ক্যাম্পাস

বেরোবিতে চুরি যেন থামছেই না

বেরোবি প্রতিনিধি

শেয়ারঃ

বেরোবিতে চুরি যেন থামছেই না - খবরের থাম্বনেইল ফটো

রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে (বেরোবি) চুরির ঘটনা যেন থামছেই না। একের পর এক চুরির ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছে শিক্ষার্থীরা।


সম্প্রতি কবি হেয়াত মামুদ ভবনের নিচতলা থেকে একটি ফিঙ্গারপ্রিন্ট মেশিন চুরি হয়। এছাড়া ঈদের ছুটির মধ্যে শহীদ মুখতার ইলাহী হল থেকে প্রায় দেড় লাখ টাকা মূল্যের একটি নেটওয়ার্ক সুইচ চুরির ঘটনা ঘটে। ঈদের ছুটির পর ছেলেদের দুই আবাসিক হল থেকে সাইকেল চুরির ঘটনাও সামনে এসেছে।


ফিঙ্গারপ্রিন্ট মেশিন চুরির ঘটনায় সিসিটিভি ফুটেজে এক কর্মচারীকে শনাক্ত করা হয়। পরে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য তাকে সাধারণ ক্ষমা দিয়েছেন বলে জানা গেছে।


অন্যদিকে, শহীদ মুখতার ইলাহী হলের নেটওয়ার্ক সুইচ চুরির ঘটনায় সহকারী প্রভোস্ট চার্লস ডারউইনকে আহ্বায়ক করে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।


সাম্প্রতিক এসব ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন শিক্ষার্থীরা। তারা বলেন, ক্যাম্পাসে নিরাপত্তা ব্যবস্থা দুর্বল হওয়ায় চুরির ঘটনা বাড়ছে।


সাইকেল হারানো ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী মামুন মিয়া জানান, গত ২৯ মার্চ সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে তিনি সাইকেল নিয়ে হলে প্রবেশ করেন। পরদিন দুপুরে সাইকেল নিতে গিয়ে দেখেন সেটি আর নেই। পরে তিনি বিষয়টি হল কর্তৃপক্ষকে জানান। সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহের জন্য তাকে প্রভোস্ট বরাবর লিখিত আবেদন করতে বলা হয়।


তিনি আরও বলেন, ৩১ মার্চ ফুটেজ সংগ্রহ করা হলেও এখন পর্যন্ত দৃশ্যমান কোনো পদক্ষেপ নেয়নি হল প্রশাসন। ফুটেজে দেখা যায়, সাইকেলটি হলের ভেতরে আনার পর থেকেই একজন ব্যক্তি তাকে অনুসরণ করছিল। এর আগেও গত ১৭ মার্চ তিনি হলের এক কর্মচারীর কাছে সাইকেলটি দিয়েছিলেন, যিনি রাতে সেটি ব্যবহার করেছিলেন।


মামুন অভিযোগ করেন, প্রভোস্টের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও কথা বলতে পারেননি। হল প্রশাসনের পক্ষ থেকে তেমন কোনো সহযোগিতাও পাননি। তিনি বলেন, এর আগে হলের রাউটার, শিক্ষার্থীদের ল্যাপটপসহ বিভিন্ন জিনিস চুরি হয়েছে। কিন্তু প্রশাসনের কার্যকর কোনো উদ্যোগ আমরা দেখিনি।


তিনি আরও বলেন, প্রভোস্টদের মাঝে মাঝে দেখা গেলেও সহকারী প্রভোস্টদের উপস্থিতি খুবই কম। শিক্ষার্থীদের সমস্যার প্রতি তাদের কোনো গুরুত্ব নেই। আমরা আবাসিক শিক্ষার্থীরা নিরাপত্তা চাই।


আরেক ভুক্তভোগী বিজয়-২৪ হলের আবাসিক শিক্ষার্থী জুবায়ের হোসেন বলেন, আমি এক দরিদ্র পরিবারের সন্তান। আমি টিউশন করে নিজের খরচ চালানোর পাশাপাশি কিছু টাকা জমিয়ে একটি সাইকেল কিনেছিলাম। সাইকেলটি তালাবদ্ধ করে হলের গ্যারেজে রাখি। কিন্তু গত ২৯ মার্চ সকাল ১০টা ৮ মিনিটে আমার সাইকেলটি হলের গ্যারেজ থেকে চুরি হয়। আমি হল প্রভোস্ট বরাবর অভিযোগ দিলে সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, একজন মাস্ক ও ক্যাপ পরিহিত ব্যক্তি সাইকেলটি চুরি করে নিয়ে যায়। এখন আমি টিউশনেও যেতে পারছি না। এমন অবস্থায় আমি আমার পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়া নিয়েও হতাশায় ভুগছি।


নাম প্রকাশ না করা শর্তে একাধিক সিকিউরিটি গার্ড বলেন, সাইকেল রাখার জন্য হলে নির্দিষ্ট জায়গা আছে। আমরা আবাসিক শিক্ষার্থীদেরকে সেখানে সাইকেল রাখতে বলি এবং রাতে আমরা সেটি তালা মেরে রাখি। সেখানে চুরি হলে তার দায়ভার আমাদের উপরে আসবে। কিন্তু আমরা দেখি যে হলের যেখানে সেখানে সাইকেলে রাখা হয়। পরে যে কেউ এসে নিয়ে যায় বা হারিয়ে যায়। এই জায়গায় আবাসিক শিক্ষার্থীদের আরও সচেতন থাকতে হবে।


এ ব্যাপারে জানতে চাইলে বিজয়-২৪ হলের প্রভোস্ট আমির শরিফ বলেন, আমরা এগুলো নিয়ে অলরেডি কাজ শুরু করে দিয়েছি। অফিসকে বলে দিয়েছি, যারা গার্ড ছিল তাদের একটা স্টেটমেন্ট নিয়ে একটা রিপোর্ট করবে যেটা জমা হলে তার উপর ভিত্তি করে আমরা এটা নিয়ে কাজ শুরু করব।


নেটওয়ার্ক সুইচ চুরির ঘটনায় তদন্ত কমিটির আহ্বায়ক চার্লস ডারউইন বলেন, আমরা তিন ধরে মিটিং করছি। তদন্ত প্রায় শেষ পর্যায়ে রয়েছে।


বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ড. মো. ফেরদৌস রহমান বলেন, আমাদের ক্যাম্পাসে ২০ জন আনসার। তাই হলগুলোতে দেওয়া সম্ভব হয়নি। আমরা আনসারের চাহিদা দিয়েছি। হলগুলোতে প্রতি আট ঘণ্টা পরপর দুজন করে নিরাপত্তা প্রহরী থাকে। আমি প্রক্টর হ‌ওয়ার পর দেড় বছরে চারবার পিসি-এপিসি অর্থাৎ আনসার প্রধান, উপ প্রধানদের পরিবর্তন করেছি। তিন চারদিন থেকে দুই হলেই কাজ চলছে আমাদের। রিপোর্ট কাল পরশু জমা দিবে, দিলেই বোঝা যাবে কারা জড়িত।


বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. মো. শওকাত আলী বলন, এ ব্যাপারে কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না। আমরা হল প্রভোস্টের সঙ্গে কথা বলেছি এবং তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। যথাযথ আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


সম্পর্কিত খবর