জাতীয়
সাহস হারিয়ে আগ্রাসী ভূমিকায় একদল—অ্যাডভোকেট জুবায়ের

একটি রাজনৈতিক দল জনগণের সমর্থন হারিয়ে সন্ত্রাস, হামলা ও ষড়যন্ত্রমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়েছে বলে অভিযোগ করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামের সহকারী সাধারণ সম্পাদক ও প্রচার-মিডিয়া বিভাগের প্রধান অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের। তিনি বলেন, জনগণের রায়কে ভিন্নখাতে প্রবাহিত করতে পরিকল্পিতভাবে নির্বাচনী পরিবেশ নষ্টের অপচেষ্টা চলছে।
বুধবার দুপুরে রাজধানীর মগবাজারে জামায়াতের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি এসব কথা বলেন। আসন্ন জাতীয় নির্বাচন ও গণভোটকে সামনে রেখে দেশের বিভিন্ন স্থানে ঘটে যাওয়া ঘটনাবলি তুলে ধরতেই এ ব্রিফিংয়ের আয়োজন করা হয়।
অ্যাডভোকেট জুবায়ের বলেন, “আর কয়েক ঘণ্টা পর জাতীয় নির্বাচন ও গণভোট অনুষ্ঠিত হবে। দীর্ঘ সাড়ে ১৫ বছরের স্বৈরাচার ও ফ্যাসিবাদ দেশের রাজনীতি, নির্বাচন ব্যবস্থা ও জনগণের আশা-আকাঙ্ক্ষাকে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। নতুন বাংলাদেশে জনগণ উৎসবমুখর পরিবেশে ভোট দিতে চায়। আমরা সর্বত্র শান্তিপূর্ণ ও সুষ্ঠু পরিবেশ প্রত্যাশা করি।”
তিনি অভিযোগ করেন, বিভিন্ন স্থানে জামায়াতের প্রার্থী, নেতা, এজেন্ট ও কর্মীদের ওপর হামলা, নির্যাতন এবং দলীয় কার্যালয়ে ভাঙচুরের ঘটনা ঘটছে। ভোটারদের মাঝে আতঙ্ক সৃষ্টি করে ভোটকেন্দ্রে যাওয়া থেকে বিরত রাখাই এসব ঘটনার উদ্দেশ্য বলে তিনি দাবি করেন।
ঢাকা-১৫ আসনে জামায়াতের আমীর ডা. শফিকুর রহমানের নির্বাচনী এলাকায় হামলার অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, গত রাতেও দলীয় কার্যালয়ে হামলা হয়েছে। একই সঙ্গে বিকাশ নম্বর ও আইডি কার্ড চাওয়ার মিথ্যা তথ্যসংবলিত লিফলেট ছড়িয়ে বিভ্রান্তি সৃষ্টির অপচেষ্টা চলছে। এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশনে অভিযোগ দেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি।
পাবনা সদরেও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পরিচয়ে মাইকিং করে জামায়াতের সম্ভাব্য এজেন্টদের নাম উল্লেখ করে ধরিয়ে দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তারা বিষয়টি জানেন না বলে জানিয়েছেন বলে দাবি করেন জুবায়ের। তিনি বলেন, “এ ধরনের ন্যাক্কারজনক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে জনগণের মধ্যে ভীতি সৃষ্টি করা হচ্ছে।”
মৌলভীবাজার-১ আসনে প্রার্থীর ওপর হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা উল্লেখ করে তিনি বলেন, প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর নেতৃত্বে এ হামলা হয়েছে এবং এতে কয়েকজন গুরুতর আহত হয়েছেন। বরগুনা, কুমিল্লাসহ বিভিন্ন স্থানে এজেন্ট ও কর্মীদের হুমকি ও নির্যাতনের অভিযোগও তুলে ধরেন তিনি।
অ্যাডভোকেট জুবায়ের বলেন, “যারা বুঝতে পেরেছে জনগণ তাদের প্রত্যাখ্যান করবে, তারাই আগ্রাসী ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছে।” তিনি প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রতি নিরপেক্ষ ভূমিকা পালনের আহ্বান জানিয়ে বলেন, কোনো পক্ষপাতদুষ্ট আচরণ জনগণ মেনে নেবে না।
সৈয়দপুর বিমানবন্দরে জামায়াতের এক দায়িত্বশীল ব্যক্তিকে আটকের বিষয়ে তিনি বলেন, বৈধ অনুমোদন নিয়ে অভ্যন্তরীণ রুটে নগদ অর্থ বহন করলেও ঘটনাটিকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে ভিন্নভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে। তিনি এ ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান।
তিনি অভিযোগ করেন, একটি চক্র পরিকল্পিতভাবে সাজানো ঘটনার মাধ্যমে জামায়াতে ইসলামী ও ১১ দলীয় নির্বাচনী ঐক্যের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করার চেষ্টা করছে। “আমরা সংঘাত নয়, সুস্থ ধারার রাজনীতি চাই। নতুন বাংলাদেশ গড়তে চাই,”—বলেন তিনি।
আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি দেশবাসীকে শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান অ্যাডভোকেট জুবায়ের।
প্রেস ব্রিফিংয়ে উপস্থিত ছিলেন জামায়াতে ইসলামের সহকারী সাধারণ সম্পাদক ও জাতীয় নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সদস্যসচিব মাওলানা আবদুল হালিম, নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সদস্য জাহিদুর রহমান, ব্যারিস্টার সাইফ উদ্দিন খালেদ, ড. মোশাররফ হোসেন ও সিনিয়র সাংবাদিক ওলিউল্লাহ নোমান।








