ক্যাম্পাস

যবিপ্রবিতে রাস্তা নির্মাণে অনিয়মের অভিযোগ, হাত দিলেই উঠে যাচ্ছে পিচ

যবিপ্রবি প্রতিনিধি

শেয়ারঃ

যবিপ্রবিতে রাস্তা নির্মাণে অনিয়মের অভিযোগ, হাত দিলেই উঠে যাচ্ছে পিচ- খবরের থাম্বনেইল ফটো

যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (যবিপ্রবি) রাস্তা নির্মাণে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। কাজ সম্পূর্ণ হওয়ার আগেই হাতের চাপেই উঠে যাচ্ছে রাস্তার পিচ। এ ঘটনায় দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রকৌশলীদের বিরুদ্ধে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ তুলেছেন শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা।


জানা যায়, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটক থেকে কেন্দ্রীয় মসজিদ পর্যন্ত প্রায় ১০০ মিটার দীর্ঘ রাস্তা নির্মাণকাজ চলতি বছরের জানুয়ারি মাসে শুরু হয়। তবে কাজ শেষ হতে প্রয়োজনের তুলনায় বেশি সময় লাগায় শিক্ষক-শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা-কর্মচারী ও সাধারণ মানুষের চলাচলে দুর্ভোগ সৃষ্টি হয়। পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে শিক্ষার্থীদের সমালোচনার মুখে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ এক মাসের মধ্যে কাজ শেষ করার পরিকল্পনার একটি ব্যানার টানিয়ে দেয়। ব্যানার অনুযায়ী ফেব্রুয়ারি মাসের মধ্যে কাজ শেষ হওয়ার কথা থাকলেও মার্চ মাসেও তা সম্পন্ন হয়নি।


বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, রাস্তার কাজে বিলম্ব হওয়ায় শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের ভোগান্তি দূর করতে যবিপ্রবির রেজিস্ট্রার কাজী মো. জালাল উদ্দীন স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে নির্বাহী প্রকৌশলী মো. তৌহিদ ইমামকে ঈদুল ফিতরের পূর্বে কাজ শেষ করার নির্দেশনা দেওয়া হয়। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজ শেষ না হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও চিঠিতে উল্লেখ করা হয়। এছাড়া রাস্তার কাজ তদারকির দায়িত্ব দেওয়া হয় উপ-প্রধান প্রকৌশলী মো. নাজমুস সাকিবকে।


শিক্ষার্থীদের অভিযোগের প্রেক্ষিতে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, পিচ দেওয়ার প্রায় ১১ দিন পরেও রাস্তার বিভিন্ন স্থানে হাত দিলেই পিচ উঠে যাচ্ছে। পিচ ঢালা রাস্তার বিভিন্ন স্থানে ফুলে-ফেঁপে ওঠার ঘটনাও দেখা গেছে।


এ বিষয়ে জিইবিটি বিভাগের শিক্ষার্থী সামিউল আলিম বলেন, “মেইন গেট থেকে মসজিদের সামনে পর্যন্ত রাস্তার কাজ দীর্ঘ সময় ধরে চললেও কাজটি যথাযথভাবে সম্পন্ন হয়নি বলে মনে করি। একটি রাস্তা নির্মাণে যেসব উপকরণ ও মানদণ্ড অনুসরণ করা প্রয়োজন, সেগুলো মানা হয়নি। তড়িঘড়ি করে দায়সারা কাজ করা হয়েছে। নিম্নমানের বিটুমিন ব্যবহারের কারণে রাস্তা এখনো শক্ত হয়নি। ফলে হাত দিয়েই রাস্তার বিভিন্ন অংশ উঠে যাচ্ছে। দুর্নীতি ও অনিয়ম ছাড়া এমন মানহীন রাস্তা তৈরি সম্ভব নয়।”


তিনি আরও বলেন, “ইঞ্জিনিয়ারিং দপ্তরের অবহেলা স্পষ্ট। তারা কাজের কোনো জবাবদিহি না করেই দায়িত্ব এড়িয়ে গেছেন। রাস্তার কাজের মান, ব্যয় ও বাজেটের বিস্তারিত হিসাব শিক্ষার্থীদের সামনে উপস্থাপন করতে হবে।”


তবে রাস্তা নির্মাণে অনিয়মের অভিযোগ অস্বীকার করে নির্বাহী প্রকৌশলী মো. তৌহিদ ইমাম বলেন, “আমাদের ক্যাম্পাসে যেসব বিআরটিসি বাস চলাচল করে, সেগুলোর ট্যাংকে লিকেজ থাকার কারণে বাস থেকে ডিজেল চুইয়ে পড়ে। এর ফলে রাস্তার কিছু অংশ ফুলে-ফেঁপে উঠেছে। এ বিষয়ে আমরা পরিবহন দপ্তরকে বাসগুলো অন্যত্র সরানোর জন্য বলেছি।”


তিনি আরও বলেন, “রাস্তার কাজ নির্ধারিত সময়ে শেষ করতে না পারায় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে তলব করা হলে তারা আরও সময় চায়। জ্বালানি সংকটসহ দেশের বর্তমান পরিস্থিতিকে তারা কাজ বিলম্বের কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছে।”


এ বিষয়ে উপ-প্রধান প্রকৌশলী মো. নাজমুস সাকিব বলেন, “নবনির্মিত রাস্তা মজবুত হতে কিছুটা সময়ের প্রয়োজন হয়। শক্ত না হওয়ার কারণেই পিচ উঠে যাচ্ছে। এছাড়া রাস্তার কাজ এখনো পুরোপুরি শেষ হয়নি।”


এদিকে পরিবহন দপ্তরের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, বিআরটিসি বাস থেকে কোনো ধরনের ডিজেল রাস্তায় পড়েনি। বিভিন্ন বাসচালকের সঙ্গেও কথা বলে একই তথ্য পাওয়া গেছে। তবে প্রকৌশলীরা সরেজমিনে এ ধরনের কোনো প্রমাণ সাংবাদিকদের দেখাতে পারেননি।


প্রধান প্রকৌশলী ড. মো. মোখলেসুর রহমান বলেন, “প্রত্যেক প্রকৌশলী যেন কাজের সময় স্পটে উপস্থিত থাকেন, তা আমরা নিশ্চিত করেছি। সকাল থেকে রাত পর্যন্ত আমি নিজে উপস্থিত থেকে কাজের মান তদারকি করেছি। তবে রাস্তার পিচ কেন উঠে যাচ্ছে, তার পেছনের কেমিস্ট্রি আমার জানা নেই। পুরুত্বের মান, রোলার চালানো ও প্রয়োজনীয় তাপমাত্রা নিশ্চিত করা হয়েছে। রাস্তার কাজ শেষ হলে আমরা অভিজ্ঞদের দিয়ে মান পরীক্ষা করাবো।”


নির্ধারিত সময়ে কাজ সম্পন্ন না হওয়ার বিষয়ে যবিপ্রবি রেজিস্ট্রার কাজী মো. জালাল উদ্দীন বলেন, “আমরা দ্রুতই এ বিষয়ে প্রকৌশলীদের জিজ্ঞাসাবাদ করব। সন্তোষজনক জবাব না পেলে দায়িত্বরতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”


সম্পর্কিত খবর