদের এ কর্মকাণ্ডের প্রতিবাদ করতে গেলে রাকসুর তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক নাজমুস সাকিব এবং মেহেদীকেও মারধর করা হয়। একপর্যায়ে অভিযুক্ত আনাসের হাতে থাকা লোহার রড দিয়ে নাজমুস সাকিবকে হত্যার উদ্দেশ্যে আঘাত করা হয়। আঘাত ঠেকাতে গেলে তাঁর ডান হাতে রক্তাক্ত জখম হয় বলে মামলার আবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।


মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, নাজমুস সাকিবকে বাঁচাতে এগিয়ে গেলে অভিযুক্ত মাহিন মেহেদীর বাম কানে লাঠি দিয়ে আঘাত করেন। এতে মেহেদীও রক্তাক্ত জখম হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে।


মামলার অগ্রগতি সম্পর্কে রাকসুর এজিএস সালমান সাব্বির বলেন, আমি যতটুকু জানি তা হলো মামলাটি আদালত গ্রহণ করেছে এবং এটা বর্তমান পিবিআই-এর তদন্তাধীন পর্যায়ে আছে। পিবিআই মামলাটি তদন্ত শেষ করবে এরপর পরবর্তী পদিক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।


মামলার ব্যাপারে সালাহউদ্দিন আম্মার বলেন, আমার সম্পাদকদের উপর হামলা হয়েছে। এটা আমার কাছে মনে হয় যে, জাস্ট ফর কনসার্ন আর কিছুই না। এটা নিয়ে পরবর্তীতে একটা গেম খেলবে সরকার এজন্য আমার সম্পাদকদেরকে ইনভল্ভ করে একটা মামলা করছি। এটা শুধু কনসার্ন করে রাখা এছাড়া আর কিছু না।


আদালতে দেওয়া দরখাস্তে আসামিদের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ৩২৩, ৩২৬, ৩০৭, ৩৪১, ৩৪৮, ৩২৪ ও ৪২৭ ধারাসহ সংশ্লিষ্ট ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে। মামলাটির নম্বর ১৫১ সি/২৬ (মতিহার) বলে নথিতে উল্লেখ রয়েছে।


সম্পর্কিত খবর