ক্যাম্পাস

রুয়েটে ছাত্র রাজনীতি ইস্যুতে উত্তেজনা, শিক্ষার্থীদের মুখোমুখি অবস্থান

রুয়েট প্রতিনিধি

শেয়ারঃ

রুয়েটে ছাত্র রাজনীতি ইস্যুতে উত্তেজনা, শিক্ষার্থীদের মুখোমুখি অবস্থান- খবরের থাম্বনেইল ফটো

রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (রুয়েট) ক্যাম্পাসে দেয়াল লিখনকে ঘিরে সৃষ্ট উত্তেজনা ক্রমেই তীব্র আকার ধারণ করেছে। ছাত্র রাজনীতির বিরোধিতাকে কেন্দ্র করে চলমান বিক্ষোভের মধ্যে জিয়া হলের সামনে ছাত্রদল-সমর্থিত শিক্ষার্থী ও সাধারণ শিক্ষার্থীদের মধ্যে মুখোমুখি অবস্থানের ঘটনা ঘটেছে।


বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ২০২৪ সালের ১০ আগস্ট থেকে রুয়েটে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের সকল ধরনের রাজনৈতিক কার্যক্রম নিষিদ্ধ করা হয়। তবে এর পরও বিভিন্ন সময়ে গোপন ও প্রকাশ্য রাজনৈতিক সম্পৃক্ততার অভিযোগ ওঠে।


ঘটনার সূত্রপাত ২৩ এপ্রিল ২০২৬ তারিখে চট্টগ্রাম সিটি কলেজে সংঘর্ষের ঘটনার পর। এর প্রতিক্রিয়ায় রুয়েট ক্যাম্পাসে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের নাম উল্লেখ করে গুপ্ত রাজনীতির বিরুদ্ধে দেয়াল লিখন করা হয়, যা শিক্ষার্থীদের মধ্যে ভিন্নমত সৃষ্টি করে।


পরদিন ২৬ এপ্রিল বিকেলে সাধারণ শিক্ষার্থীদের একটি অংশ গোপন রাজনীতির পাশাপাশি প্রকাশ্য রাজনীতির বিরুদ্ধেও দেয়াল লিখন করে এবং কেন্দ্রীয় লাইব্রেরির সামনে একটি ব্যানার স্থাপন করে। পরে অভিযোগ ওঠে, ছাত্রদল-ঘনিষ্ঠ কিছু শিক্ষার্থী ওই ব্যানারটি নামিয়ে পুড়িয়ে দেয়। একই সঙ্গে “রুয়েট জাতীয়তাবাদী স্পন্দন” নামের একটি ফেসবুক পেজে ঘটনাটি ছড়িয়ে পড়লে শিক্ষার্থীদের মধ্যে ক্ষোভ আরও বাড়ে।


প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে অসন্তোষ জানিয়ে শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করেন, রাজনীতি নিষিদ্ধ থাকা সত্ত্বেও কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে না। এর প্রতিবাদে ২৭ এপ্রিল রাত ১২টা ৩০ মিনিটে সাধারণ শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ মিছিলের আয়োজন করে।


প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, গভীর রাতে শুরু হওয়া মিছিলটি ক্যাম্পাসের বিভিন্ন সড়ক ও আবাসিক এলাকা ঘুরে জিয়া হলের সামনে পৌঁছালে উত্তেজনা বৃদ্ধি পায়। সেখানে অবস্থান নেওয়া প্রায় ৩০-৩৫ জন ছাত্রদলপন্থী শিক্ষার্থী তাদের পক্ষে স্লোগান দিতে শুরু করেন।


অন্যদিকে, মিছিলে অংশ নেওয়া সাধারণ শিক্ষার্থীরা ছাত্র রাজনীতির বিরুদ্ধে এবং ছাত্রদলের সমালোচনায় স্লোগান দিতে থাকেন। এতে উভয় পক্ষের মধ্যে কিছু সময়ের জন্য উত্তপ্ত পরিস্থিতি তৈরি হয়।


পরিস্থিতি সামাল দিতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন। শেষ খবর অনুযায়ী, ছাত্রকল্যাণ দপ্তরের উপপরিচালক মঞ্জুর মোর্শেদ ও সহকারী পরিচালক আবু ইসমাইল সিদ্দিকী পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছিলেন।


এ ঘটনার পর থেকে পুরো ক্যাম্পাসে উদ্বেগ ও উত্তেজনা বিরাজ করছে।


সম্পর্কিত খবর